ভোটের আগমুহূর্তে ই-মেইল ঝড়ে হিলারির ভরাতরী ভরাডুবি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।


 এমনকি ভোটার সমর্থনেও পিছিয়ে গিয়েছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের চেয়ে। তবে সব বাধাবিপত্তি ঠেলে ফের জনমত জরিপে এগিয়ে গেলেন হিলারি। রয়টার্স ও ইপসোসসহ বুধবার প্রকাশিত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা যায়, হিলারি ৬ পয়েন্টে এগিয়ে গেছেন। এ ছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার সিবিএস/নিউইয়র্ক টাইমসের এক জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি। এতে দেখা গেছে, হিলারি পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ ভোট এবং ট্রাম্পের ৪২ শতাংশ। শুধু জনমত জরিপেই নয়, দোদুল্যমান ভোটারবহুল রাজ্যগুলোতে আগাম ভোটেও এগিয়ে রয়েছেন তিনি। ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের জরিপেও তার অনেক বেশি এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে একটি সংস্থা। এদিকে পুরোদমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন হিলারি। ছুটছেন এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি সুইংস্টেটখ্যাত নেভাদা ও অ্যারিজোনায় প্রচার চালান। শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন ট্রাম্পও। 





সেদিন ভোটের মাত্র ১০ দিন বাকি। রাজ্যে রাজ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডামাডোল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই প্রধান জেমস কোমি হঠাৎই ঘোষণা দেন, নতুন করে পাওয়া হিলারি ক্লিনটনের কিছু ই-মেইল তদন্ত হচ্ছে। এ ঘোষণায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ভোটের হাওয়ায়। এতদিন রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে যেখানে ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটন ডাবল ডিজিটে এগিয়ে ছিলেন, সেখানে জাতীয়ভাবে করা বেশ কয়েকটি জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ট্রাম্পের সঙ্গে হিলারির এগিয়ে থাকার ব্যবধান কমে গেছে। মাত্র ১ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি। কোনো কোনো জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্প এগিয়ে গেছেন এক পয়েন্টে। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ফের মার্কিন ভোটার সমাজে নিজের অবস্থানে ফিরে এসেছেন দৃঢ়প্রত্যয়ী হিলারি। বুধবার রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের চেয়ে হিলারির এগিয়ে থাকার ব্যবধান বেড়ে ছয় পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। চলে গেছেন আগের সপ্তাহের জনসমর্থনের শক্ত অবস্থানে।

গত ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চালানো জরিপে দেখা যায়, নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৫ শতাংশ হিলারিকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে ট্রাম্পকে সমর্থন দেন ৩৯ শতাংশ। ১৭৭২ ভোটার এ জরিপে অংশ নেন।

উইসকনসিনে অবস্থিত মারকুয়েট ইউনিভার্সিটি ল' স্কুলের আরেক জরিপে দেখা যায়, সেখানেও ৬ পয়েন্টে এগিয়ে হিলারি। তাকে সমর্থন দিয়েছেন ৪৬ শতাংশ ভোটার। ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন ৪০ শতাংশ।

তবে জাতীয়ভাবে পরিচালিত কয়েকটি জরিপের ফল গড় করে জরিপ সংস্থা রিয়ালক্লিয়ারপলিটিক্স জানায়, সারাদেশে হিলারি ১.৭ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। হিলারির সমর্থন রয়েছে ৪৭ শতাংশ এবং ট্রাম্পের সমর্থন ৪৫.৩ শতাংশ।

সংস্থাটি আরও জানায়, ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের জরিপেও হিলারি এগিয়ে রয়েছেন। তাদের ধারণা, হিলারি ২২৬টি ইলেক্টোরাল ভোট পাবেন। জয়ের জন্য দরকার ২৭০ ভোট। অন্যদিকে ট্রাম্প মাত্র ১৮০ ভোট পেতে পারেন।

আগাম ভোট প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বেশির ভাগ রাজ্যে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি। সিএনএন ও ওআরসি জরিপে জানানো হয়, পেনসিলভানিয়ায় আগাম ভোটে হিলারি ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ট্রাম্প পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ।

এ ব্যাপারে পেনসিলভানিয়ার মনমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্যাট্রিক মারে বলেন, জরিপগুলো পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, হিলারি এখনও এগিয়ে রয়েছেন। তবে লড়াই কিছুটা হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে। এফবিআইর বোমশেল বিস্ফোরণের পরও অবস্থান ধরে রেখেছেন হিলারি।

শেষ মুহূর্তের প্রচারে হিলারি ও ট্রাম্প : বিভিন্ন জরিপে যখন জনসমর্থনের পারদ ওঠানামা করছে, তখন বিরামহীন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন হিলারি ও ট্রাম্প দু'জনই। হিলারি গতকাল অ্যারিজোনায় প্রচার চালান। প্রচারে গিয়ে তিনি মিশে যান সাধারণ জনতার মাঝে। এমনকি সেলুনে গিয়েও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন হিলারি। সমাবেশে তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া, মুসলমান ও মেক্সিকান-আমেরিকানদের হেয় করা, নারীদের অপমান করা_ এসবই ট্রাম্পের চরিত্র। বিষয়গুলোর গুরুত্ব উপলব্ধি করা তার আয়ত্তের বাইরে। ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিকে 'অবিশ্বাস্যরকম বিপজ্জনক' বলে অভিহিত করেন হিলারি। অ্যারিজোনার আগে তিনি নেভাদায় প্রচার চালান।

এদিকে ট্রাম্প গতকাল ফ্লোরিডায় প্রচার চালান। পেন্সাকোলায় খোলা আকাশের নিচে এক সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার পক্ষে হিলারি অযোগ্য। তিনি 'পুরোপুরি বিকৃতমস্তিষ্ক' হয়ে গেছেন। ট্রাম্প বলেন, ইতিমধ্যেই আমাদের এক রকম (জয়ের) অনুভূতি হচ্ছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.