রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক ডিম ব্যবসায়ীর ৪৪ হাজার টাকা ছিনতাই করে ধরা পড়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। শুক্রবার ভোরে সার্ক ফোয়ারা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।




ঘটনাস্থলে হাতেনাতে আটক কনস্টেবল লতিফুজ্জামানকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। ছিনতাইয়ে তার সঙ্গে থাকা পুলিশের আরেক কনস্টেবল রাজেকুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও পরে রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উত্তর বিভাগে কর্মরত ওই দুই সদস্যকে এরইমধ্যে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও (ঢাকা মেট্রো ল-২৭-৪৭৪৩) জব্দ করা হয়।

ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবদুল বাছির মনা।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, 'ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।'

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ী আবদুল বাছির মনা  বলেন, তেজগাঁও রেলস্টেশন সড়কে শাহ আলী ট্রেডার্স নামে একটি ডিমের আড়তের মালিক তিনি ও তার ভাই আবদুল আলীম। ভোরে তিনি লালবাগ এলাকায় ডিমের চালান পৌঁছে দিয়ে রিকশাভ্যানে তেজগাঁও ফিরছিলেন। পথে সার্ক ফোয়ারা মোড়ে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দুই মোটরসাইকেল আরোহী তার ভ্যানের পথরোধ করেন। সামনে 'পুলিশ' লেখা মোটরসাইকেলটিতে পোশাক পরা দুজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। তবে তাদের পোশাকে কোনো নাম সাঁটা ছিল না।

বাছির আরও জানান, ভ্যান থামানোর পর তাদের একজন (লতিফুজ্জামান) জিজ্ঞেস করেন, 'ডিমের কতগুলো ট্রে রয়েছে?' তিনি ৪৪টি ট্রে থাকার কথা জানান। এরপর তাকে ভ্যান থেকে নামতে বলেন ওই পুলিশ সদস্য। নামার পর জানতে চান, 'তোর পকেটে কী?' এবার বাছির তার পকেট থেকে টাকা, চাবি ও মোবাইল ফোন বের করে দেখান। টাকা কেড়ে নিয়ে লতিফুজ্জামান বলেন, 'তুই গাঁজা বিক্রি করিস?' হতভম্ব হয়ে বাছির জানান, বিক্রি তো দূরের কথা, তার চা-সিগারেটের অভ্যাস পর্যন্ত নেই।

তিনি আরও জানান, এমন কথোপকথনের মধ্যেই হঠাৎ পুলিশ সদস্যরা মোটরসাইকেল চালু করেন। তারা এগিয়ে যেতে থাকলে দৌড়ে পিছু নিয়ে লতিফুজ্জামানকে জাপটে ধরেন তিনি। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লতিফুজ্জামান মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। তাকে আটকাতে গেলে রাজেকুল পালিয়ে যায়। হৈচৈ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। একটু পরই পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়। তারা ঘটনা শুনে লতিফুজ্জামানকে তাদের হেফাজতে নেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, শাহবাগ থানায় নেয়ার পর লতিফুজ্জামানকে প্রথমে পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাসের কক্ষে ও পরে থানা হাজতে রাখা হয়। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুরে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, 'ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক পুলিশ সদস্যের কাছে কোনো টাকা পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।'

পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে রাজেকুলকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবদুল বাছির জানান, লতিফুজ্জামানই তার কাছ থেকে ৪৪ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছেন। কিন্তু তাকে আটক করার পর আর টাকা পাননি তিনি। টাকা তার সঙ্গে ছিল, নাকি কৌশলে রাজেকুলের কাছে হস্তান্তর করেছেন তা তিনি বুঝতে পারেননি। তবে ধরা পড়ার পর লতিফুজ্জামান অনেকবার বলেছেন, তিনি পুরো টাকা ফিরিয়ে দেবেন। তাকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে, তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ সমকালকে বলেন, 'পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা নতুন নয়। প্রায়ই এমন ঘটনার শিকার হন ডিম ব্যবসায়ীরা। একসময় ডিমের চালান ছিনতাই করা হতো। তবে ইদানীং টাকা, মোবাইল ফোন ছিনতাই করা হচ্ছে।'

তিনি আরও জানান, পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিরাই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তারা ভেবেছিলেন, এটি হয়তো ছিনতাইকারীদের নতুন কৌশল। কিন্তু এবার দেখা গেল খোদ পুলিশ সদস্যই ছিনতাইকারী।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.