গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।





 ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘সচেতন নাগরিকবৃন্দ’ ব্যানারে বিশিষ্টজনরা এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। আরও উপস্থিত ছিলেন- ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচায, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রীনা রায়, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন প্রমুখ।

সাত দফার মধ্যে অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- তিনজন সাওতালের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে; এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে; নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ নিরাপত্তাসহ আবারও তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে বসবাসের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে হবে; সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সার্বিক দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে; সব মিথ্যা মামলা অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; বাপ-দাদার ভিটায় আদিবাসীদের প্রতিষ্ঠা করা ফুলমনি মুরমু শিশু শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্র সরকারি খরচে নির্মাণ করতে হবে এবং ঘটনার জন্য দায়ী স্থানীয় প্রশাসনকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতালের মৃত্যু এবং পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে সচেতন নাগরিকবৃন্দ ব্যানারে বিশিষ্টজনরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

‘গাইবান্ধায় সাঁওতালদের ওপর অমানবিক নির্যাতনে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ও নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রী, সচিব থেকে শুরু করে অনেকে মিডিয়ার সামনে বলেছেন- এই জমি কখনও সাঁওতালদের ছিল না। এটি সম্পূর্ণ অসত্য ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল। আমরা যে কথাটি বলতে চাই, তা হল এটা সাঁওতাল এবং স্থানীয় দরিদ্র মানুষের বাপ-দাদার জমি। আমরা এই জমির খতিয়ান কপি পেয়েছি। তাতে দুদু মাঝি, দুর্গা মাঝি, জলপা মাঝি, মঙ্গলা মাঝি, মুংলি, চারো মাঝি, সুকু মাঝি- এই সব অনেক নাম পেয়েছি, যাদের জমি ছিল বাগদা ফার্মের মধ্যে। সাঁওতালরা বলেছেন, সাঁওতাল বাগদা সরেনের নাম অনুসারে এই ফার্ম পরিচিত পায়।’

পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে শিল্পমন্ত্রী আমির  হোসেন আমুর সঙ্গে কথা বলেছি। এর সমাধান চাই। জবাবে তিনি বলেছেন, ‘প্রশাসনের যারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের বরখাস্ত না, শাস্তি দাবি করছি।’

গোবিন্দগঞ্জে সাড়ে পাঁচ হাজার একর জমির মধ্যে সাড়ে চার হাজারই সাঁওতালদের জানিয়ে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত বলেন, বিগত ৩শ’ বছর ধরে উপমহাদেশের রাষ্ট্রগুলো ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুবৃর্ত্তরা এ হামলাগুলো চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আদিবাসীর ওপর যখনই অত্যাচারের ঘটনা যখনই ঘটে, সরকার চোখ বন্ধ করে থাকে। আদিবাসীরা সৎ। এ জন্য তারা ৬ নভেম্বর ঘটনার দিন তীরের ডগায় বিশেষ কিছু ব্যবহার করেনি; ব্যবহার করলে যারা তিরবিদ্ধ হয়েছে, তারা সবাই মারা যেত। অথচ পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে তিনজনকে হত্যা করেছে।

কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সরকার হতদরিদ্র সাঁওতালদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর মতো বলপ্রয়োগ করেছে। এ ধরনের ঘটনা কেন ঘটল, সেটার তদন্ত করতে হবে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ও আহত প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.