স্বপ্নের মৃত্যু নেই। বিপ্লবীদের মৃত্যু নেই। কারণ, বিপ্লবীরা স্বপ্নদ্রষ্টা। স্বদেশবাসী ও বিশ্বমানবের উজ্জ্বল জীবনের স্বপ্ন বাস্তব করে তুলতে তারা জীবন উৎসর্গ করেন।





 কিউবার ফিদেল আলেসান্দ্রো কাস্ত্রো রুজ এমন এক বিপ্লবী, যিনি বিংশ শতাব্দীর আর সকল বিপ্লবীকে ছাড়িয়ে গেছেন নিজ জীবন ও শাসনকালের দৈর্ঘ্যে এবং অবিশ্বাস্য প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে তার অর্জিত বিপ্লবের স্থায়িত্বে। এই মহাবিপ্লবীর জীবনাবসান ঘটেছে গত শুক্রবার হাভানা সময় সকাল ১০টা ২৯ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৯টা ২৯ মিনিট)। কিউবার প্রেসিডেন্ট, ফিদেলের ভাই রাউল কাস্ত্রো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই ঘোষণা দেন।



৯০ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ৬৫ বছরের বেশি সময় নানাভাবে রাজনীতিতে সক্রিয়, কিউবান বিপ্লবের নায়ক ও প্রায় অর্ধশতাব্দী কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি ও দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জাতিকে নেতৃত্বদানকারী ফিদেল কাস্ত্রো। তার বিখ্যাত দাড়ি, মুখের চুরুট, আর কালচে-সবুজ সামরিক পোশাকের জন্য সারা দুনিয়ায় তিনি ছিলেন সবার পরিচিত মুখ। অনেক অর্থেই ফিদেল কাস্ত্রো বিশ্ব-ইতিহাসের একটা সময়ের এক প্রতীকী চরিত্র। বিপ্লবী আন্দোলন, স্নায়ুযুদ্ধ, পূর্ব-পশ্চিম দ্বন্দ্ব, পুঁজিবাদ আর সাম্রাজ্যবাদের সংঘাত- এসব মিলে গড়ে ওঠা সেই উত্থান-পতনের কালপর্ব ফিদেল কাস্ত্রোর জীবনের গল্প।


তার মৃত্যুতে কিউবাবাসী, লাতিন আমেরিকার জনগণ ও সারাবিশ্বে সমাজতন্ত্রের অনুসারী মানুষ শোকার্ত হয়েছেন। বন্ধুভাবাপন্ন ও কিউবান বিপ্লবের প্রবল সমালোচক পশ্চিমা বিশ্বের নেতারাও কাস্ত্রোর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতো, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়া ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও কাস্ত্রোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ।


বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার জনগণের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। একক ব্যক্তি হিসেবে জনগণ ও বিশ্বের ওপর কাস্ত্রোর যে বিশাল প্রভাব ইতিহাস তা মনে রাখবে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতো তার টুইটে লিখেছেন, 'কিউবার বিপ্লবের নেতা এবং বিংশ শতাব্দীর প্রতীক ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে আমি শোকাহত।' তবে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে কাস্ত্রোকে 'নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক' বলে উল্লেখ করেন।


শুক্রবার কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কাস্ত্রোর মৃত্যু সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। বিশ্বনেতারা কিংবদন্তিতুল্য এ নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে একের পর এক টুইট করতে থাকেন। কাস্ত্রোকে তারা বিশ্বের মহান নেতাদের একজন হিসেবে অভিহিত করেন।


হাভানায় সরকারিভাবে ৯ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর রোববার সান্তিয়াগো দ্য কিউবা শহরের সান্তা ইফিগেনিয়া সমাধিস্থলে কাস্ত্রোর দেহভস্ম সমাহিত করা হবে। কিউবান বিপ্লবের অপর নায়ক হোসে মার্তিসহ অনেক স্বাধীনতা সংগ্রামী যোদ্ধা এখানে সমাধিস্থ আছেন।


বিপ্লবীদের মধ্যেও ব্যতিক্রম: ফিদেল কাস্ত্রোকে বিংশ শতাব্দীর বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করা হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে বিকশিত জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিক অ্যাঙ্গেলসের দর্শনের ভিত্তিতে বিগত শতকে শোষণহীন বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের এক অভূতপূর্ব বৈশ্বিক বিপ্লবী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবে যার সূচনা সেই বিপ্লবের ঢেউ অনেক দেশ হয়ে ১৯৫৯ সালে সুদূর দক্ষিণ আমেরিকায় ক্যারিবীয় সাগরের জলরাশিকে উত্তাল করে তোলে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি বিপ্লবী চে গুয়েভারা এবং কিউবার ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবী আন্দোলন। কাস্ত্রো শুরুতেই কমিউনিস্ট ছিলেন না। নবীন বয়সে তিনি নিজ দেশের আগে দমিনিকান রিপাবলিক ও কলম্বিয়ার বিদ্রোহীদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিলেন দক্ষিণপন্থি সরকার উৎখাতের ব্যর্থ যুদ্ধে। কিউবায় স্বৈরশাসক উৎখাতের লড়াইয়ে ১৯৫৩ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে গেরিলাদের নিয়ে মনকাদা প্যালেস আক্রমণ করে ব্যর্থ হন। সেটাই ছিল বিপ্লবের ড্রেস রিহার্সাল। এক বছর জেল খেটে বেরিয়ে পালিয়ে মেক্সিকো গিয়ে নিজের ভাই রাউল কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারার সঙ্গে মিলে মনকাদার তারিখটি স্মরণে '২৬ জুলাই আন্দোলন' গঠন করেন। ১৯৫৯ সালে ৩৩ বছর বয়সী ফিদেলের নেতৃত্বে গেরিলা যোদ্ধারা পশ্চিমের তাঁবেদার স্বৈরাচারী ফুলগেনসিও বাতিস্তাকে উৎখাত করে কিউবান বিপ্লব সফল করেন।


দেশটিতে কমিউনিস্ট পার্টি ১৯২০-এর দশকেই সংগঠিত করা শুরু হয়েছিল; কিন্তু কিউবার বিপ্লব তাদের নেতৃত্বে হয়নি। কমিউনিস্ট পার্টিসহ একাধিক বিপ্লবী দল ও গ্রুপকে একত্র করে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয় মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদ গ্রহণকারী কাস্ত্রোরই নেতৃত্বে ১৯৬৫ সালে। বাতিস্তা উৎখাতের বিপ্লবের পর কাস্ত্রো ১৯৬০ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী এবং ১৯৭৬ থেকে ২০০৮ সালে স্বাস্থ্য দুর্বল হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে হয়ে উঠেছেন নতুন কিউবার নির্মাতা।


কিউবার বিপ্লব সফল হওয়ার পর চে গুয়েভারা বিভিন্ন দেশে বিপ্লব সংগঠিত করতে বেরিয়ে পড়েছিলেন। তাতে কাস্ত্রোর সায় ছিল। তারা দু'জনেই বিশ্ববিপ্লবের প্রতীক হয়ে ওঠেন। কাস্ত্রো ছিলেন এশিয়া-আফ্রিকা-লাতিন আমেরিকায় স্বাধীনতা, জাতীয় মুক্তি আন্দোলন ও সমাজতন্ত্রের সংগ্রামে অনির্বাণ অগি্নশিখার মতো প্রজ্বলিত, নিপীড়িত-বঞ্চিত মানুষের প্রেরণাসঞ্চারী এক বিপ্লবী নায়কের প্রতিচ্ছবি।


বিশেষত দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী শিবির ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের মধ্যে কয়েক দশকব্যাপী ঠাণ্ডা লড়াইয়ের পরিণতিতে ১৯৯০-এর দশকে সমাজতান্ত্রিক শিবির ভেঙে পড়লে বিশ্ব ইতিহাসে এক পটপরিবর্তন ঘটে। ইউরোপে সমাজতন্ত্র নাই হয়ে যায়। চীন ও ভিয়েতনামে কমিউনিস্ট শাসন টিকে থাকলেও সীমিতভাবে বাজার অর্থনীতি গ্রহণ করে। একমাত্র কিউবা অবিচলভাবে মার্ক্সবাদী আদর্শ ঊধর্ে্ব তুলে ধরেই টিকে আছে। এদিক থেকে ফিদেল কাস্ত্রো ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী স্থান অধিকার করে থাকবেন।


তবে, ফিদেল কাস্ত্রোর পারিবারিক জীবনে ছিল অনেক টানাপড়েন। বাইরের জীবনের মতো ঘরেও কেটেছে বেদনাবিধুর। দীর্ঘ জীবনে কাস্ত্রো অনেক নারীর সানি্নধ্যে এসেছেন। তার প্রথম স্ত্রীর নাম মিরতা দিয়াজ বালার্ত। এর পর তিনি বিয়ে করেন হাভানার নাতালিয়া রেভুয়েলতাকে। ব্যক্তিগত জীবনে পাঁচজন নারীর সংস্পর্শে এসেছিলেন ফিদেল। তাদের ঘরে নয় সন্তানের জন্ম হয়। তার বড় ছেলে ফিদেল কাস্ত্রো দিয়াজ-বালার্ত সোভিয়েত প্রশিক্ষিত পরমাণুবিজ্ঞানী।


ছোট দেশ, বড় প্রভাব: ফিদেল কাস্ত্রো আমৃত্যু এক উজান-সাঁতারু। পুঁজিবাদী বিশ্বের নায়ক মহাশক্তিধর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৯০ মাইল দূরত্বে ছোট্ট দ্বীপদেশ কিউবা বিশ্বের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে নিজের ভৌগোলিক আয়তনের চেয়ে আনুপাতিক বহুগুণ বেশি। যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর দ্বারা কাস্ত্রোকে একাধিকবার হত্যা, সরকার উৎখাত, প্রতিবিপ্লবীদের মদদদান এবং টানা ৬০ বছর অর্থনৈতিক অবরোধ চালিয়েও সফল হয়নি। ৯০ বছরের দীর্ঘ জীবনে কাস্ত্রোকে ৬৩৮ বার হত্যার চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর গুপ্তচররা। তার শাসনামলের শুরুতে- ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৩ সালের মধ্যে হত্যার ষড়যন্ত্র বেশির ভাগই করা হয়। সিআইএ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র বিভাগ বারবার তাকে হত্যার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তাকে কিউবার সিংহাসন থেকে নামাতে নেওয়া হয় 'অপারেশন মঙ্গুজ' পরিকল্পনা। ১৯৬১-তে বে অব পিগ্সে বোমাবর্ষণ ও পরের বছর কিউবায় রুশ পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি বসানো বনাম মার্কিন পারমাণবিক নৌ-অবরোধ বিশ্বকে প্রায় তৃতীয় মহাযুদ্ধের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে পরাশক্তির পারমাণবিক ভারসাম্যে যুদ্ধও হয়নি, কিউবার বিপ্লবও রক্ষা পায়। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হওয়ার পরও কিউবা আছে, কাস্ত্রো আছেন। প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ৪৯ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে ১০ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে বাস করেছেন।


কাস্ত্রো লাতিন আমেরিকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশন গঠন করে এবং জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনে তৃতীয় বিশ্বের মুক্তি আন্দোলনে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। ১৯৭৩ সালে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের আলজিয়ার্স সম্মেলনে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কাস্ত্রোর সাক্ষাৎ ও বৈঠক হয়েছিল। কাস্ত্রো ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সাম্রাজ্যবাদের চক্রান্ত সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন বলেও জানা যায়।


অনেক আগেই সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটলেও কাস্ত্রো কিউবাকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে রেখে গেলেন। সমাজতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ার অভিঘাতে কিউবায়ও পরিবর্তন চলছে। পশ্চিমা পণ্ডিতরা বলছেন, কাস্ত্রোর মতো অমিত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন এবং এখন থাকবেন না- এই দুই কারণেই কিউবা কিউবা ছিল এবং কিউবা পরিবর্তিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও পুঁজিবাদী বিশ্ব কাস্ত্রো-উত্তর পরিস্থিতিতে তাদের নীতি স্থির করা আগেই শুরু করেছে। কেমন পরিবর্তন হবে তা ভবিষ্যৎই বলবে।


প্রেসিডেন্ট পদে অবসর নিয়েও বর্ষীয়ান নেতা ফিদেল কাস্ত্রো রাষ্ট্রীয় পরামর্শ দিতেন ও লিখতেন। গত ১৯ এপ্রিল হাভানায় কমিউনিস্ট পার্টির সপ্তম কংগ্রেসে কমরেডদের উদ্দেশে প্রকাশ্য স্থানে তার শেষ ভাষণে ফিদেল বলেন, 'কিউবান কমিউনিস্টদের আদর্শ টিকে থাকবে এ জন্য যে, আপনারা যদি নিষ্ঠা ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করেন তবে মানবজাতির জন্য প্রয়োজনীয় বৈষয়িক ও সাংস্কৃতিক সম্পদ আপনারা দিতে পারবেন।'


সারাবিশ্বে যখন কমিউনিস্ট সরকারগুলো ধসে পড়ছিল, ঠিক তখন কমিউনিস্ট ব্যবস্থার বৃহত্তম শত্রু বলে পরিচিত আমেরিকার দোরগোড়াতেই সমাজতন্ত্রের ধ্বজা তুলে ধরেন কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। বিশ্বকে একই সঙ্গে অনুপ্রাণিত ও চমকিত করে তার বিপ্লব।


ভুলবে না আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা: কিউবা বিপ্লবের নায়ক ফিদেল কাস্ত্রোকে ছাড়া শুধু লাতিন আমেরিকা নয়, আফ্রিকা মহাদেশের ইতিহাসও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এ দুই মহাদেশে কাস্ত্রোর বিভিন্ন পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তিনি ছিলেন একজন জাত আন্তর্জাতিকতাবাদী নেতা। নিজের দেশের স্বার্থের বাইরেও সহযোগিতার হাত বাড়াতে কার্পণ্য করেননি কখনও। আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়ার স্বাধীনতা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের পেছনে কাস্ত্রোর অনেক অবদান রয়েছে। লাতিন আমেরিকার অনেক দেশের পেছনেও আছে তার বড় অবদান।


কিউবা বিপ্লবের পর কাস্ত্রোর গেরিলা কৌশলে উৎসাহিত হয়ে জেগে ওঠে ডোমিনিক রিপাবলিক, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হাইতি, পানামার বামপন্থি তরুণ ও রাজনৈতিক দলগুলো। আর এদের প্রতি সরাসরি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তখনকার সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিকারাগুয়ার বামপন্থি সান্দানিস্তা আন্দোলনকারীদের অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করেন।


কাস্ত্রোর স্বপ্ন একদিন বিশ্বজয় করবে- কিউবা: স্বপ্নপূরণের শুরুটা করেছিলেন ৮২ জন কমরেডকে নিয়ে। আজ পুরো পৃথিবীর বিকল্প আদর্শের নাম 'ফিদেল', লাতিন ভাষায় যার মানে হলো বিশ্বস্ত। আর ফিদেল কাস্ত্রোই হলেন সেই মহামানব, যিনি সারা পৃথিবীর নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক অনন্য বিশ্বস্ত ও প্রতিবাদী মুখ। শেষবার ১৯ এপ্রিল যখন কিউবান কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে এসেছিলেন, বলেছিলেন, 'খুব শিগগির আমি নব্বই হব। এটা নিয়তি। এর পর আমি আর পাঁচটা সাধারণের মতো অতীব সাধারণ হয়ে যাব। সবার সময় আসবে, সবার সঙ্গেই নিয়তি ঘটবে, তবে কিউবার কমিউনিজম অবশিষ্ট থেকে যাবে বারবার। আমার লাতিন বিশ্বের ভাইয়েরা এবং গোটা পৃথিবী, এটা জেনে রেখো, কিউবার মানুষ একদিন বিশ্বজয় করবে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.