মাস-সপ্তাহ-দিন গোনার দিন শেষ। রাত পোহালেই ভোট। কবে ভোট? আর কত দিন?


 টানা এক বছরের নির্বাচনী আমেজে অস্থির মার্কিনিদের অপেক্ষার সে অস্বস্তি এবার কাটল। আর মাত্র ১২ ঘণ্টা। তার পরই সেই ভাগ্য রচনার দিন। কার হাতে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র, কেমন যাবে সামনের চার বছর, কী আছে যুক্তরাষ্ট্রের ভাগ্যে_ শেষ ভাবনার নতুন উত্তেজনায় ছটফট করছেন প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি ভোটার। সময় মাত্র ১২ ঘণ্টা!




শেষ চেষ্টার তোড়জোড় শুরু হয়েছে দুই প্রার্থীর মধ্যেও। সর্বশক্তি দিয়ে প্রচার-পাল্টা প্রচার চালাচ্ছে ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান দু'পক্ষই। বাকিটা ভোটারদের হাতে। দুই শিবিরেই একই দীর্ঘশ্বাস- দেখা যাক কী হয়!


জরিপ সংস্থাগুলোর একের পর এক পূর্বাভাস দু'পক্ষেরই স্নায়ুচাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ বলছে, ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনই শেষ হাসি হাসবেন। অন্য জরিপে আবার রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পই শেষ পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখবেন।

তরুণ সমাজ ও শ্বেতাঙ্গদের একটি অংশ চাচ্ছে ট্রাম্পকে। অভিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক, ল্যাটিনো, সরকারি চাকরিজীবী, নারী সমাজ, মধ্যবিত্ত, ধনিক শ্রেণি, গণমাধ্যমে হিলারি হিলারি রব। কর ফাঁকি, একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে ট্রাম্প চরিত্রের শতশ্ছিদ্র দশা। ওদিকে এফবিআইর ই-মেইল ফাঁস ছোঁবলে হিলারি যায় যায়! শেষ সময়ে এসে সব যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। সবাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে।


রোববার সিএনএনের সর্বশেষ জরিপ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দৌড়ে হিলারিই এগিয়ে আছেন। ১০০ জনে ৪৭ জনই হিলারিকে চান। ট্রাম্পকে মাত্র ৪২ জন। সিএনএনের ইলেক্টোরাল জরিপেও হিলারি এগিয়ে। ৫৩৮ ইলেক্টোরাল ভোটে ২৬৮টি পাবেন হিলারি। ট্রাম্পের পক্ষে ২০৪ ভোট। ফক্স জরিপের হিসাবে আবার হিলারি-ট্রাম্পের মধ্যে ব্যবধান দুই পয়েন্ট। ৪৫ শতাংশ ভোটারের রায় হিলরির পক্ষে, ট্রাম্পের পক্ষে ৪৩ শতাংশ। জরিপ সংস্থা ন্যাট সিলভারের হিসাবে, হিলারি ক্লিনটনের বিজয়ের সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ। ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ মাত্র। সিলভার মডেলের জনমত, কম করে হলেও ২৯০টি ইলেক্টোরাল ভোট পাবেন হিলারি। ট্রাম্প টেনেটুনে ২৪৮। মুডি'স এনালিটিক্সের ঘোষণা, হিলারিই প্রেসিডেন্ট হবেন।

দুই প্রার্থীর মূল লড়াই চলছে সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রণক্ষেত্রই হলো এই '১২ বেয়াড়া' রাজ্য। এখানকার ভোটারদের নির্দিষ্ট দল-মত নেই। যখন যার, তখন তার। নির্বাচনী প্রচারে দুই প্রার্থীই শ্রম-অর্থ দুই-ই ঢালছেন ১২ ঝুলন্ত রাজ্যে। শেষ দিনেও সুইং স্টেট ভোটারদের দুয়ারেই ঘা দিচ্ছেন প্রার্থীরা। হিলারি ফ্লোরিডায়, ট্রাম্প নেভাদায়। এত কিছুর পরও হিলারি-ট্রাম্প দু'জনই অনিশ্চিত। শেষ দিনেও ভোটারদের মতিগতি স্পষ্ট নয়। জরিপের খবর, প্রার্থীদের বিশ্বাস সবই আসছে রাজ্যগুলোর অতীত ইতিহাস থেকে।

প্রেসিডেন্ট হতে প্রয়োজন ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোট। অ্যারিজোনা, কলোরাডো, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, আইওয়া, মিশিগান, নেভাদা, নিউ হ্যাম্পশায়র, নর্থ কারোলাইনা, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া, উটাহ- ১২ রাজ্যের মোট ইলেক্টোরাল ভোট ১৫৬। ২০০৪ সালে কলোরাডোতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিলেন রিপাবলিকানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জর্জ ডবি্লউ বুশ (জুনিয়র)। তার পর থেকে রিপাবলিকানের ভেতরে ভেতরে একটা বিশ্বাস দানা বেঁধেছিল, কলোরাডো রিপাবলিকানের ঘাঁটি। ওই রাজ্যে আগামীবারও তাদেরই জয় নিশ্চিত। ঘটল উল্টোটা। ২০০৮ সালে দেখা গেল, কলোরাডোতে রিপাবলিকানের ভরাডুবি, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বারাক ওবামার পক্ষে সব ভোট। এবারের জরিপ, কলোরাডোতে হিলারির জয় হবে। কিন্তু হিলারি শিবিরে সে নিশ্চয়তা নেই।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য হলো ফ্লোরিডা। ইলেক্টোরাল ভোট ২৯টি। প্রাণপণে লড়ছেন ট্রাম্প। ভোটারদের মন জয়ের কসরতে কিছু কম করছেন না। জরিপের খবর, ভোট পড়বে হিলারির ঝুলিতে। কিউবান-আমেরিকান, ল্যাটিনোরা এবার হিলারির দিকেই ঝুঁকছে। কিন্তু শ্বেতাঙ্গরা তাকে চাইছেন না। সুতরাং বলা মুশকিল।


হিস্পানিক অধ্যুষিত অ্যারিজোনা শেষ পর্যন্ত হিলারির থাকবে। এটা এক প্রকার নিশ্চিত। ১৯৯৬ সালে বিল ক্লিনটন প্রথম একচেটিয়া ভোট পেয়েছিলেন। তখন থেকেই অ্যারিজোনা 'ডেমোক্র্যাট ঘাঁটি'।

২০০৮, ২০১২ পরপর দু'বারই আইওয়ায় নিজের জনপ্রিয়তার সূর্য দেখেছিলেন ওবামা। সে হিসেবে এবারও ডেমোক্র্যাটদের জয়ের কথা। কিন্তু এ বছর তেমন ঘটার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ওবামার আইওয়া এবার ট্রাম্পের দখলে। হিলারির চেয়ে পাঁচ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন তিনি।

মিশিগান; যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পাঞ্চল সমৃদ্ধ এ অঙ্গরাজ্যে ১৯৮৮ সালে শেষবারের মতো জয়ের মুখ দেখেছিল রিপাবলিকান। তখন থেকেই এটি ডেমোক্র্যাট ঘাঁটি। কিন্তু এবার হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা ডেমোক্র্যাটে। বিশেষ করে তরুণ ও শ্রমিক শ্রেণির অল্প শিক্ষিত ভোটাররা ডেমোক্র্যাট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ট্রাম্পের পেছনে ছুটছেন।

নেভাদায় হিলারি-ট্রাম্প দু'জনই সমান সমান। অথচ ২০১২ সালে এ রাজ্যের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন পেয়েছিলেন ওবামা। 

নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইও- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর দুই রাজ্য। বরাবর এ দুটি রাজ্য নিয়েই ভয়ে থাকেন প্রার্থীরা। নর্থ ক্যারোলাইনা এক অর্থে রিপাবলিকানের ঘাঁটি। ২০১২ সালে এ রাজ্যেই ওবামাকে নাকানি-চুবানি খাইয়েছিলেন মিট রমনি। এবার হিলারির কপালে কী আছে তা শুধু ভোটাররাই জানেন। জরিপে অবশ্য ট্রাম্প।


ওহাইওতে হিলারির জয় হবে বলেই শোরগোল তুলেছে ডেমোক্র্যাট শিবির। কারণ ২০০৮, ২০১২ পরপর দু'বারই ডেমোক্র্যাটরাই সেখানে বিজয়ী।

উটাহ ১৯৬৪ সাল থেকে ডেমোক্র্যাটের দখলে। এবার সেখানেও দ্বিধাদ্বন্দ্ব। আর একটা রাজ্য নিয়ে এবার দ্বিধাদ্বন্দ্ব চলছে ডেমোক্র্যাটে; মিনেসোটা। ১৯৭২ সালে প্রথম একবার পেয়েছিল রিপাবলিকান। আর পায়নি। এবার মিনেসোটার বাতাসে ট্রাম্পের টাকার গন্ধ পেয়েছে গণমাধ্যম। সব মিলিয়ে কী হবে, কী হতে চলেছে, কে হবেন প্রেসিডেন্ট- সবই সময়ের হাতে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.