মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ায় সেদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি অভিবাসীদের কোনো সমস্যা হবে না বলেই মনে করছে আওয়ামী লীগ।





সরকার এসব অভিবাসীর স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করবে জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলটি বলেছে, প্রতিটি দেশেই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি নীতিমালা থাকে। সেখানে ব্যক্তিবিশেষের মতামত প্রাধান্য পায় না। তাই আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে— ট্রাম্প জয়ী হলেও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের নতুন করে কোনো সমস্যা হবে না।

বৃহস্পতিবার দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও ডা. দীপু মনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়ে হানিফ বলেন, 'আওয়ামী লীগ সবসময়ই জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাসী। জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমরা অভিনন্দন জানাই।'

নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহযোগিতা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও প্রসার ঘটবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিএনপি নেতাদের আহ্বানের জবাবে বিএনপিকেই এই শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে অনেক কথাই হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হয়েছে— জনগণই ক্ষমতার উৎস। মার্কিন জনগণ ভোট দিয়ে তাদের নেতা নির্বাচন করেছে। ক্ষমতায় আসতে চাইলে বিএনপিকেও বিদেশিদের কাছে ধরনা না দিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

হানিফ বলেন, যেখানেই নির্বাচন হয় সেখানেই বিএনপির মধ্যে একটি ষড়যন্ত্রের ছাপ দেখা যায়। বিএনপি কখনই ষড়যন্ত্রের বাইরে চিন্তা করতে পারে না। যারা বিদেশি প্রভুদের দিকে তাকিয়ে থাকে তাদের হতাশ হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ভুল রাজনীতির কারণে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় সেদেশে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে একটি আতঙ্ক কাজ করছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যেও আছে। বিষয়টি মোকাবেলায় কী করা হবে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. দীপু মনি বলেন, বাংলাদেশও বৈধ অভিবাসনে বিশ্বাস করে। সরকারও চায় আমাদের প্রতিটি নাগরিক বৈধভাবেই অভিবাসী হিসেবে অন্য দেশে যাবেন। এ কারণে বৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে কোনো মতদ্বৈততা নেই।

তিনি বলেন, 'তবে সেখানে আমাদের দেশের কতজন নাগরিক অবৈধভাবে আছেন তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। সেখানে আমাদের কোনো নাগরিকের কোনো রকম ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের উদ্যোগ নেবে।'

দীপু মনি বলেন, 'নির্বাচনের আগে অনেক রকমের কথা হয়। কিন্তু নানা কারণে সার্বিকভাবে তার বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী অনেক। সেক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে অগ্রসর হয়, সেটিই দেখার বিষয়। আমাদের দেশের নাগরিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে আমরা কাজ করবো।'

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বি এম মোজাম্মেল হক, এ কে এম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুন্নাহার লাইলী, সুজিত রায় নন্দী, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, হারুন অর রশিদ, আবদুস সবুর, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.