রাজধানীর কদমতলীর ওয়াসা স্লুইসগেটে পরিচয়হীন যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধারের পর ঘুম উধাও হয়েছিল পুলিশের। এ হত্যার কোনো ক্লু ছিল না।







 চৌকস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের চারটি টিম হিমশিম খাচ্ছিল রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারে থাকা আঙুলের ছাপ, ডিএনএ প্রোফাইলিং, দেশের সব থানায় পাঠানো লাশের ছবি আর বার্তা- কোনো কিছুই নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে কাজে আসছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হত্যার নেপথ্যে থাকা ঘটনা বের করে আনতে পেরেছে পুলিশ। প্রেম-রোমাঞ্চ, বিশ্বাস-বিশ্বাসঘাতকতা, হতাশা-প্রতিশোধস্পৃহা সব কিছু মিলিয়ে এ ঘটনা হার মানায় সিনেমা-গল্পকেও। গতকাল রোববার কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী ফেসবুকে স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন, পুলিশের অনুসন্ধানে শেষ পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে, খুনিও ধরা পড়েছে।

গত ২৫ অক্টোবর ওয়াসা পুকুরের স্লুইসগেটে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ পেয়ে তদন্ত শুরু করে কদমতলী থানা পুলিশ। ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায় পুলিশ শনাক্ত করে লাশটি যাত্রাবাড়ী আড়তের মাছ ব্যবসায়ী সুমন মিয়ার। পরিচয় উদ্ধারের পর পুলিশের তদন্ত জোরদার হয়। সন্ধান মেলে এক নারীর। পুলিশ নিশ্চিত হয়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছে ওই নারীর স্বামী ওহাব মিয়া। কেন এই খুন, পুলিশের তদন্তে তাও উঠে আসে।

পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনার শুরু গত শবেবরাতের চার দিন পর থেকে। পাড়ার কম্পিউটারের দোকান থেকে নিজের মোবাইলে কিছু ভিডিও গান এনেছিল ওহাব। সেগুলো দেখতে গিয়ে তার ঘুম হারাম হয়ে যায়। নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না সে। এ কী করে সম্ভব, আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে তারই স্ত্রীকে!

গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে ওহাব জানিয়েছে তার হতাশা ও প্রতিশোধস্পৃহার কথা। মোবাইল ফোনে স্ত্রীর আপত্তিকর এ ভিডিও দেখার পর নিজের ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। তবে তার আগে পুরো ঘটনা জানান পরিচিত এক সন্ত্রাসীকে। সে তাকে পরামর্শ দেয় প্রতিশোধ নিতে। প্রতিশোধস্পৃহা জেগে ওঠে ওহাবের ভেতরেও। সুমনের সন্ধানে মাঠে নামে সে।

ওহাবের দেওয়া ভাষ্যমতে, কয়েকটি মামলায় ১২ বছর কারাগারে ছিল সে। সুমনের সঙ্গে সেখানেই পরিচয়। তবে কিছুদিন পরেই সুমন জামিনে মুক্ত হয়। ওহাব তার কাছে নিজের স্ত্রীর ফোন নম্বর দিয়ে হাজিরার দিন আদালতে যেতে বলেছিল। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে সুমন তার স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ায়। শুধু তাই নয়, গোপনে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও করে রাখে। বছরখানেক আগে ওহাব কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে। মহল্লার দোকান থেকে তার হাতে আসে সেই ভিডিও ক্লিপ।

পুলিশকে সুমনের স্ত্রী জানিয়েছে, ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে সুমন তাকে ব্ল্যাকমেইল করে। লজ্জায়-ক্ষোভে সে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেও অব্যাহতি পায়নি। নিরুপায় হয়ে স্বামীকে কারগারে রেখেই লেবাননে চলে যায় সে। ওহাব কারাগার থেকে বের হওয়ার পর দেশে ফেরে সে।

কদমতলী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, গত ২০ অক্টোবর যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তে সুমনের সন্ধান পায় ওহাব। এর পরের ঘটনা আরও নাটকীয়। ওহাব সুমনের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে। স্ত্রীকে দিয়ে যোগাযোগ করায় তার সঙ্গে। ওহাবের স্ত্রীর কথায় পুরনো অনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিতে সুমন খুনের আগের রাতে তার বাসায় আসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওহাবসহ পাঁচজন মিলে সুমনকে ধরে নিয়ে যায় ওয়াসা পুকুর পাড়ের নির্জন স্থানে।

কদমতলীর ওসি জানান, ওহাবের ভাষ্যমতে, ব্লেড দিয়ে সুমনের গোপনাঙ্গ কেটে ফেলার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু বাদ সাধে বাকিরা। সুমন বেঁচে থাকলে মামলায় পড়তে হবে, এমন ধারণায় তাকে হত্যা করার পর স্লুইস গেটের ভেতর লাশ ফেলে দেওয়া হয়।

কদমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরশাদুল হক জানান, ঘটনার পর ওহাব বরিশালে ও তার স্ত্রী মুন্সীগঞ্জে পালিয়ে ছিল। গ্রেফতারের পর আদালতে হত্যাকাণ্ডের সবকিছু জানিয়ে জবানবন্দি দিয়েছে তারা। ওই মামলার পলাতক অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.