সবার জন্য উন্মুক্ত না হলেও সক্ষম উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।






 তারা বলেছেন, সরকার শর্ত সাপেক্ষে যাচাই-বাছাই করে নির্দিষ্ট সীমার বিনিয়োগ সুযোগ দিলেও উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশও উপকৃত হবে। এ সুযোগ দেওয়া হলে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা সৃষ্টির পাশাপাশি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া সহজ হবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত 'বিদেশে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ' শিরোনামে এ আলোচনার আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশ (আইবিএফবি)। আইবিএফবির সভাপতি হাফিজুর রহমান খান এতে সভাপতিত্ব করেন। 


সেমিনারে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান বলেন, উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগ উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তবে এ ধারা চালু করতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যে ঐক্য ও সমন্বয় দরকার তা এখনও সৃষ্টি হয়নি। বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য যে সক্ষমতার দরকার অনেক প্রতিষ্ঠানের তা রয়েছে। কিন্তু এসব সক্ষমতাগুলোকে প্রতিষ্ঠানিকভাবে এখনও একীভূত করা যায়নি। বড় সমস্যা হলো, যে অর্থ উদ্যোক্তারা বিদেশে নিতে চান, তার উৎসের স্বচ্ছতা। তাই বিদেশি বিনিয়োগের মতো বড় পদক্ষেপে যেতে হলে এর সমস্যার সমাধান করতে হবে। 

এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, উদ্যোক্তাদের ছোট অর্থনীতির মধ্যে আটকে রাখলে দেশেরই ক্ষতি হবে। ৩২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ নিয়ে বসে থাকলে তা দেশের ভালোর তুলনায় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এখন রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পেঁৗছেছে। ফলে নতুন করে বিধি প্রণয়ন করে বিদেশে বিনিয়োগের সময় এসেছে। ব্যবসায়ীদের এক মিলিয়ন ডলার নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিলে পাঁচ বছরে তা তিন মিলিয়ন ডলার হয়ে ফিরে আসবে। 

এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলা বলেন, সরকার সবার জন্য এই সুযোগ উন্মুক্ত করতে না পারলেও যেসব উদ্যোক্তা দেশে সফল এবং বিশ্ববাজারে বিনিয়োগের সক্ষমতা রাখে তাদের এ সুযোগ দেওয়া উচিত। এ জন্য মুনাফা ফেরত আনাসহ যে কোনো শর্ত দরকার হলে সরকার তাও আরোপ করতে পারে। গবেষণা সংস্থা পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, রপ্তানিকারকদের অ্যাকাউন্টে অর্থ রাখার সীমা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো হচ্ছে না। কিন্তু চীন, ভারত অনেক আগেই এ কাজটি করেছে। এখানেও তা করা সম্ভব হলে বিদেশে বিনিয়োগ করা সহজ হতো। 

আবদুল মোনেম লিমিটেডের ডিএমডি মহিউদ্দিন মোনেম বলেন, বাংলাদেশিরা বিদেশে বিনিয়োগ করলে বিদেশ থেকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়বে। ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, বিদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে রিজার্ভকে কাজে না লাগালে অর্থনীতিতে বিভিন্ন রকম ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। 

মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, মুদ্রা পাচার ঠেকানো, অর্থনীতির আকার বড়া করা ও বিশ্ববাজারের বিভিন্ন সুযোগ গ্রহণ করতে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। গত চার দশক ধরে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৮০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। অথচ ব্যবসায়ীদের বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিলে উচ্চ হারে মুনাফা ফেরত পেত বাংলাদেশ। হাফিজুর রহমান খান বলেন, দেশের বিনিয়োগের সিংহভাগ করছে বেসরকারি খাত। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বেসরকারি খাত এগিয়ে। এই বেসরকারি খাতের প্রয়োজনেই বিদেশে বিনিয়োগ উন্মুক্ত করা উচিত।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.