টানা ১২ দিন ধরে নানা তর্ক-বিতর্ক, কথার মারপ্যাঁচ ও রাজনৈতিক কৌশলের পরও শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়েই শেষ হলো মরক্কোর মারাকাশ জলবায়ু সম্মেলন।






 প্যারিস চুক্তির আলোকে বৈশ্বিক জলবায়ু কার্যক্রমকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে গত শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হয় জলবায়ু সম্মেলন কপ-২২। মারাকাশ ঘোষণায় সবুজ জলবায়ু সম্মেলনে বিলিয়ন ও মিলিয়ন ডলারের বহুমুখী প্যাকেজ এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পানি ও খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণের কথাও ঠাঁই পেয়েছে নতুন ঘোষণায়। সেই সঙ্গে সরকারগুলো ২০১৮ সালের মধ্যে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের রুলবুক প্রণয়নের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। মারাকাশ ঘোষণায় ঠাঁই পেয়েছে বাংলাদেশের প্রস্তাবও।


মারাকাশ ঘোষণা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলছেন, দুই সপ্তাহ ধরে আলোচনার পর অর্থায়ন নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়নি উন্নত দেশগুলো। সবুজ জলবায়ু তহবিলে ২০২০ সাল থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গীকার থাকলেও ২০১৫-২০১৯ সাল পর্যন্ত কোন দেশ কী পরিমাণ অর্থ দেবে, তা সুনির্দিষ্ট করেনি শিল্পোন্নত দেশগুলো। জলবায়ু অর্থায়নে বেসরকারি  খাতের অংশগ্রহণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলছেন, বহুজাতিক অর্থলগি্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এবারও প্রাধান্য পেয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি পূরণের বদলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ঋণের বোঝাই কেবল ভারী হবে। ক্লাইমেট জাস্টিস গ্রুপ বলেছে, জলবায়ু অর্থায়নে বেসরকারি খাতের অর্থায়ন সরকারি অর্থায়নের বিকল্প হতে পারে না। মারাকাশে উন্নত দেশগুলো তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে গেছে।


সম্মেলনে এবার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ সাত হাজার কোটি ডলার দাবি করে। জি-৭৭ চায়না বাংলাদেশের দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়। দ্বীপরাষ্ট্র ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোও সমর্থন জানায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতি সম্মেলনের আলোচনায় গতি আনে। সম্মেলনে বাংলাদেশের সাফল্য হলো পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে শেখ হাসিনার জোরালো দাবি ঠাঁই পেয়েছে মারাকাশ ঘোষণায়।


এই প্রথম জলবায়ু সম্মেলনে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সরকার মিলে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে। মারাকাশ ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করার ব্যাপারে বিশ্বের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, বিনিয়োগকারী এবং নগর ও স্থানীয় সরকারগুলো একযোগে কাজ করার নতুন অঙ্গীকার করেছে। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ১৯৭টি দেশের সাব-ন্যাশনাল সরকারি ক্লাব 'আন্ডার টু কোয়ালিশন' প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ২০২০ সাল নাগাদ তাদের কার্বন নির্গমন ৮০ শতাংশ হ্রাস করবে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার এই ১৯৭টি দেশের জনসংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি। এ ছাড়া জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টিরও বেশি দেশের সংগঠন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম ঘোষণা দিয়েছে, তারা বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রাখার ক্ষেত্রে তাদের আহ্বান আরও জোরালো করবে।


মারাকাশ ভিশন নামে উন্নয়নশীল দেশগুলোর আরও একটি সংগঠন অঙ্গীকার করেছে, তারা ২০২০ ও ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমাতে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য অর্জন করবে। এ ছাড়া কানাডা, জার্মানি, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, তাদের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু কৌশল ২০৫০ সালে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন হ্রাসে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অর্জন করবে। শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে দেখা যাবে স্বল্প কার্বন নির্গমনের এক নতুন পৃথিবী।


এবারের সম্মেলনে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের লস অ্যান্ড ড্যামেজ। এ ব্যাপারে মারাকাশ ঘোষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়-ক্ষতির ব্যাপারে ওয়ারশ ইন্টারন্যাশনাল মেকানিজম অনুযায়ী, ৫ বছরের একটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করা হবে। এ ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় জলবায়ু বাস্তুচ্যুত, অভিবাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্থানান্তর ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।


এ প্রসঙ্গে ইউএনএফসিসির নির্বাহী সেক্রেটারি প্যাট্রিসিয়া স্পোনিসা বলেছেন, মারাকাশ জলবায়ু সম্মেলন প্যারিস চুক্তি কার্যকরে লক্ষ্য অর্জন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নে নতুন যুগের সন্ধান পাবে এ বিশ্ব।


জলবায়ু অর্থায়নে মারাকাশ সম্মেলনে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না এলেও কিছু দেশ অ্যাডাপটেশন ফান্ড ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে অর্থ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। সম্মেলন চলাকালে অ্যাডাপটেশন ফান্ডে ৮১ মিলিয়ন ও ক্লাইমেট টেকনোলজি ফান্ডে ২৩ মিলিয়ন ডলারের ঘোষণা এসেছে।


আগামী জলবায়ু সম্মেলন জার্মানিতে: ২০১৭ সালের জলবায়ু সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি। তবে এত বড় সম্মেলন আয়োজনের অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় ফিজির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জার্মানির সহায়তায় দেশটির বন শহরে এ সম্মেলনের আয়োজন করবে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.