শিশু চিকিৎসার পথিকৃৎ জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান আর নেই।




শনিবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে নিজের প্রতিষ্ঠিত রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। (ইন্নালিল্লাহ.... রাজিউন)।

দেশবরেণ্য এই চিকিৎসকের বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম আগেই মারা গেছেন। তিনি একমাত্র মেয়ে দৌলতুন্নেসাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সেন্ট্রাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবুল কাশেম  বলেন, কয়েক মাস ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। সিঙ্গাপুরেও তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার একটি অস্ত্রোপচার হয়। দেশে ফেরার পর আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আরও একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরের পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে এবং বিকেলে মারা যান। প্রয়াত এই চিকিৎসকের মরদেহ সেন্ট্রাল হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে।

জাতীয় অধ্যাপক এম আর খানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহি আত্মার মাগফিরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শুভানুধ্যায়ীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শনিবার রাতে কিছুক্ষণের জন্য এম আর খানের মরদেহ সেন্ট্রাল হাসপাতালের সপ্তম তলায় রাখা হয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ  বলেন, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সেন্ট্রাল হাসপাতালে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। সেখানে এক ঘণ্টা রাখার পর মিরপুর শিশু হাসপাতালে তার তৃতীয় এবং উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার সাতক্ষীরা শহরতলির রসুলপুর গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসাসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অধ্যাপক ডা. এম আর খান একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন। কর্মবহুল জীবনে ডা. এম আর খান চিকিৎসার পাশাপাশি জাতীয় বহু প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শিশু চিকিৎসার জন্য গড়ে তুলেছিলেন শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন। এ ছাড়া মিরপুরের ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড হসপিটাল, সাতক্ষীরা ও যশোরের শিশু হাসপাতাল, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল অন্যতম। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া প্রায় সব সম্পত্তিই দান করেছেন সাতক্ষীরার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।

১৯২৮ সালের ১ আগস্ট সাতক্ষীরার রসুলপুর গ্রামে এম আর খানের জন্ম। তার পুরো নাম মোহাম্মদ রফি খান। আবদুল বারী খান ও জায়েরা খানম দম্পতির চার ছেলের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। সাতক্ষীরা প্রাণনাথ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে ১৯৪৩ সালে ম্যাট্রিক এবং কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯৪৫ সালে আইএসসি পাস করেন। এরপর কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৫২ সালে এমবিবিএস পাস করে সাতক্ষীরায় ফিরে আসেন। ১৯৫৪ সালের ১ জানুয়ারি আনোয়ারা বেগমকে বিয়ে করেন। পরের বছর উচ্চশিক্ষার জন্য সস্ত্রীক লন্ডনে পাড়ি জমান। পড়াশোনা শেষে ১৯৫৭ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার কেন্ট এবং এডিনবরা গ্রুপ হাসপাতালে যথাক্রমে সহকারী রেজিস্ট্রার ও রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দেশে ফিরে ১৯৬৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে যোগ দেন। পরের বছর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (শিশুস্বাস্থ্য) পদে নিয়োগ পান। তবে ১৯৬৯ সালে আবার সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগে যোগ দিয়ে পরের বছর অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে তিনি ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ-আইপিজিএমআরের (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক ও ১৯৭৩ সালে যুগ্ম পরিচালকের দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৭৮ সালের নভেম্বরে ঢাকা শিশু হাসপাতালে অধ্যাপক ও পরিচালকের পদে যোগ দেন। এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পেছনেও তার ভূমিকা ছিল। ১৯৮৮ সালে অবসন নেন। শিশুরোগ চিকিৎসা ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে এম আর খানের ৩৭টি গবেষণাধর্মী রচনা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি শিশুরোগ চিকিৎসা-সংক্রান্ত সাতটি বই লিখেছেন, যা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।

শোক প্রকাশ: জাতীয় অধ্যাপক এম আর খানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক দল এবং সংগঠনের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.