বৈশ্বিক জলবায়ু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।






যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্বন নির্গমনকারী দেশ। ওয়াশিংটন জলবায়ু তহবিলে আর কোনো অর্থ দেবে না- এমন কথাও শোনা যাচ্ছে। আইনি বাধ্যবাধকতা চুক্তি থেকেও দেশটি এক বছরের মধ্যে বেরিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্যারিস চুক্তিও অনেকটা নড়বড়ে অবস্থায় পড়েছে। মরক্কোর মারাকাশে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের এমন হঠকারী আচরণে পুরো সম্মেলনে হতাশার কালো মেঘ জেঁকে বসেছে। সমঝোতার দাবিতে গতকাল রোববার মারাকাশে এনজিও প্রতিনিধিরা ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন। এদিকে, আজ সোমবার মারাকাশ আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল মঙ্গলবার তিনি সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন।


যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়েই মরক্কো জলবায়ু সম্মেলনের সব আলোচনা যেন থমকে আছে। তিনি জলবায়ু তহবিলে আর অর্থ দেবেন না- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অস্বস্তি দেখা দিয়েছে সম্মেলনের আলোচকদের মধ্যে। জিসিএফ তহবিলে যুক্তরাষ্ট্র ২০২০ সালের মধ্যে তিন বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত তারা দিয়েছে মাত্র ৫০ মিলিয়ন ডলার। অনেকেই বলছেন, বারাক ওবামার স্বাক্ষর করা প্যারিস চুক্তি থেকে ট্রাম্প বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মরক্কো জলবায়ু সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতাকারীদের ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন আভাস দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিরাও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। তাদের এমন নিস্পৃহ অবস্থানে প্যারিস চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্তকরণে বিলম্ব হচ্ছে। এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বাইরে কোনো সমঝোতায় যেতে চাচ্ছে না সম্মেলনের সভাপতি মরক্কো।


সম্মেলনে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট অ্যানেক্স-১, উদীয়মান অর্থনীতির জোট বেসিক, স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোর জোট এলডিসি, ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জোট এওসিস ও আফ্রিকান ইউনিয়ন প্যারিস চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্তের বিষয়ে একমত হলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিন ফান্ড গঠনের আগের চার বছর ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছে। এ নিয়ে মুখ খুলছে না উন্নত বিশ্ব। গ্রিন ফান্ডে অর্থায়ন নিয়ে মতৈক্যে পেঁৗছলেও তারা মধ্য মেয়াদে তহবিলে অর্থের পরিমাণ ও কোন কোন দেশ কী পরিমাণ অর্থ দেবে তা চূড়ান্ত করতে চাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেসরকারি খাত থেকে গ্রিন ফান্ডে অর্থায়নের কথা বলেছে। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছেই। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো বলছে, উদীয়মান অর্থনীতির দেশ চীন, ভারত, কাতার, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি এখন শিল্পোন্নত অনেক দেশের তুলনায় বড়। ফলে এসব দেশ এখন আর উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় থাকতে পারে না। তাদেরও জলবায়ু তহবিলে অর্থায়ন ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে হবে। এ বিষয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের দাবি উঠেছে।


প্যারিস চুক্তিতে চলতি শতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং এই গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আনার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখার কথাও বলা হয়েছে। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার কথা বলা হলেও শিল্পোন্নত দেশগুলো এখন কোন বছরকে 'পিকিং ইয়ার' ধরা হবে তা সুনির্দিষ্ট করতে চাচ্ছে না। এ নিয়ে বিরোধ চলছে। লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিলে আলাদাভাবে অর্থ দিতে উন্নত বিশ্ব থেকে আপত্তি তোলা হয়েছে।


গতকালের আলোচনায় জলবায়ু উদ্বাস্তু, সমুদ্র ব্যবস্থাপনা, পানি ও কৃষি বিষয় গুরুত্ব পায়। এসব বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। খসড়া এসব বিষয় মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনার জন্য টেবিলে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সম্মেলন কেন্দ্রের কাসাব্লাংকা মিটিং রুমে কেনিয়ার পরিবেশবিদ ড. সুশাসিস বলেন, বিশ্বে ৩০ গিগাটন কার্বন বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে আছে। শিল্প বিপ্লবের পর থেকে ইতিমধ্যে গড় তাপমাত্রা বেড়েছে দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে কার্বনের পরিমাণ হবে ৬৮ গিগাটন। শিল্পোন্নত দেশগুলো কার্বন নিঃসরণের জন্য নিজেদের কাছে দায়বদ্ধ ছিল। অথচ প্যারিস চুক্তির ৫০ ও ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদের মাধ্যমে তারা দায়মুক্তি নিয়েছে। তাই এখনই 'পিকিং ইয়ার' ঠিক করে কার্বন কমানো শুরু না করলে পৃথিবীর জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.