বিদ্যালয়ের মাঠটি বাজার উন্নয়নের জন্য রাখা পাইপ-রিং ও ইটের খোয়ার স্তূপে ঠাসা। পাশেই বসেছে হাট। বিদ্যালয়ে ঢোকার পথটিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মাঠে জায়গা না পেয়ে  দিন বিদ্যালয়ের বারান্দায় চলে ক্লাস-পূর্ববর্তী সমাবেশ (অ্যাসেমব্লি)। সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে আগেই। আর তুমুল হইচইয়ের মধ্যেই শ্রেণিকক্ষে চলে পাঠদান।


উন্নয়নের বিড়ম্বনা !


বিদ্যালয়টির নাম চিনাটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অবস্থান যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নে।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে বিদ্যালয়ের মাঠে সপ্তাহে দুদিন—মঙ্গলবার ও শুক্রবার হাঁস-মুরগি ও কবুতরের হাট বসে। 


এ ছাড়া মৌসুমে ধান, গম, গুড় ও গাছের চারার হাট বসে। অনেক সময় হাটের কার্যক্রম মাঠ ছাপিয়ে বিদ্যালয়ের বারান্দা পর্যন্ত চলে আসে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিনাটোলা বাজার উন্নয়নের বিড়ম্বনা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে গত মে মাসের শেষের দিকে এ উন্নয়নকাজ শুরু হয়। বাগেরহাটের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম (বাশি) এমই-জেভি কাজটি বাস্তবায়ন করছে।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মাত হোসনে আরা খাতুন বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে ইট-বালুসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিদ্যালয়ের মাঠে এনে রাখা শুরু হয়। এ জন্য অনুমতির তোয়াক্কা করেনি বাজার উন্নয়নের কাজ পাওয়া ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ। বিদ্যালয় চলাকালেই মাঠে যন্ত্র দিয়ে ইট ভেঙে খোয়া বানানো হয়। খোয়া, সিমেন্ট, বালু ও রড দিয়ে সেখানেই তৈরি করা হয় পাইপ, রিংসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। বিকট শব্দে শ্রেণিকক্ষে টেকা দায় হয়ে পড়ে।


গত ২৫ অক্টোবর সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়ে দুই শতাধিক পাইপ ও রিং। দক্ষিণ পাশে কিছুটা ব্যবধানে দুটি ইটের খোয়ার স্তূপ। মাঠের পশ্চিম পাশে বসেছে হাঁস-মুরগি ও কবুতরের হাট। তার পাশে বিক্রি হচ্ছে গাছের চারা। মাঠের মাঝে রাখা হয়েছে কয়েকটি ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যান।


বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে নির্মাণসামগ্রী রাখায় বর্তমানে শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা ও স্কাউটিংসহ সব কার্যক্রমই বন্ধ রয়েছে। টিফিনের সময়ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাঠে গিয়ে খেলতে পারে না। জাতীয় সংগীত পরিবেশনসহ অ্যাসেমব্লির সব কাজ সারতে হয় বিদ্যালয়ের বারান্দায়।


বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মহাদেব কুন্ডু বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠে বাজার কমিটির সামান্য জমি আছে। এ জন্য সেখানে হাট বসছে। তবে ঠিকাদার আমাদের না জানিয়ে মাঠে মালামাল রেখেছেন।’ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল জব্বার সরদার বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানো কিংবা মালামাল রাখার কোনো নিয়ম নেই। সেগুলো সরিয়ে ফেলতে উপজেলা প্রকৌশলী মো. জহির মেহেদী হাসানকে বারবার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। উপজেলা প্রকৌশলী তাঁকে বলেছেন, দ্রুত মালামাল সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।


ঠিকাদারদের একজন জিল্লুর করিম বলেন, ‘২০-২৫ দিনের মধ্যে স্কুলের মাঠ থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হবে।’ অনুমতি না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের মালামাল সাধারণত পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে রাখা হয়। এখানেও সেভাবেই রাখা হয়েছে।


চিনাটোলা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূর আলী বলেন, ‘স্কুলের মাঠে মালামাল রাখা যায় না, এটা ঠিক। কিন্তু বাজারের উন্নয়নের স্বার্থে মালামাল রাখতে হয়েছে। এতে মাঠের ভীষণ ক্ষতি হয়েছে।’



Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.