বেশিরভাগ সময়ে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেশি বাড়তে দেখা যায়। তবে সর্বশেষ হিসাবে ভিন্ন চিত্র দেখা দিয়েছে ব্যাংক খাতে।





 সার্বিকভাবে সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমলেও গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে। জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে এসে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দুই হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা বেড়ে ৬৫ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা হয়েছে। গত ডিসেম্বরের তুলনায় নয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৪ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে ব্যাংক খাতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতিও সামান্য বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০১৩ সাল থেকে নতুন পদ্ধতিতে ঋণ শ্রেণিকরণ করায় খেলাপি ঋণ হু হু করে বাড়ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একই সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো যাচ্ছিল না। এমন প্রেক্ষাপটে খেলাপি হয়ে পড়া ঋণ নিয়মিত করতে ওই সময়ে শিথিল শর্তে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশেষ সুযোগ নিয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এর বাইরে ব্যাংক খাতে পাঁচশ' কোটি টাকার বেশি রয়েছে_ এমন ১১টি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান গত বছর বিশেষ সুবিধায় ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ নিয়েছে। তবে এসব ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ আবার খেলাপি 


হয়ে পড়ায় মন্দ ঋণ আবার হু হু করে বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো ছয় লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এ সময়ে খেলাপি হওয়া ৬৫ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা মোট ঋণের ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে দুই হাজার ৩৭৪ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ বেড়ে ২৭ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা হয়েছে। তিন মাস আগে এসব ব্যাংকে খেলাপি ছিল ২৫ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩০ হাজার ৭৭ কোটি থেকে কমে ২৯ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা হয়েছে। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকে আগের মতোই পাঁচ হাজার ৮১৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ রয়েছে। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোতে সামান্য বেড়ে দুই হাজার ২৭০ কোটি টাকা হয়েছে। আগের প্রান্তিকে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ছিল দুই হাজার ১৫৭ কোটি টাকা।

সোনালী ও জনতা ব্যাংকের পরিস্থিতির উন্নতির কারণে রাষ্ট্রীয় ছয় ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সোনালীর খেলাপি ঋণ নয় হাজার ৩২৩ কোটি থেকে কমে আট হাজার ৫৬১ কোটি টাকায় নেমেছে। জনতায় পাঁচ হাজার ৮৯১ কোটি থেকে কমে হয়েছে চার হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। যদিও অগ্রণীতে খেলাপি ঋণ চার হাজার ৯৯২ কোটি থেকে বেড়ে পাঁচ হাজার ৭১১ কোটি টাকা হয়েছে। বেসিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণ সামান্য বেড়ে ছয় হাজার ৭৯৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। রূপালীর খেলাপি ঋণ দুই হাজার ৩৬১ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ২৯ কোটি টাকা। আর বিডিবিএলে ৭৫৭ থেকে বেড়ে ৮৭৫ কোটি টাকা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত সেপ্টেম্বরে পুরো ব্যাংক খাতে ৩৭ হাজার ২২৮ কোটি টাকা প্রভিশন রাখার প্রয়োজন ছিল। তবে ব্যাংকগুলো রাখতে সক্ষম হয়েছে ৩২ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। এতে সামগ্রিকভাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। মূলত কিছু ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মূলধন সংরক্ষণ করায় আট ব্যাংকের ঘাটতির তুলনায় ব্যাংক খাতে সামগ্রিক ঘাটতি কম রয়েছে। আগের প্রান্তিকে ৩৬ হাজার ১৮০ কোটি টাকা প্রয়োজনের বিপরীতে ব্যাংকগুলো ৩১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা সংরক্ষণ করেছিল।

সেপ্টেম্বরে নতুন করে প্রভিশন ঘাটতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে বেসরকারি খাতের স্ট্যার্ন্ডার্ড ব্যাংক। ব্যাংকটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া আগের মতোই ঘাটতির তালিকায় থাকা বেসিকের ঘাটতি সামান্য বেড়ে তিন হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি কমে এক হাজার ২৮ কোটি টাকা হয়েছে। আগের মতোই রূপালী ব্যাংক ৭৫৫ কোটি টাকার ঘাটতিতে রয়েছে। আর বিশেষায়িত খাতের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে ঘাটতি রয়েছে ১৯৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের প্রভিশন প্রিমিয়ারে ২৫৫ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ২৫৩ কোটি ও ন্যাশনাল ব্যাংকে ১৬৮ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.