বার বার দরজা নক করেও ছোট ছেলে দীপ্ত বণিক মায়ের সাড়া না পেয়ে ছাদ বেয়ে বাসার পেছনের বারান্দা দিয়ে ভেতরে ঢোকেন।




 এরপর দীপ্ত বাসার ভেতর যা দেখতে পান, তার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। কোনো সন্তানই সে দৃশ্যের জন্য প্রস্তুত থাকেন না। শোবার ঘরের খাটে মা ডলি রানী বণিকের (৪৬) গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ। দুর্বৃত্তরা গলার ওপর থেকে বঁটিটাও সরায়নি। বালিশ-তোশকেও ছোপছোপ রক্ত। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগের উজ্জীবন গলির একটি বাড়ির পাঁচতলার ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ডলি রানী বণিক একাই ছিলেন।


পুলিশ বলছে, ওই নারীকে বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে যে কোনো সময়ে দুর্বৃত্তরা বঁটি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করেছে। প্রাথমিকভাবে বাসা থেকে কিছু খোয়া গেছে_ এমন প্রমাণ পায়নি পুলিশ। তবে কী কারণে বাসায় ঢুকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবশ্য নিহতের ছোট ছেলে বলছেন, তার মাকে কয়েকদিন ধরে কেউ অনুসরণ করত। এতে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। ডলি বণিকের স্বামী

মালয়েশিয়ায় থাকেন। দুই বছর আগে বিয়ের পর মেয়ে ঝুমা বণিক স্বামীর সঙ্গে ভারতে চলে গেছেন। দুই ছেলে জুয়েল বণিক আর দীপ্ত বণিককে নিয়ে ডলি বণিক ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে।

গতকাল রাতে দুই কক্ষের ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, প্রথম কক্ষে ঢুকতেই একটি খাট। এর ওপরই পড়ে আছে ডলি বণিকের রক্তাক্ত মরদেহ। দেয়াল আর মেঝেতেও লেগেছে রক্তের দাগ। খাটের পাশেই ছেলের ক্রিকেট খেলার ব্যাট ও হেলমেট। পাশের কক্ষে পূজার বিভিন্ন আয়োজন। তা কিছুটা এলোমেলো।

ডলির বড় ছেলে জুয়েল বণিক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। ছোট ছেলে দীপ্ত এবার নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির তালিকায় রয়েছেন।

দীপ্ত বণিক মায়ের একটি শাড়ি জড়িয়ে বিলাপ করে বলছিলেন, দুপুর ১২টার দিকে তিনি কলাবাগান ক্লাবে ক্রিকেট প্র্যাকটিস করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসায় ফেরেন। দরজা নক করলেও ভেতর থেকে তার মা তা খুলছিলেন না। বারবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেননি। আধা ঘণ্টা এভাবে কাটিয়ে বড় ভাইকে ফোন দেন। এর পরই তিনি বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ছাদের চাবি নিয়ে ছাদ বেয়ে বেলকনি দিয়ে বাসায় ঢুকে রক্তাক্ত মাকে পড়ে থাকতে দেখেন। ওই সময় মূল দরজাটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল।

কারা কী কারণে তার মাকে হত্যা করতে পারে, সে বিষয়ে দীপ্ত জানান, তিন-চার দিন ধরে তার মা বলছিলেন, তাকে কেউ অনুসরণ করে বলে তার কাছে মনে হচ্ছে। এজন্য তিনি খুব বাইরে যেতেন না। মোবাইল ফোনে কোনো মেসেজ এলেও আঁতকে উঠতেন। তারা দুই ভাই বাসায় না থাকলে মা ভালোভাবে দরজা আটকে ভেতরে থাকতেন।

পারিবারিক বা গ্রামে জমি নিয়ে কোনো ঝামেলা আছে কি-না জানতে চাইলে বড় ছেলে জুয়েল বণিক বলেন, তাদের কোনো শত্রু নেই। গ্রামেও তারা যান না। কেন তার মাকে হত্যা করা হলো কিছুই বুঝতে পারছেন না।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান সমকালকে বলেন, দুই ছেলের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের ছেলের বক্তব্যে মনে হয়েছে, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। তাহলে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকল কীভাবে এবং বের হলো কীভাবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসা থেকে কিছু খোয়া যায়নি বলেও তারা জানিয়েছেন।

অবশ্য রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বাসায় লুটপাট চালাতে গিয়ে বাধা পেয়ে কেউ হয়তো ওই নারীকে হত্যা করেছে। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হলে দুর্বৃত্তরা তাকে বঁটি দিয়ে হত্যা করত না। সব বিষয় মাথায় নিয়ে ঘটনার তদন্ত চলছে।

বাড়ির মালিক আনোয়ারা বেগম জানান, দুই বছর ধরে ডলি বণিক দুই ছেলেকে নিয়ে নয় হাজার টাকায় ভাড়া থাকতেন। পুরো পরিবারই শান্ত ও ভদ্র। কখনও কোনো ঝামেলার কথা শোনেননি।

বাড়ির অন্য কয়েক ভাড়াটে জানান, বাড়িটিতে কোনো নিরাপত্তাকর্মী নেই। দিনভর মূল গেট খোলা থাকলেও রাত ১১টার দিকে বাড়ির মালিক তা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে দেন। প্রয়োজন হলে ভাড়াটেদের কাছে থাকা চাবি দিয়ে গেট খোলা হয়।


Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.