একদিন আগেও আনন্দের আতশবাজি ফুটছিল হিলারির দলে। ডেমোক্র্যাটদের সেই উৎসবে বাজ ফেললেন এফবিআইপ্রধান জেমস কমি। গত শুক্রবার ই-মেইল তদন্তের পুরনো ঝামেলাটা নতুন করে টেনে তুললেন কমি। তার পর থেকেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার একটা উটকো ভয় এসে ভর করেছে ডেমোক্রেটে। ভোটের আগেই নতুন করে আরেক দফার ই-মেইল কেলেঙ্কারিকে ভালো চোখে দেখছেন না দলের ভোটার-সমর্থকরা। কী হয়, না হয় ভেবে হিলারির প্রচারশিবিরও শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।






এদিকে, রিপাবলিকান শিবিরের হালচাল পুরোটাই উল্টো। হিলারির সমর্থকদের হতভম্ব দশায় খুশির ফোয়ারা ছুটছে রিপাবলিকানে। রঙ্গ-ব্যঙ্গ, হৈচৈ, আনন্দ-উল্লাসের ঝড় উঠেছে রিপাবলিকান প্রচার শিবিরেও। হিলারির বিরোধী মিছিলে নেমেছেন ট্রাম্প সমর্থকরা। 'লক হার আপ', অর্থাৎ হিলারিকে জেলে ঢোকাও, ডু ইট, ডু ইট এসব স্লোগানে রাজ্যে রাজ্যে ঢাক পেটাচ্ছে রিপাবলিকানরা।


হিলারির বিরুদ্ধে তদন্তের কথা শুনে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন রিপাবলিকানের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ হ্যাম্পশায়ারের এক প্রচারেও তিনি বলেছেন, হিলারির এই ই-মেইল কেলেঙ্কারি রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির চেয়েও ভয়াবহ। ট্রাম্প আরও বলেন, 'হিলারি ক্ষমতায় থাকাকালে যে পরিমাণ দুর্নীতি করেছেন, তা আমরা এর আগে কখনও দেখিনি। আমরা তাকে তার দুর্নীতি নিয়ে ওভাল অফিসে যেতে দিতে পারি না।'


সাহস দেখানোর জন্য এফবিআইর প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, সম্ভবত শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার হয়েছে।


অন্যদিকে ট্রাম্পের পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প বলছেন, হিলারির ই-মেইল তদন্তে তার শ্বশুর ট্রাম্পই এফবিআইকে বাধ্য করেছেন। শুক্রবার ডবি্লউএবিসি রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন লারা। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত এ ঘটনা এখনই ঘটত না যদি তিনি (ট্রাম্প)চাপাচাপি না করতেন। কারণ প্রথম থেকেই আমার শ্বশুর বলে আসছিলেন, হিলারি প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য। যে যাই বলুক, নতুন করে ই-মেইল তদন্তের খবরে মোটেও বিচলিত নন হিলারি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, এ নিয়ে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে না। ই-মেইলগুলো নিয়ে তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। উল্টো এফবিআইকে চ্যালেঞ্জ করে হিলারি বলেছেন, চটজলদি ই-মেইলের স্পষ্ট ও পরিপূর্ণ সত্য প্রকাশ করুন- আমেরিকানরা জানতে চায়।


সম্প্রতি হিলারি ক্লিনটনের শীর্ষ সহযোগী হুমা আবেদিনের স্বামী সাবেক কংগ্রেসম্যান অ্যান্থনি ওয়েনারের কাছ থেকে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করে এফবিআই। সে ডিভাইসে হিলারির কিছু ই-মেইলও পাওয়া গেছে। তাতেই ধরা পড়ে, হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে বেসরকারি সার্ভারও ব্যবহার করতেন। শুক্রবার সে বিষয়টি নিয়েই মার্কিন কংগ্রেসে চিঠি লেখেন এফবিআইপ্রধান কমি।


চিঠিতে কমি লিখেছেন, হিলারির নতুন কিছু ই-মেইল পাওয়া গেছে, যা সরকারি নয়। আগে ফাঁস হওয়া ই-মেইলের সঙ্গেও এর কোনো সম্পর্ক নেই। হিলারির বিরুদ্ধে কোনো ক্রিমিনাল চার্জও আনা হবে না। কারণ তাতে রাষ্ট্রের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। তার পরও বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে বলে জানান কমি।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.