জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) গঠন করেছিল ২০০২ সালে। আইএমএফের পরামর্শে 'পরীক্ষামূলক'ভাবে চালু হওয়া এই বিশেষ কর ইউনিট গঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে_ প্রচলিত সেবার পাশাপাশি আধুনিক ও যুগোপযোগী করবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ ব্যবস্থায় এলটিইউয়ের আওতায় আনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সবার ঘরে বসে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। করদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন হয় না। অডিটের নামে হয়রানির আশঙ্কা নেই। এলটিইউ সফল হলে অন্যান্য কর অঞ্চলে এই মডেল অনুসরণ করার কথা ছিল। তবে চালু হওয়ার এক যুগের বেশি সময়ের পর এলটিইউয়ের কার্যক্রমের সফলতা নিয়ে কথা উঠেছে। বলা হচ্ছে, যে উদ্দেশ্যে এটি চালু করা হয়েছিল, সেটি অর্জনে তা ব্যর্থ হয়েছে। 


এলটিইউয়ের মাধ্যমে প্রতি বছর আয়কর আদায় বাড়ার কথা থাকলেও উল্টো কমে গেছে। এলটিইউয়ের আওতায় আনা বড় প্রতিষ্ঠান ও করদাতার অনেক ফাইল এখন অকেজো। এখানে যেভাবে নিরীক্ষার দরকার, সে অনুযায়ী হচ্ছে না। সেবার মান কমে যাওয়ায় আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন করদাতারা। এমন বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি আয়কর আদায়কারী এ বিভাগকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে মতবিনিময় সভা করে এনবিআর। 



চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এ সভায় এ ইউনিটে কর্মরত এনবিআরের সাবেক সদস্যদের ডাকা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। সভায় এ ইউনিটকে শক্তিশালী করতে পুনর্গঠনসহ বেশ কিছু পরামর্শ উঠে এসেছে। যেসব আয়করদাতা বা প্রতিষ্ঠানের ফাইল নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, তার কারণ খুঁজতে এবং ইউনিটটির কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করতে একটি সমীক্ষা চালানোর পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা। এনবিআরের এক কর্মকর্তা  বলেন, পরামর্শগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই সে অনুযায়ী কাজ শুরু করা হবে। 

বর্তমানে এলটিইউতে খ্যাতনামা বড় কোম্পানি ও তাদের পরিচালকদের এক হাজার ছয়টি আয়কর ফাইল রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ অর্থাৎ তিনশ' ফাইল নিষ্ক্রিয় । নিয়মিত রিটার্ন জমা না দেওয়ায় এসব ফাইল থেকে কোনো কর আদায় হচ্ছে না। যে কারণে আদায় কমে গেছে। সূত্র বলেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য আগের চেয়ে কমে যাওয়ায় তাদের আয় কমে গেছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসান দিচ্ছে। এসব কারণে কর পরিশোধ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদের নামের তালিকা তৈরি করেনি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এনবিআরের মাধ্যমে প্রতি বছর যে পরিমাণ আয়কর আদায় হয়, তার ২৫ শতাংশ আসে এ ইউনিটের মাধ্যমে। সূত্র জানায়, এলটিইউ গঠনের প্রথম দিকে এর মাধ্যমে আদায় হয়ে ছিল মোট আয়করের ৩৫ শতাংশ। 

যেখানে প্রতি বছর আদায় বাড়ার কথা, সেখানে বরং কমে গেছে। 

এনবিআরের সাবেক সদস্য ও এলটিইউ চালুর সময়কার কমিশনার এএসএম জহির মোহাম্মদ  বলেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে এটি চালু করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রিটার্ন দিতে পারছে না, তাদের চিহ্নিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কেন দিতে পারছে না তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য একটি কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ইউনিটের সার্বিক কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের জন্য একটি সমীক্ষা চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আরেক সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, এলটিইউকে শক্তিশালী করতে হলে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.