অনেক নাটকীয়তা, টানটান উত্তেজনা ও শিহরণে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মাত্রার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।

 শেষ মুহূর্তের প্রচারে ডেমোক্রেটদলীয় হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার মানুষকে শুনিয়েছেন আশার বাণী; নতুন আমেরিকা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। নিজেদের বাগ্মিতায়, জাতীয় চেতনার মাধ্যমে চেয়েছেন ভোটারদের উদ্দীপ্ত করতে; আহ্বান জানিয়েছেন জেগে ওঠার। এখন চূড়ান্ত রায় জনগণের হাতে। তাদের রায়ই প্রমাণ করবে, কে হাসবে শেষ হাসি। কে পাবেন হোয়াইট হাউসের চার বছরের সোনার চাবি? টানা ১৫ ঘণ্টা ভোট গ্রহণ শেষে কে পরবেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্টের বরমাল্য? তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন বিদ্বেষপূর্ণ নির্বাচন খুব কমই দেখেছে বিশ্ব। নির্বাচনের পরও এ বিভেদের রেশ থেকে যাবে। এত কিছুর পরও আগ্রহের এতটুকু কমতি নেই মানুষের। বিশ্বের নানা প্রান্তে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কোটি কোটি মানুষ। ফল না পাওয়া পর্যন্ত আজ বিশ্ববাসীর চোখ আটকে থাকবে টেলিভিশনের পর্দা, সংবাদপত্র ও অনলাইনে। সমকাল যখন পাঠকের হাতে পেঁৗছাবে, তত সময়ে অনেক অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হয়ে যাবে। শুরু হবে ফল ঘোষণা। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে যখন ভোট গ্রহণ চলছে, তার আগেই বাংলাদেশে 'জয়' পেয়ে গেছেন হিলারি! কয়েক দিন ধরে ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জরিপ চালিয়েছেন। তাদের এ মজাদার সমীক্ষায় ট্রাম্পের ধরাশায়ী হওয়ার খবর মিলেছে।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় গুয়াম দ্বীপে হিলারি ৭১.৬৩ শতাংশ পপুলার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এতে ট্রাম্প পেয়েছেন ২৪.১৬ শতাংশ। মোট ৩২ হাজার ৭১ জন সেখানে ভোট দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শুরু হয় ভোট গ্রহণ। যদিও বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার সকাল ৭টার দিকে তা শেষ হবে। তবে ৫০ রাজ্যের অনেকগুলো থেকে আগেই পাওয়া যাবে ফলাফলের আভাস। নির্বাচনী ফল ঘোষণা চলার সময় মার্কিনদের দৃষ্টি থাকবে ইলেক্টোরাল ভোটসমৃদ্ধ অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, নিউইয়র্ক ও ইলিনয়ের দিকে। এর আগে জনমত জরিপে বলা হয়েছিল, হিলারি এগিয়ে থাকলেও ট্রাম্পের সঙ্গে তার লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। গত সোমবার এক জনমত জরিপে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনে হিলারির জয়ের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ।

রয়টার্স/ইপসোসের চূড়ান্ত জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপ সংস্থা ফাইভথার্টিএইট বলছে, হিলারির জয়ের সম্ভাবনা ৭০.৯ শতাংশ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্প পাবেন ২৯ শতাংশ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যে স্বল্প ভোটে তিনটি কেন্দ্রের দুটিতে হিলারি ও একটিতে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প দু'জনই জয়-পরাজয়ের খবর শুনবেন নিউইয়র্ক সিটিতে বসে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে স্থানীয় সময় বুধবার (বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার) সকালের মধ্যে সুসংবাদ বা দুঃসংবাদ তাদের কানে যাবে। এদিকে, অ্যাসোসিয়েট প্রেস-এপির অন্তত চার হাজার কর্মী ভোট চলার সময় তাদের বুথফেরত জরিপ চালাবে। সূত্র :সিএনএন, বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস, এএফপি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, পিটিআই ও এনডিটিভি।

উৎসবের আমেজে ভোট

দুই প্রধান প্রার্থীর তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে উৎসবের আমেজে ভোট দিলেন ভোটাররা। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সব রাজ্যেই সুশৃঙ্খলভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে নিউইয়র্ক, কানেক্টিকাট, ইন্ডিয়ানা, কেন্টাকির কিছু অংশ, নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। অবশ্য ভারমন্টে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে ভোর ৫টা থেকে। অন্যদিকে, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ভোট শুরু হয় ফ্লোরিডা, ডেলাওয়ার, জর্জিয়া, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড, মিশিগান, নিউ হ্যাম্পশায়ার, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, সাউথ ক্যারোলাইনায়। টেনেসির কিছু অংশের ভোট শুরু হয় সকাল ৭টা থেকে। ভোট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও।

এদিন সকালে নিউইয়র্কের চাম্পাকোয়ায় ভোট দেন ডেমোক্রেটদলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও বিল ক্লিনটন। ভার্জিনিয়ায় ভোট দিয়েছেন হিলারির রানিংমেট ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী টিম কেইন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ মাসের শুরুতে ইলিনয়ে আগাম ভোট দেন। এ ছাড়া উইলমিংটনে ভোট দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ভোট দেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের রানিংমেট মাইক পেন্ডাও ভোট দিয়েছেন। ভোট দিয়ে হিলারি ও ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হিলারি তার এক টুইটে লেখেন, 'গণনা না করলে বোঝা যায় না, এক একটা ভোট কী জিনিস। আপনারাই (ভোটাররা) সব পার্থক্য তৈরি করে দিতে পারেন। ভোট দিতে যান।'

টুইটে ট্রাম্প লেখেন, 'আজ আমরা আবার আমেরিকাকে মহান করে তুলব। আজ আমরা দুর্দান্ত এক অঙ্গরাজ্য মিশিগানে জয়লাভ করতে যাচ্ছি। আবার আমরা হোয়াইট হাউসে ফিরব।'

দুই প্রার্থীর প্রচারের শেষ ২৪ ঘণ্টা

ডেমোক্রেটিক দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর হিলারি তার প্রচার শুরু করেছিলেন। গতকাল তা শেষ করলেন নর্থ ক্যারোলাইনায়। প্রচারের ১৮ মাসের দীর্ঘ পরিভ্রমণ তার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। শেষ নির্বাচনী সমাবেশ নর্থ ক্যারোলাইনায় যখন তিনি প্রচার শেষ করলেন, তখন রাত ১টা (বাংলাদেশ সময় গতকাল দুপুর ১২টা)। এই সমাবেশের পর তার মুখে তখনও হাসি। নির্বাচনী প্রচারের শেষ ২৪ ঘণ্টায় ব্যাটলগ্রাউন্ড বলে পরিচিত নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও মিশিগানে সমাবেশ করেন তিনি। জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই ফার্স্ট লেডি বলেন, ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন, জেগে উঠুন, ভোট দিন। ফিলাডেলফিয়ায় হিলারির পক্ষে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা ও প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তারা হিলারিকে একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ওবামা বলেন, আমেরিকা আগামীতে যে নতুন প্রেসিডেন্ট পেতে যাচ্ছে, তিনি হলেন হিলারি ক্লিনটন।

ওবামা আরও বলেন, অবমাননা, বিভেদ আর দোষারোপের রাজনীতি বাতিল করার সময় এসেছে। এ ক্ষেত্রে সবাই মিলে একসঙ্গে শক্তিশালীভাবে দাঁড়ানোর রাজনীতিকেই বেছে নিতে হবে। এ কথা উল্লেখ করে আমেরিকানদের কাছে হিলারিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ওবামা মঞ্চে হিলারির নাম ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চের পেছন দিক থেকে সামনে উঠে আসেন হিলারি। পরে আসেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হিলারির স্বামী বিল ক্লিনটন, একমাত্র মেয়ে চেলসি ক্লিনটন, চেলসির স্বামী মার্ক, ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। তারা সবাই উপস্থিত জনতার সামনে হাত নাড়েন। পপতারকা ব্রুস স্প্রিংটন ও বিশ্বখ্যাত মেটাল গায়ক জন বন জোভি হিলারি সমর্থকদের গানে গানে মাতিয়ে তোলেন। তাদের সম্মিলনে যেন অন্য রকম হয়ে ওঠে ফিলাডেলফিয়ার রাতটি।

প্রতিদিনই আমেরিকানদের একজন চ্যাম্পিয়ন দরকার, আর আমিই হতে চাই সেই চ্যাম্পিয়ন_ এ কথা জানান দিয়েই একটি ইউটিউব ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন হিলারি। ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিলের এ ঘোষণার পরই প্রথমবারের মতো ছুটে যান আইওয়া ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে, যেখানে প্রথম ভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রাথমিক ভোট। এই দীর্ঘ ম্যারাথন প্রচারের ইতি টানলেন যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী সোমবার মধ্যরাতে।

আর মিশিগানে মধ্যরাতের জনসভায় যোগ দেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রচারের শেষ ২৪ ঘণ্টায় তিনি জয়-পরাজয় নির্ধারণের চাবিকাঠি দোদুল্যমান রাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া ও মিশিগানে সমাবেশ করেছেন। শেষ প্রচারেও তাকে সেই পুরনো চেহারাতেই দেখা গেছে। বাগাড়ম্বর, বিদ্বেষপূর্ণ বাক্যবাণ, ঔদ্ধত্য আর লক্ষ্যহীন বড় বড় ফাঁকা বুলি আওড়েছেন তিনি। মিশিগানে জনসভায় হিলারিকে চূড়ান্ত আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট পদে এযাবৎ যত মানুষ প্রার্থী হয়েছেন, তার মধ্যে হিলারি ক্লিনটন হলেন সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ। এ সময় তিনি এফবিআইর ই-মেইল কেলেঙ্কারিকে জনতার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। নিউ হ্যাম্পশায়ারের ম্যানচেস্টারে ভোটারদের 'বড় স্বপ্ন' দেখার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, সারাজীবন ধরে যে পরিবর্তনের জন্য আপনারা অপেক্ষা করেছিলেন, তা থেকে আর একদিন দূরে রয়েছি আমরা। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া চাকরির বাজার ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছি। এই দেশ থেকে যে সম্পদ খোয়া গেছে, তা ফিরিয়ে আনব।

হিলারির জয়ের সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ

রয়টার্স/ইপসোস জরিপে বলা হয়, ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি ৩ পয়েন্ট এগিয়ে আছেন। হিলারির সমর্থন ৪৫ শতাংশ, ট্রাম্পের ৪২ শতাংশ। হিলারি ৩০৩টি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে পারেন। ট্রাম্প পেতে পারেন ২৩৫টি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে প্রার্থীকে কমপক্ষে ২৭০টি পেতে হয়। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে আছেন হিলারি। এরই মধ্যে আগাম ভোট পড়েছে চার কোটি ৬০ লাখ।

বিভিন্ন সংস্থার জরিপ ফলের গড় করে বিবিসি প্রকাশিত জরিপে বলা হয়, ট্রাম্পের চেয়ে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন হিলারি।

নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপে জানানো হয়, হিলারির পক্ষে রয়েছে ৪৬ শতাংশ ভোটার, অন্যদিকে ট্রাম্পের পক্ষে ৪২.৯ শতাংশ।

জরিপ সংস্থা রিয়ালক্লিয়ার পলিটিকসের সর্বশেষ প্রকাশিত জরিপেও দেখা গেছে, হিলারি ৩ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। চার প্রার্থীর ক্ষেত্রে জরিপে হিলারির সমর্থন ৪৭.২ ও ট্রাম্পের ৪৪.২ শতাংশ।

ব্লুমবার্গ জানায়, হিলারির সমর্থন ৪৬ ও ট্রাম্পের ৪৩ শতাংশ। ইকোনমিস্ট ও ইউগভ প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, হিলারি ৪ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। তার সমর্থন ৪৯ শতাংশ আর ট্রাম্পের ৪৫।

জরিপগুলোর বিশ্লেষণে বলা হয়, ট্রাম্পের সম্ভাবনা নির্ভর করছে সুইং স্টেটখ্যাত ফ্লোরিডা, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও পেনসিলভানিয়ার ফলাফলের ওপর।

রোববার ফ্লোরিডা, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। পেনসিলভানিয়ায় হিলারিকে ৩ পয়েন্টে এগিয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রেসিডেন্ট হতে হলে ট্রাম্পকে এই অঙ্গরাজ্যগুলোর অধিকাংশতেই জয় পেতে হবে। ফ্লোরিডা, মিশিগান ও পেনসিলভানিয়া_ এ তিন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে দুটিতে ট্রাম্প হারলে হিলারির বিজয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাবে।

কখন জানা যাবে ফলাফল

নির্বাচনের ফল কখন জানা যাবে_ তা নির্ভর করবে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টার দিকেই পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে_ হিলারি, না ট্রাম্প হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট। তবে হাড্ডাহাডি লড়াই কিংবা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে বিজয়ীর নাম জানার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হতে পারে।

ভোট শুরু আর শেষ হওয়ার সময় সব অঙ্গরাজ্যে এক নয়। কোথাও ১২ ঘণ্টা, কোথাও ১৪ ঘণ্টা, আবার কোথাও ১১ ঘণ্টা ভোট গ্রহণ চলবে। যেসব অঙ্গরাজ্যে আগেভাগে ভোট শেষ হবে, তার মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ানা ও কেন্টাকি। এখানে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ভোট শেষ হবে। তাই এ দুটি অঙ্গরাজ্যের ফল আগেই জানা যাবে। কিন্তু রিপাবলিকান ঘাঁটি বলে পরিচিত দুই অঙ্গরাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প হারলে হৈচৈ পড়ে যেতে পারে।

আবার কোনো কোনো অঙ্গরাজ্যে ১৪ ঘণ্টাও ভোট হবে। যেমন লুইজিয়ানা ও মেইনে_ এ দুটি অঙ্গরাজ্যে ভোর ৬টা থেকে ভোট চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। সে ক্ষেত্রে ফল জানতে দেরি হবে। তবে ইলিনয়েস, মিশিগান, মিসৌরি, নিউ হ্যাম্পশায়ার, পেনসিলভানিয়া ও টেক্সাসের অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্যের ফল বুধবার সকাল ৭টা-৮টার দিকেই চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটাই হবে ফল ঘোষণার সবচেয়ে ব্যস্ত মুহূর্ত। আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের ফল জানা যাবে সবার শেষে। বুধবার রাতে এর ফল আসতে পারে।

ভোটের ফলে যেসব অঙ্গরাজ্য থাকবে মনোযোগের কেন্দ্রে

সকাল ৬টার দিকে ভার্জিনিয়ার ১৩ ইলেক্টোরাল ভোটের দিকে চোখ থাকবে সবার। এ রাজ্য থেকে বারাক ওবামা ২০০৮ ও ২০১২ সালে জয়ী হয়েছিলেন। এ রাজ্যে ট্রাম্প জয়ী হলে বা হিলারি জয়ের কাছাকাছি হলে ডেমোক্রেট শিবিরের জন্য পুরো রাতটাই দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠবে। একই সময়ে জর্জিয়ার (১৬) দিকেও চোখ থাকবে সবার। এখানে রিপাবলিকানরা ১৯৯৬ সালে জয়ী হলেও সম্প্রতি তাদের জনপ্রিয়তা কমে এসেছে অনেকটাই। তা ছাড়া ট্রাম্পের রানিংমেট মাইক পেন্সের অঙ্গরাজ্য ইন্ডিয়ানার (১১) পাশাপাশি কেন্টাকি (৮), সাউথ ক্যারোলাইনা (৯) ও ভারমন্ট (৩) অঙ্গরাজ্যের দিকেও মার্কিনদের তীব্র নজর থাকবে। ডেমোক্রেটদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৫ ইলেক্টোরাল ভোট হিলারিকে অনেকখানি এগিয়ে দেবে বলে আশা করছে তার দল।

এদিকে আরও আধা ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চোখ যাবে নর্থ ক্যারোলাইনা (১৫) ও ওহাইও (১৮) অঙ্গরাজ্যের দিকে। সেখানে নর্থ ক্যারোলাইনার ফলই বলতে গেলে হিলারি বা ট্রাম্পের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে। ওহাইওর ফল একই সময়ে প্রকাশ পাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই তারা যাকে ভোট দিয়েছেন, তিনিই হয়েছেন প্রেসিডেন্ট। রিপাবলিকানদের ঘাঁটি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াও (৫) থাকবে মনোযোগের কেন্দ্রে।

সকাল ৭টার দিকে সব চোখ আটকে যাবে পূর্ব উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে। এ অঞ্চলের মেইনে (৪), মেরিল্যান্ড (১০), ম্যাসাচুসেটস (১১), নিউজার্সি (১৪), রোড আইল্যান্ড (৪), ডেলাওয়ার (৩), কানেক্টিকাট (৭) ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া (৩) অঙ্গরাজ্যের ভোটের ফল প্রকাশ হতে থাকবে এ সময়। ব্যাটলফিল্ড বলে আলোচনার শীর্ষে থাকা ২৯ ইলেক্টোরাল ভোটের বিশাল অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডার ফলও একই সময়ে প্রকাশ পাবে। এ রাজ্যের ফলও অনেকটা নির্ধারণ করে দেবে, কে যাচ্ছেন হোয়াইট হাউসে। ট্রাম্প ফ্লোরিডা (২৯) ও ওহাইওতে (১৮) জয়ী না হলে তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। এ সময় পেনসিলভানিয়া (২০) এবং ট্রাম্প ঘাঁটি নিউ হ্যাম্পশায়ার (৪), মিসিসিপি (৬), মিসৌরি (১০), আলাবামা (৯), টেনিসি (১১) ও ওকলাহামার (৭) ফলও আসবে এ সময়ে।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আসবে আরকানসা (৬) অঙ্গরাজ্যের ফল। এ রাজ্যেরই গভর্নর ছিলেন হিলারির স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

সকাল ৮টার দিকে হিলারির জয়ের সম্ভাবনাময় নিউইয়র্কের (২৯) ফল ঘোষণা হয়ে যেতে পারে।

তা ছাড়া একই সময়ে কলোরাডো (৯), মিশিগান (১৬), টেক্সাস (৩৮), কানসাস (৬), লুইজিয়ানা (৮), নর্থ ডাকোটা (৩), সাউথ ডাকোটা (৩), মিনেসোটা (১০), ওয়াইমিং (৩), নেব্রাস্কা (৫) রাজ্যগুলোর ভোটের ফল প্রকাশ হয়ে যাবে। উইসকনসিন (১০), নিউ মেক্সিকোর (৫) ফলও এ সময়ের মধ্যে আসবে। সকাল ৯টা নাগাদ ভোট বিশ্লেষকদের নানা আলোচনায় মুখর হতে থাকবে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল। কারণ, এ সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত অঙ্গরাজ্যের তথ্য চলে আসবে তাদের হাতে। পাশাপাশি বাকি রাজ্যগুলোর ফলও আসতে থাকবে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.