বাংলাদেশি পাটপণ্যে উচ্চহারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে ভারত। দেশটির সংশ্লিষ্ট সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব অ্যান্টি-ডাম্পিং অ্যান্ড অ্যালাইড ডিউটিজ (ডিজিএডি) তাদের সরকারের কাছে বাংলাদেশের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিভিন্ন হারে শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে। এখন ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করলেই বাংলাদেশের পাটপণ্যকে ভারতে শুল্ক দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।







পাটপণ্যে শুল্ক আরোপের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার ‘ফাইনাল ডিটারমিনেশন’ (বিস্তারিত যুক্তিসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন) জারির মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানিয়েছে ডিজিএডি। এতে দেখা যায়, সুপারিশ অনুযায়ী শুল্ক আরোপ করা হলে বাংলাদেশের বেশির ভাগ রপ্তানিকারককে পাট সুতায় টনপ্রতি ৯৭ থেকে ১৬২ ডলার, চট ৩৫২ ডলার এবং বস্তায় ১২৫ থেকে ১৩৯ ডলার পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে।
পাটপণ্যে ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান বাজার। দেশের মোট পাটপণ্য রপ্তানি আয়ের ২২ শতাংশ আসে ভারত থেকে। নিয়ম অনুযায়ী, ফাইনাল ডিটারমিনেশন জারির তিন মাসের মধ্যে ভারত সরকার শুল্ক আরোপ করবে। এরপর বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা ডিজিএডির কাছে আপিল করতে পারবেন। সেখানে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যেতে পারবে। রপ্তানিকারকেরা বলছেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে বিষয়টির সমাধান চান।
বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি আহমদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শুল্ক আরোপ করা হলে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিতে ব্যাপক ধস নামবে। অনেক মিল বন্ধ হয়ে যাবে। চূড়ান্তভাবে পাটের দাম কমে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকেরা। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে অনেক কিছুই করা সম্ভব।
জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগামী নভেম্বরে একটি প্রতিনিধি দল ভারতে যাবে। তখন বিষয়টি দেশটির সরকারের কাছে তোলা হবে।
কোনো দেশ স্বাভাবিক দামের চেয়ে কম দামে কোনো পণ্য রপ্তানি করলে তাকে ডাম্পিং বলে গণ্য করতে পারে আমদানিকারক দেশ। এ ক্ষেত্রে তদন্ত করে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা যায়। ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (আইজেএমএ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২০ অক্টোবর ডিজিএডি বাংলাদেশকে ডাম্পিং বিষয়ে তদন্তের নোটিশ দেয়। এরপর তারা বাংলাদেশের প্রায় আড়াই শ পাট রপ্তানিকারককে প্রশ্নপত্র পাঠায়। এর মধ্যে ২৬টি রপ্তানিকারক কোম্পানি প্রশ্নপত্রের উত্তর দিয়েছে। তদন্ত শেষে গত ১২ অক্টোবর সংস্থাটি বাংলাদেশকে ‘ডিসক্লোজার’ পাঠায়, যেখানে ডাম্পিংয়ের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার তারা ফাইনাল ডিটারমিনেশন জারি করে।
ডিজিএডি নেপালের কয়েকটি কোম্পানির ওপরও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে।
কোন পাটকলের ওপর কত শুল্ক: ভারতীয় সংস্থাটি ১৩টি কোম্পানির ওপর শুল্কহার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এর মধ্যে পাট সুতায় প্রতি টনে প্রাইড জুট মিলকে ১০৪ ডলার, শরিফ জুট ১৫৩, আনোয়ার জুট স্পিনিং ১১০, সিডলো টেক্সটাইলস ১০৩, সাগর জুট স্পিনিং ১০৩, জনতা জুট ২১, আশা জুট ১৯, সোনালি আঁশ ২০ এবং আলীজান জুট মিলকে ২০ ডলার শুল্ক দিতে হবে। এ ছাড়া বস্তা রপ্তানিতে সিডলো জুট মিলের ওপর টনপ্রতি ১২৭ ডলার শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।
যেসব মিল প্রশ্নপত্রের উত্তর দিয়েছে, কিন্তু তদন্তের নমুনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তাদের ওপর পাট সুতা রপ্তানিতে প্রতি টনে ৯৭ ডলার, চটে ৩৫২ এবং পাটের বস্তায় ১২৫ ডলার শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে ডিজিএডি। যারা প্রশ্নপত্রের উত্তর দেয়নি, তাদের ওপর পাট সুতায় টনপ্রতি ১৬২ ডলার, চট ৩৫২ এবং বস্তায় ১৩৯ ডলার শুল্ক আরোপ করার সুপারিশ করে সংস্থাটি।
অন্যদিকে ডাম্পিংয়ের প্রমাণ না পাওয়ায় পাট সুতা ও বস্তা রপ্তানিতে হাসান জুট মিল এবং চট রপ্তানিতে জনতা জুট মিলের ওপর শুল্ক আরোপ না করার সুপারিশ করা হয়েছে।
রপ্তানি কমবে: ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাটপণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রায় ৭৫ কোটি ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে ভারতে গেছে প্রায় ১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পাটপণ্য। বিজেএসএর তথ্য অনুযায়ী, বিগত অর্থবছর ভারতে পাট সুতা রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ৭১ শতাংশ।
ভারত দাবি করেছে, দেশীয় উৎপাদনকারীদের মুনাফা ও বিক্রি কমে যাওয়ায় তাদের ইনজুরি মার্জিন (ক্ষতি) চটে ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, পাট সুতায় ২৭ দশমিক ৮৯ এবং বস্তায় ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তদন্তাধীন বছরে বাংলাদেশি পাটপণ্য ভারতের ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাজার দখলে ছিল।
জানতে চাইলে আলীজান জুট মিলের পরিচালক মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারি প্রথম আলোকে বলেন, ভারতে এখন আর বস্তা ও চট খুব একটা রপ্তানি হচ্ছে না। যেটুকু যাচ্ছে তা পাট সুতা। নতুন করে শুল্ক আরোপ করলে পাটপণ্য রপ্তানি কমে যাপাটপণ্যে শুল্ক আরোপের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার ‘ফাইনাল ডিটারমিনেশন’ (বিস্তারিত যুক্তিসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন) জারির মাধ্যমে বাংলাদেশকে জানিয়েছে ডিজিএডি। এতে দেখা যায়, সুপারিশ অনুযায়ী শুল্ক আরোপ করা হলে বাংলাদেশের বেশির ভাগ রপ্তানিকারককে পাট সুতায় টনপ্রতি ৯৭ থেকে ১৬২ ডলার, চট ৩৫২ ডলার এবং বস্তায় ১২৫ থেকে ১৩৯ ডলার পর্যন্ত শুল্ক দিতে হবে।
পাটপণ্যে ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান বাজার। দেশের মোট পাটপণ্য রপ্তানি আয়ের ২২ শতাংশ আসে ভারত থেকে। নিয়ম অনুযায়ী, ফাইনাল ডিটারমিনেশন জারির তিন মাসের মধ্যে ভারত সরকার শুল্ক আরোপ করবে। এরপর বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা ডিজিএডির কাছে আপিল করতে পারবেন। সেখানে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) যেতে পারবে। রপ্তানিকারকেরা বলছেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে বিষয়টির সমাধান চান।
বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি আহমদ হোসেন বলেন, শুল্ক আরোপ করা হলে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানিতে ব্যাপক ধস নামবে। অনেক মিল বন্ধ হয়ে যাবে। চূড়ান্তভাবে পাটের দাম কমে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকেরা। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে অনেক কিছুই করা সম্ভব।
জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগামী নভেম্বরে একটি প্রতিনিধি দল ভারতে যাবে। তখন বিষয়টি দেশটির সরকারের কাছে তোলা হবে।
কোনো দেশ স্বাভাবিক দামের চেয়ে কম দামে কোনো পণ্য রপ্তানি করলে তাকে ডাম্পিং বলে গণ্য করতে পারে আমদানিকারক দেশ। এ ক্ষেত্রে তদন্ত করে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা যায়। ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (আইজেএমএ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২০ অক্টোবর ডিজিএডি বাংলাদেশকে ডাম্পিং বিষয়ে তদন্তের নোটিশ দেয়। এরপর তারা বাংলাদেশের প্রায় আড়াই শ পাট রপ্তানিকারককে প্রশ্নপত্র পাঠায়। এর মধ্যে ২৬টি রপ্তানিকারক কোম্পানি প্রশ্নপত্রের উত্তর দিয়েছে। তদন্ত শেষে গত ১২ অক্টোবর সংস্থাটি বাংলাদেশকে ‘ডিসক্লোজার’ পাঠায়, যেখানে ডাম্পিংয়ের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার তারা ফাইনাল ডিটারমিনেশন জারি করে।
ডিজিএডি নেপালের কয়েকটি কোম্পানির ওপরও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে।
কোন পাটকলের ওপর কত শুল্ক: ভারতীয় সংস্থাটি ১৩টি কোম্পানির ওপর শুল্কহার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এর মধ্যে পাট সুতায় প্রতি টনে প্রাইড জুট মিলকে ১০৪ ডলার, শরিফ জুট ১৫৩, আনোয়ার জুট স্পিনিং ১১০, সিডলো টেক্সটাইলস ১০৩, সাগর জুট স্পিনিং ১০৩, জনতা জুট ২১, আশা জুট ১৯, সোনালি আঁশ ২০ এবং আলীজান জুট মিলকে ২০ ডলার শুল্ক দিতে হবে। এ ছাড়া বস্তা রপ্তানিতে সিডলো জুট মিলের ওপর টনপ্রতি ১২৭ ডলার শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।
যেসব মিল প্রশ্নপত্রের উত্তর দিয়েছে, কিন্তু তদন্তের নমুনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তাদের ওপর পাট সুতা রপ্তানিতে প্রতি টনে ৯৭ ডলার, চটে ৩৫২ এবং পাটের বস্তায় ১২৫ ডলার শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে ডিজিএডি। যারা প্রশ্নপত্রের উত্তর দেয়নি, তাদের ওপর পাট সুতায় টনপ্রতি ১৬২ ডলার, চট ৩৫২ এবং বস্তায় ১৩৯ ডলার শুল্ক আরোপ করার সুপারিশ করে সংস্থাটি।
অন্যদিকে ডাম্পিংয়ের প্রমাণ না পাওয়ায় পাট সুতা ও বস্তা রপ্তানিতে হাসান জুট মিল এবং চট রপ্তানিতে জনতা জুট মিলের ওপর শুল্ক আরোপ না করার সুপারিশ করা হয়েছে।
রপ্তানি কমবে: ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাটপণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রায় ৭৫ কোটি ডলার আয় করেছে। এর মধ্যে ভারতে গেছে প্রায় ১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পাটপণ্য। বিজেএসএর তথ্য অনুযায়ী, বিগত অর্থবছর ভারতে পাট সুতা রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ৭১ শতাংশ।
ভারত দাবি করেছে, দেশীয় উৎপাদনকারীদের মুনাফা ও বিক্রি কমে যাওয়ায় তাদের ইনজুরি মার্জিন (ক্ষতি) চটে ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, পাট সুতায় ২৭ দশমিক ৮৯ এবং বস্তায় ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তদন্তাধীন বছরে বাংলাদেশি পাটপণ্য ভারতের ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাজার দখলে ছিল।
জানতে চাইলে আলীজান জুট মিলের পরিচালক মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারি বলেন, ভারতে এখন আর বস্তা ও চট খুব একটা রপ্তানি হচ্ছে না। যেটুকু যাচ্ছে তা পাট সুতা। নতুন করে শুল্ক আরোপ করলে পাটপণ্য রপ্তানি কমে যাবে।


Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.