স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি ছাড়াই এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে তিনজনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাদের সঙ্গে ওই বিভাগে মোট নয়জনকে একই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্নাতক পাস তিনজনকে নিয়োগ দিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী একাধিক যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।






ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে নিয়োগ পাওয়া ওই তিনজন হলেন_ তানভীর আহমেদ, নুরুস সাকিব ও সজীব বড়ূয়া। নতুন নিয়োগ পাওয়া নয়জনই গতকাল মঙ্গলবার যোগদান করেছেন।

ঢাবির একাধিক সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় প্রভাষক পদে আবেদনের প্রাথমিক শর্ত হলো, আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্কলার হতে হবে, উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেছে। বিভাগের চাহিদা ছাড়াই সিন্ডিকেট থেকে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবার বিভাগীয় সিঅ্যান্ডডি (কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ-সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। চারটি পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নয়জনকে। নিয়োগপ্রাপ্ত অন্য ছয়জন হলেন_ ড. শাহরুজ্জামান. মো. সিরাজুর রহমান, শান্তা বিশ্বাস, মো. মিনহাজুল ইসলাম, মো. সাজ্জাদুল ইসলাম ও সৈকত চন্দ্র দে।


যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, যে তিনজনের কথা বলা হচ্ছে, তারা বর্তমানে বুয়েটে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। তাদের অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগ্য বিবেচিত হলে তারা স্থায়ী হবেন। তিনি বলেন, বিএসসি শেষ করে বুয়েটে শিক্ষকতা করা যায়। এখানে সেই দৃষ্টান্তই অনুসরণ করা হয়েছে।

কেমিকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত আগস্টে বিভাগে প্রভাষক পদে চারজন নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন হলে

বিভাগীয় সিঅ্যান্ডডি কমিটি সিন্ডিকেটে চাহিদা পাঠায়। সেখানে অনুমোদনের পর বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। অথচ এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।


জানা যায়, সিলেকশন কমিটি ওই নয় প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সিন্ডিকেটের কাছে সুপারিশ করে। এর পর সোমবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, তানভীর আহমেদ, নুরুস সাকিব ও সজীব বড়ূয়ার মাস্টার্স ডিগ্রি না থাকা নিয়ে আপত্তি তোলেন অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালসহ কয়েকজন সিন্ডিকেট সদস্য। তারা বলেন, এটা করা ঠিক হবে না। এই তিনজন মাস্টার্স সম্পন্ন করে এলে পরে তাদের নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জানান, নিকট অতীতে ঢাবিতে শিক্ষক নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের জানা নেই। প্রতিষ্ঠানটি অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রি দিচ্ছে। এখন নিজেরাই যদি মাস্টার্স ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে দেয়, তবে তা হবে সাংঘর্ষিক।


ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম নুরুল আমিন বলেন, শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব বিভাগ থেকে যায়নি। কতজন আবেদন করেছিলেন, তাও আমরা জানি না। বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে সিলেকশন কমিটিতে বসার পর জানতে পারি, আবেদনকারী ২৩ জন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই অনার্স-মাস্টার্সধারী।

এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান সমকালকে বলেন, ঢাবির শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে যেভাবে এই নিয়োগ হলো, তা ঢাবির মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষকতা পেশায় আসতে অনুৎসাহিত করবে। তবে বিভাগের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে সিন্ডিকেটে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, সিলেকশন কমিটির সুপারিশে সিন্ডিকেট এই নিয়োগ দিয়েছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.