আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশটি।





 নজিরবিহীন বহুমাত্রিক ঘটনা-অঘটন-অবিশ্বাস্য সব কেলেঙ্কারিতে উত্তপ্ত নির্বাচনী প্রচারে দীর্ঘদিন সরগরম ছিল গোটা দেশ। কে হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট- হিলারি ক্লিনটন না ডোনাল্ড ট্রাম্প? জরিপের পারদ বারবার ওঠনামা করলেও সর্বশেষ হিসাবে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্রেটদলীয় প্রার্থী সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন। তার কয়েক হাজার ই-মেইল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গত রোববার এফবিআই তাকে নির্দোষ ঘোষণা করায় হিলারি শিবিরে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। চরমভাবে ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প এফবিআইর পরিচালক কোমিকে 'বিশ্বাসঘাতক, চক্রান্তকারী' বলে গালমন্দ করেন। তিনি বলেন, ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে এই অপরাধের বিচার করবেন। তবে হিলারি নির্দোষ এ সুখবরের আনন্দের রেশ না কাটতেই আবারও জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিশ্বকাঁপানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস ৮ হাজার ই-মেইল ফাঁস করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এ-সবই হিলারির।

নানা কারণে এবারের নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। আমেরিকার ইতিহাসে এমন নির্বাচন নজিরবিহীন। প্রচারের নামে অশালীন ভাষা, ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি- সব মিলিয়ে কলুষিত হয়ে পড়েছিল নির্বাচনী প্রচারের পরিবেশ। গতকাল সোমবার প্রকাশিত সব জরিপেই এগিয়ে রয়েছেন হিলারি। তবে অনেক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যবধান অনেকটা কম। সিএনএন/ওআরসি সর্বশেষ জরিপ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে হিলারিই এগিয়ে। ৪৯ শতাংশ ভোটার হিলারিকে চান। ট্রাম্পকে চান ৪৪ শতাংশ। ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের জরিপেও হিলারি এগিয়ে। ৫৩৮ ইলেক্টোরাল ভোটে ২৬৮টিই হিলারির পক্ষে, ট্রাম্পের পক্ষে ২০৪টি।


দিন-রাত এক করে রাজ্য থেকে রাজ্য, উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শপিংমল, দাতা-দোকানি পর্যন্ত সবার দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছেন দুই প্রার্থী। গতকাল শেষ সময়ে তারা 'যুদ্ধক্ষেত্র' বলে খ্যাত দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। হিলারির পাশাপাশি মিশিগানে বারাক ওবামাও মাঠে নামেন শেষ সময়ে। প্রচারের শেষ সময়ে ট্রাম্পও পিছিয়ে নেই। তিনি পাগলের মতো ছুটেছেন এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে। জনমত জরিপে হিলারি এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এ ক্ষেত্রে দোদুল্যমান রাজ্য ফ্লোরিডা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পকে হারাতে পারলে হিলারির জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চূড়ান্ত ভোট শুরুর আগে এ পর্যন্ত চার কোটি ১০ লাখ নাগরিক আগাম ভোট দিয়েছেন। দেখা গেছে আগাম ভোটের বেশিরভাগই হিলারির ঝুলিতে পড়েছে।

আমাদের দেশের মতো আমেরিকায় ভোটের দিন কোনো ছুটি নেই। নেই ভোটারের লম্বা লাইন ও নির্বাচনী উৎসবের আমেজ। সবকিছুই স্বাভাবিক। আমেরিকানদের ভোট দিতে অনাগ্রহ দীর্ঘদিনের। এবার হয়তো কিছুটা বাড়বে। স্বপ্নের হোয়াইট হাউসের দৌড়ে এখন শুধু ক্ষণগণনার পালা। তারপরই ২৩ কোটির বেশি ভোটার বেছে নেবেন তাদের আগামীর কাণ্ডারি। তবে যিনি প্রেসিডেন্ট হোন, তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। হিলারি জয়ী হলে হবেন প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো ডেমোক্রেটিক দলও টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আরোহণের রেকর্ড গড়বে। ২০০৮ সালে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন ক্লিনটনপত্নী। আর ৭০ বছর বয়সী ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে তিনি হবেন দেশের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়ও এরই মধ্যে রেকর্ড গড়েছে। ২০১২ সালে ছিল ৬০০ কোটি ডলার; এবার তা ৬৬০ কোটি ডলারে চলে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শুরু হবে ভোট গ্রহণ (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা)। তবে চারটি টাইমজোনে বিভক্ত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ভোট গ্রহণ শেষ হবে স্থানীয় সময় (আইওয়া, নর্থ ডাকোটা) রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায়)। আগামী বৃহস্পতিবারই জানা যাবে, কে পরবেন জনতার বরমাল্য। ফল না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাসীর চোখ আটকে থাকবে টেলিভিশনের পর্দা, সংবাদপত্র ও অনলাইনে।

নির্বাচনী অশালীন প্রচারকে ঘিরে যতই বিতর্ক হোক, তাতে আগ্রহের এতটুকু কমতি ছিল না ভোটারদের। বাংলাদেশের সংবাদপত্রগুলোর প্রথম পাতা মার্কিন নির্বাচনের দখলে। কোনো কোনো পত্রিকা করেছে বিশেষ আয়োজন। টিভি-অনলাইনও পিছিয়ে নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের মোট ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও একটি ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট মিলিয়ে ইলেক্টোরালের সংখ্যা ৫৩৮। জনসংখ্যার অনুপাতে এই ইলেক্টোরালের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। প্রেসিডেন্ট হতে হলে প্রার্থীকে ইলেক্টোরাল ভোট পেতে হবে ২৭০টি। ভোটাররা ব্যালটে ভোট দেন তাদের পছন্দের ইলেক্টোরাল প্রতিনিধিকে। আর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। পপুলার ভোটে যিনি জয়ী, তিনিই পান হোয়াইট হাউসের চাবি। তবে পপুলার ভোটের ভিত্তিতে কোন প্রার্থী ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে জয়ের শেষ হাসি হাসবেন, তা জানা যাবে ৯ নভেম্বর (বাংলাদেশ সময় ১০ নভেম্বর)। ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচিত হবেন তাদের রানিংমেটও। ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছেন ভার্জিনিয়ার সিনেটর টিম কেইন, আর রিপাবলিকান থেকে ইন্ডিয়ানা রাজ্যের গভর্নর মাইক পেন্স।

নির্বাচনের আগে সব ছাপিয়ে সামনে এসেছে নানা কেলেঙ্কারি, বিতর্ক। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে দুর্বার গতিতে এগিয়ে গেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। প্রচারের শেষ মুহূর্তে হঠাৎ মার্কিন ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-প্রধান জেমস কোমি ই-মেইল তদন্তের ঘোষণা দিলে হিলারি শিবিরে ঝড় বয়ে যায়। হিলারির জনপ্রিয়তা যেন অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়ে। দু'দিনের ব্যবধানে প্রথমবারের মতো এক পয়েন্টে এগিয়ে যান ট্রাম্প। তবে সে ঝড় কাটিয়ে আগের মতো শক্ত অবস্থানে ফিরেছেন সাবেক এই ফার্স্ট লেডি। প্রথম বিতর্কের পর এ দুই প্রার্থী পরবর্তী দুই বিতর্কে করমর্দন পর্যন্ত করেননি। ট্রাম্পের আমেরিকার রাজনীতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে মনোভাব, মুসলিম ও অভিবাসীদের নিয়ে তার রূঢ় মন্তব্যে সবাই স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। বিতর্কে তার অশালীন বাক্যবাণ আহত করে ভোটার ও সাধারণ মানুষকে। হিলারির বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে হঠাৎ অভিযোগ তোলেন ভোট কারচুপির। ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকে তার পায়ের মাটি। বেরিয়ে আসে একের পর এক নারী কেলেঙ্কারি ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা। ট্রাম্পের পাশ থেকে সরে যান অনেক রিপাবলিকান সিনেটর, দলের নেতা। হিলারিকেই ভোট দেবেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন তারা। এরপরও ভোট কারচুপির শঙ্কা ভোটারদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা থেকে সরে আসেননি ট্রাম্প, যা তার দুর্বলতারই আরেক পিঠ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই) নতুন ই-মেইল তদন্তে নির্দোষ ঘোষণা করায় আরেক ধাপ সংহত হয় তার অবস্থান। কিন্তু ক্ষেপে যান ট্রাম্প। মিনেপলিসের এক সমাবেশে তিনি বলেন, আট দিনে সাড়ে ছয় লাখ ই-মেইল খতিয়ে দেখা যায় না। হিলারি অবশ্যই দোষী। সেটি হিলারি নিজেই জানেন, এফবিআইও জানে। জনগণ জানে। মার্কিন জনগণ ৮ নভেম্বর ব্যালটের মাধ্যমে সেই জবাব দেবে।

এবারকার মার্কিন নির্বাচনে সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো রিপাবলিকান দলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়ন লাভ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাশূন্য এ মার্কিন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী তার বিত্তবৈভব ও টাকার জোরে বাগিয়ে নেন দলের নির্বাচনী টিকিট। একই সঙ্গে তার রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতাও ব্যাপক আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। এতদসত্ত্বেও হিলারির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত এসেছেন ট্রাম্প। তার নানা অযৌক্তিক প্রতিশ্রুতি ও কট্টর মনোভাবের কারণে দেশটির হতাশ শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত ও শ্রমিকশ্রেণির অনেক ভোটারের আস্থা অর্জন করেন তিনি।

এদিকে, হিলারির হয়ে 'জীবন বাজি' রেখে মাঠে নামেন আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় থেকে কোনো প্রেসিডেন্ট সাধারণত সরাসরি প্রচারে মাঠে নামেন না। এবার সেই রেকর্ড ভেঙেছেন বারাক ওবামা। দলীয় নেতাদের পাশাপাশি হিলারির সমর্থনে বিভিন্ন শো ও জনসভায় অংশ নেন অভিনেতা জর্জ ক্লুনি, অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টোন, পপ তারকা কেটি পেরি, বিয়ন্সের মতো একঝাঁক তারকা। অন্যদিকে ট্রাম্পের পক্ষে নামেন বক্সার মাইক টাইসন, অভিনেতা চাক নরিসসহ অনেক তারকা।

সর্বশেষ জরিপ: হিলারি ক্লিনটন এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। গতকাল সিএনএনের সর্বশেষ জরিপে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি।

যুক্তরাজ্যের ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার সর্বশেষ জরিপে বলা হয়, জাতীয়ভাবে পরিচালিত জনমত জরিপে হিলারি ৪৭.৫ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ট্রাম্পের সমর্থন ৪২.৩ শতাংশ। ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে হিলারি। জরিপ মতে, ৩৪৭ ইলেক্টোরাল ভোট পাবেন হিলারি। অন্যদিকে ট্রাম্প পাবেন মাত্র ১৯১ ভোট। তবে সুইং স্টেটখ্যাত ফ্লোরিডায় হিলারির সমর্থন ৪৬ শতাংশ এবং ট্রাম্পের সমর্থন ৪৫ শতাংশ।

গত শুক্রবার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিবিএস নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজ, নিউইয়র্ক টাইমস ও সিবিএস নিউজ, রয়টার্স ও ইপসোস, ফক্স নিউজসহ ১০টি জরিপেই হিলারির জন্য সুখবর আসে- জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পের চেয়ে তিনি এগিয়ে। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার পারদের মাত্রার মতো ওঠানামা করছে আমেরিকার নির্বাচনের জরিপের ফলাফল। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি অতীতে দেখা যায়নি।

হিলারির জয়ের কৌশল: দোদুল্যমান রাজ্য ফ্লোরিডা ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পকে হারাতে পারলে হিলারির জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের আশার জায়গা, মার্কিন শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে হিলারির চেয়ে তার জনপ্রিয়তা বেশি। তবে তার জন্য দুঃসংবাদ হলো, নিজের জয় নিশ্চিত করতে হলে নর্থ ক্যারেলাইনা, অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, ওহাইও এবং আইওয়াতে জয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এসব অঙ্গরাজ্যের কোনো একটিতে হিলারির কাছে ধরাশায়ী হলে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০ ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট অর্জন তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে। নিজের জয় নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ট্রাম্প তাই ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনায় মরিয়া হয়ে প্রচার চালিয়েছেন।


অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়া, মিশিগান ও উইসকনসিন এই তিন অঙ্গরাজ্যে হিলারির জয়ের সম্ভাবনাই বেশি। তবে বাস্তবে ঘটবে কি-না, তা নিয়ে একটু সংশয়ও দেখা দিয়েছে। কারণ তিন অঙ্গরাজ্যকেই টার্গেট করে শেষ মুহূর্তে জোর প্রচার করেছেন ট্রাম্প। হিলারির জন্য সুখবর, এই তিন রাজ্যে জয়ের পাশাপাশি নর্থ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা এবং ওহাইওর মধ্যে যে কোনো একটিতে রিপাবলিকান প্রার্থীকে ধরাশায়ী করতে সফল হলেই তার প্রেসিডেন্ট হওয়া নিশ্চিত। হিলারিও আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে লাতিন ভোটারদের জোয়ার ট্রাম্পকে এই তিন রাজ্যে ট্রাম্পকে ধসিয়ে দেবে।

হিলারি জয়ী হলে নারী, কলেজ-শিক্ষিত ভোটার এবং নতুন প্রজন্মের এক ঝাঁক লাতিন বংশোদ্ভূত তরুণই তার এ সফলতার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতীয়মান হবে। নেভাদা ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এরই মধ্যে লাতিনদের বিপুলভাবে ভোট দেওয়ার আভাস মিলেছে। শুধু শুক্রবারই অন্তত ৫৭ হাজার লাতিন ভোট পড়েছে। সেখানকার ক্লার্ক কাউন্টিতে দেখা গেছে ভোট দিতে দীর্ঘ লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন লাতিন নাগরিকরা। জরিপের তথ্য, প্রথমবারের মতো যেসব লাতিন তরুণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন তারা ট্রাম্পকে ঠেকাতে মরিয়া। মেক্সিকান বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সমালোচনাই তাদের খেপিয়ে তুলেছে। ট্রাম্পের নারীবিদ্বেষী কথাবার্তা, নারী কেলেঙ্কারির ঘটনাই মূলত হিলারির দিকে ঠেলে দিয়েছে নারীদের, তাদের মাঝে সংকুচিত হয়েছে ট্রাম্পের প্রভাব। এ ছাড়াও আফ্রিকান-আমেরিকানদের একটি অংশকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হিলারির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রতিশ্রুতি: বিশ্বের পরমাণু নিরাপত্তা বিষয়টিও হিলারির কাছে প্রাধান্য পাবে। ট্রাম্পের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'নিউক্লিয়ার বোমাকে পাগলের হাতে ছাড়া যাবে না।' তিনি মুসলিম দেশগুলো থেকে অভিবাসী গ্রহণ নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নন। তার পরিবর্তে অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন পুনর্গঠন ও সহজ করার পক্ষপাতী। পররাষ্ট্রনীতিতে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি গতিশীল করা, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রতিপক্ষ দেশগুলোর সঙ্গে উষ্ণ কিন্তু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং মিত্র দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোকে আরও কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে ক্ষমতায় এলে ট্রাম্প মুসলিমদের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সব অবৈধ অভিবাসীকে বের করে দেবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ করবেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, তার এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবসম্মত নয়। তিনি অস্ত্র আইন ও ওবামার স্বাস্থ্যনীতিরও বিরোধী। পররাষ্ট্রনীতিতে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করবেন। সহজ করবেন বিনিয়োগ নীতি।


নির্বাচনী প্রচারে দেশটির জনগণ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা ইস্যুতে বিদ্বেষমূলক প্রচারে বিষক্রিয়া গভীর হয়ে উঠেছে মানুষের মধ্যে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যে-ই হোন- এ বিভেদ কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন, তা বিজয়ীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। আর বিজিত প্রার্থী ভোট কারচুপি ও অবিশ্বস্ততার অভিযোগ তুলে দেশের মানুষকে আরও বিভক্তির দিকে ঠেলে দিতে পারেন।

পররাষ্ট্রনীতি: বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের একটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র। এখানেও মার্কিন নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। অনেকে ভাবছেন, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে দেশটির পররাষ্ট্রনীতি কী হবে? বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের ধারণা- হিলারি বা ট্রাম্প যিনিই প্রেসিডেন্ট হোন না কেন, তাতে দেশটির বিদেশনীতি খুব একটা বদলাবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কাঠামোটি একক নিয়ন্ত্রিত নয়। তার জন্য চারপাশে রয়েছে উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ। তারাই প্রেসিডেন্টকে পরিচালনা করে। অন্যদিকে ট্রাম্পের কট্টর অভিবাসন বিরোধিতার কারণে দুশ্চিন্তা রয়েছে। তবে উদারপন্থি হওয়ার কারণে হিলারিকেই আশা করছে বিশ্বের সাধারণ মানুষ।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.