চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করে এইচএসসি পর্যায়ে লেখাপড়া করছেন এমন তিন হাজার ৩৭ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছে বেসরকারি ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। আগামী দুই বছর নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি সুবিধা পাবেন।



শনিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থের চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ঢাকায় কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনওয়া পিয়ের লাঘামে বিশেষ অতিথি ছিলেন।


বৃত্তি হিসেবে প্রতি শিক্ষার্থী মাসে দুই হাজার টাকা পাবেন। আর পাঠ্য উপকরণ কেনার জন্য আড়াই হাজার টাকা এবং পোশাক-পরিচ্ছদ কেনা বাবদ বছরে এককালীন এক হাজার টাকা পাবেন। ব্যাংকটি সামাজিক কল্যাণ কার্যক্রমের আওতায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে আসছে।




অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় অতীত ও বর্তমান যুগের শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি মনে করেন, বর্তমানে শিক্ষা গ্রহণ বা যে কোনো বিষয়ে জ্ঞান অর্জন আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ও ভিডিও ব্যবস্থা জ্ঞান অর্জনকে সহজ করে দিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি শিক্ষার্থীদের সাবধানও করেন। অর্থমন্ত্র বলেন, ভিডিও অনেক বিষয় সহজ করে দিয়েছে। গুগল অনেক ক্ষেত্রে বলে থাকে যে তাদের (গুগলের) কোনো ভুল থাকলে শুদ্ধ করে দিতে। অনেকেই তা দেয় না। এ জন্য বলব, যে জ্ঞান অতি সহজে পাওয়া যাচ্ছে, সেই জ্ঞান সবসময় পরিশুদ্ধ নাও হতে পারে।

অর্থমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আজীবন ছাত্র হওয়ার ব্রত নিতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আমার বয়স ৮৩ বছর পেরিয়ে গেছে। প্রতি মুহূর্তে কিছু শিখছি। সেগুলো প্রয়োগও করছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ দিয়ে ১৮ বছরের আগে বিয়ে না দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার শিক্ষাকে দারিদ্র্য মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। এজন্য শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে সমাজ ও জাতির বহুমুখী উন্নয়ন হচ্ছে। ডাচ্-বাংলার বৃত্তি অন্য ব্যাংকগুলোর জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনওয়ার পিয়ের লাঘামে বলেন, শিক্ষা সব শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এই উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে বৃত্তি পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করেন বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ডালিয়া আক্তার ও শারমীন আক্তার, নটর ডেম কলেজের রাহাত রানা এবং পঞ্চগড়ের কমলাপুর হাইস্কুলের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম। শিক্ষার্থীরা বলেন, এই বৃত্তি তাদের শিক্ষা অর্জনে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ায় আশাও জাগিয়েছে।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সায়েম আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএস তাবরেজ সমাপনী বক্তব্য রাখেন। এ সময় অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএস তাবরেজ জানান, ডাচ-বাংলা ব্যাংক এই সামাজিক কল্যাণ কর্মসহৃচির আওতায় এসএসসি থেকে স্নাতক পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৪১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে বৃত্তি গ্রহণ করছেন ১৭ হাজার ৯৬৩ শিক্ষার্থী।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.