মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক বেশ ভালো বলে দেশটির গণমাধ্যম দাবি করে আসছে। যুক্তি হিসেবে তারা ট্রাম্পের রাশিয়াপ্রীতির নানা উদাহরণ তুলে ধরেছে। প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রুশ কর্তৃপক্ষ চায় যে ট্রাম্প জয়ী হোক। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হলে তারা খুশি হবে।

রুশ কর্তৃপক্ষ চায় , ট্রাম্প জয়ী হোক


বিশ্বের ক্ষমতাধর দুই রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের কথা সবাই জানে। এ অবস্থায় রাশিয়া কেন ট্রাম্পের জয়ে খুশি হবে—এ প্রশ্ন মনে আসাই স্বাভাবিক। এর উত্তরই খোঁজা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।


উত্তরে সবার আগে আসে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা। ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও মার্কিন ব্যবসায়ী। সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যিক বিভিন্ন সম্পর্কের কথা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এসব ব্যবসায়িক সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সুসম্পর্কের কথাও প্রকাশ পেয়েছে।


২০১২ সাল থেকে ট্রাম্প রাশিয়ায় সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করছেন। এবার মিস ইউনিভার্স রাশিয়া পর্বের আয়োজনে দেশটিতে যান তিনি। ওই সময় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ পাঠান। ব্যক্তিগত ওই আমন্ত্রণপত্রে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং এর আগে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা বলা হয়। শেষ মুহূর্তে ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। তবে ট্রাম্পকে বিশেষ উপহার পাঠান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।


রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক বহু পুরোনো। ব্যবসা বাড়ানোর লক্ষ্যে গত শতাব্দীর আশির দশক থেকেই রাশিয়ায় বহুবার ভ্রমণ করেছেন ট্রাম্প পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রাশিয়ার ধনকুবেরদের কাছে বাড়ি বিক্রি করেছেন। ২০০৮ সালে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয়ের কথা তিনি নিজেই জানান। আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশংসা তো তিনি হরহামেশাই করেন। পুতিন সম্পর্কে মার্কিন রাজনীতিকেরা নেতিবাচক মনোভাবই দেখান। তাঁদের অভিযোগ, পুতিন আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না।


শুধু যে ট্রাম্পই পুতিনের প্রশংসা করেছেন, এমন নয়; পুতিনও ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেছেন যে তিনি ‘বর্ণিল ও প্রতিভাধর’।


প্রতিবেদনে ট্রাম্প সম্পর্কে রুশ কর্তৃপক্ষের আগ্রহ বিষয়ে বলা হয়েছে, এই দুই পক্ষই মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারিকে তাঁর বিদেশনীতির কারণে পছন্দ না করার ব্যাপারে তাদের দুই পক্ষেরই মিল আছে।


মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, উইকিলিকসে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির ই-মেইল ফাঁসের ঘটনায় রাশিয়া যুক্ত। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক ডেপুটি পরিচালক মাইকেল মরেল বলেন, ট্রাম্প রাশিয়ার এজেন্টে পরিণত হয়েছেন।


ট্রাম্পের ব্যাপারে রুশদের খুশি না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাশিয়ার একাডেমি অব সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের প্রধান ভেলোরি গার্ভচেব। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ট্রাম্প তাঁর প্রতিশ্রুতি রাখবেন কি না, সেটাই দেখার বিষয়।



Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.