সন্তানকে সময় দেওয়া হয় না ব্যস্ততার জন্য। দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও সময়টুকু বাচ্চাকে কীভাবে দেবেন, তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন অনেকেই। 


ঘরে শিশুকে বিনোদন দেওয়ার জন্য আমরা এত দিন বেছে নিয়েছিলাম টিভির কার্টুনকে। কিন্তু এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে মোবাইল ফোন বা ট্যাব কিংবা প্রযুক্তির আরও নানা পণ্য। এই মোবাইল বা প্রযুক্তিপণ্যে আসক্তি শিশুর বিকাশে কতটুকু ভূমিকা পালন করছে? নেতিবাচক কী প্রভাব ফেলছে? 




তা নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কামাল উদ্দীন আহমেদের কাছে। তিনি জানান, এখনকার শিশুরা প্রযুক্তিপণ্যে এতটাই আসক্ত হয়ে যাচ্ছে যে, শিশুর হাত থেকে মোবাইল ফোন বা ট্যাব কেড়ে নিলে তারা রেগে যায় বা নেতিবাচক আচরণ শুরু করে। তারা অন্য কোনো দিকে খেয়াল করে না, কারও সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলে না। তারা মোবাইল, ট্যাবলেটে চোখ রাখে বেশি সময়। এতে পারিবারিক বন্ধনের ধারণায় পরিবর্তন আসছে।



প্রযুক্তিপণ্য শিশুদের মনোজগতে ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। অনেক শিশু এখন ট্যাব, স্মার্টফোনে গান না শুনে বা ভিডিও না দেখে খেতে চাইছে না। অভিভাবকের দৃষ্টিকোণ থেকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে মোবাইল ডিভাইস ও বাস্তবের জগতের যোগাযোগের মধ্যে সীমানা তৈরি করে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

দুই বছরের কম বয়সী শিশুর কোনোভাবেই প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে দেওয়া উচিত নয়। তাদের সামনে প্রযুক্তিপণ্য উন্মোচন করা ঠিক নয়। শিশুর বয়স তিন-পাঁচ বছর হলে দৈনিক বড়জোর এক ঘণ্টা প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত। তবে এখনকার বাস্তবতায় শিশুদের খেলার উপযোগী মাঠের অভাব এবং হাতের নাগালে প্রযুক্তিপণ্য থাকায় তা ব্যবহারে তদারকি কম করা হয়। 

ফলে শিশুরা অতিরিক্ত সময় ধরে প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন শিশুরা কমপক্ষে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে টিভি দেখে বা কোনো প্রযুক্তিপণ্যে গেম খেলে সময় কাটায়। শিশুরা অনেক ক্ষেত্রে মা-বাবার প্রযুক্তিপণ্যের পাসওয়ার্ড পর্যন্ত জেনে যায়। তবে প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহারের কিছু শিক্ষণীয় দিকও রয়েছে বলে মনে করেন গবেষকরা। এখনকার শিশুরা প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করে কোনো কিছু শেখা, ধাঁধা সমাধান করা, শব্দভাণ্ডার বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো শিখে নিতে পারে। এখন শিক্ষার একটি টুল হিসেবেও প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার দেখা যায়। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক, ইলেকট্রনিক গেজেটের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের মানসিক বিকাশে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে :

শিশুদের বিলম্বিত বিকাশ ঘটতে পারে। ফলে বাধাগ্রস্ত হয় শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশ। মারাত্মকভাবে ঘুমের ক্ষতি হতে পারে।

প্রযুক্তির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার শিশুর মাঝে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মনোযোগ ঘাটতি, মনোব্যাধি এবং সন্তানের আচরণগত বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

অনেক সিনেমা, গেমস এবং টিভি শোতে চুরি, যৌনতা, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন বা অঙ্গহানি দেখানো হয়, যা শিশুকে সহিংস হতে উদ্বুদ্ধ করে।

উচ্চ গতিসম্পন্ন গেমস বা মিডিয়া কনটেন্টের কারণে শিশুর মনঃসংযোগে ঘাটতি দেখা যায়। এতে শিশুর পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়; স্কুলের প্রতিও তৈরি হয় অনীহা।

শিশুদের নৈতিক অবক্ষয় ঘটতে পারে।

অতিরিক্ত টিভি দেখা বা কম্পিউটারে বসে থাকা শিশুর চোখের জন্যও ক্ষতিকর। অনেকের চোখে সমস্যা দেখা যায়।

অনেক সময় শিশু শুধু কার্টুনের চরিত্রের নেতিবাচক দিকগুলোই শেখে।

স্থূলতা দেখা দিতে পারে। জরিপে দেখা যায়, ভীষণ মোটা বা স্থূলকায় শিশুদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের আয়ু কম হয়। ডায়াবেটিস, স্ট্রোক হতে পারে তাদের। এ ছাড়া মাথাব্যথাসহ আরও কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।

যা করতে পারি

শারীরিকভাবে বিভিন্ন আউটডোর খেলাধুলার প্রতি শিশুদের আগ্রহী করে তুলতে হবে। 

শিক্ষণীয় গেমস নির্বাচন করুন, কার্টুনের ক্ষেত্রে একই প্রতি অনুসরণ করুন।

শিশুকে সমবয়সী অন্য শিশুর সঙ্গে খেলার সুযোগ করে দিন।

সাধারণত শিশুরা যদি দিনের বেশিরভাগ সময় একা থাকে, তাহলে গেমসের প্রতি আসক্ত হয়ে ওঠে। তাই মা-বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা শিশুকে সময় দিন, যাতে সে নিঃসঙ্গ না থাকে।

শিশুর খেলা ও পড়ার রুটিন করে দিন, যাতে তার পড়ার চাপ না পড়ে আর খেলাধুলার পর্যাপ্ত সময় পায়।

শিশুকে মাঝেমধ্যে বেড়াতে নিয়ে যান। এতে তার মানসিক বিকাশ ঘটবে।

শিশুর বয়স অনুযায়ী তাকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। 

নগরায়নের থাবায় উধাও হয়ে যাচ্ছে খেলার মাঠ। ইট, বালু, পাথরের আড়ালে আটকা পড়েছে শিশুদের বর্ণিল শৈশব। গ্রামের শিশুরা খেলাধুলার কিছুটা সুযোগ পেলেও শহুরে শিশুদের সে সুযোগ কম। 

এমনকি শহরের স্কুলগুলোতেও এখন মাঠ প্রায় নেই বললেই চলে। কিছু ঐতিহ্যবাহী স্কুল ছাড়া খেলার মাঠ দেখাই যায় না। খেলার মাঠ দিতে না পারি, বাড়িতে একচিলতে মেঝে শিশুকে ছেড়ে দিতে পারি খেলার জন্য। দিনের একটা সময় শিশুকে বাড়ির ছাদে কিংবা কাছে-পিঠে কোথাও খোলা জায়গায় নিয়ে যেতে পারি। আপনার একটু মনোযোগ একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করবে আপনার শিশুরই।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.