খাদ্য উৎপাদনে গত কয়েক বছরে বড় সাফল্য এসেছে। ক্ষুধা, মঙ্গা, খরা কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দারিদ্র্যের হারও কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ২ শতাংশ। এর পরও দেশের শিশুদের একটি বড় অংশ অপুষ্টির শিকার। এজন্য প্রতিবছর প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ৮০ টাকা) এর পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকা।



জাতিসংঘের বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়। বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের  এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামালের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব শহিদুল ইসলাম, জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির প্রতিনিধি ক্রিসটা রাদের এবং চিফ অফ স্টাফ জেমস হার্ভে এ সময় বক্তব্য রাখেন।

‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার কৌশল পর্যালোচনা এবং পুষ্টিহীনতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের ডব্লিউএফপি তৈরি করে। এ সংক্রান্ত গবেষণা দলের প্রধান ছিলেন নর্দান আয়ারল্যান্ডের আলস্টার ইউনিভার্সিটির উন্নয়ন অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান ওসমানী। এ দলটি ১০ মাস ধরে গুণগত ও পরিমাণগতসহ নানা পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অপুষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা প্রভৃতি ইস্যু নিয়ে গবেষণার পর এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ঢাকা সফরে অপুষ্টি দূর করতে ১০০ কোটি ডলার সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ প্রায় চার কোটি মানুষ এখনো খাদ্য সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের খাদ্য সংকট প্রকট। এমনকি তিনবেলা পেটপুরে খাওয়া তাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ইচ্ছেমতো বৈচিত্র্যময় খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। তারা অপুষ্টিরও শিকার। নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে গেলেও এখনো প্রতি তিনজনে একটি শিশু নিপীড়নের শিকার। নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও গত কয়েকবছরে দেশের অতি অপুষ্টিহীনতার হার সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। দেশের গ্রামাঞ্চল ও বস্তিতে এ প্রবণতার হার বেশি। একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় খাদ্য সংকট ও অপুষ্টিকে প্রধান অ্ন্তরায় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডব্লিউএফপি অপুষ্টি দূর করতে কিছু সুপারিশ করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে খাদ্যে নিরাপত্তা অর্জন করতে হবে। অপুষ্টির হার কমাতে গণসচেতনতাসহ সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বরাদ্দ, দায়িত্ব সচেতনতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। সমাজের প্রতিটি নাগরিককে এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। নারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কৃষি ক্ষেত্রে চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও চাষাবাদের পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। জোরদার করতে হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে আগামী বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হবে। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য প্রতিবন্ধক। এছাড়া অপুষ্টিও আমাদের অন্যতম সমস্যা। এ দু’টি সমস্যা মোকাবেলায় সামাজিকভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে।

ডব্লিউএফপির চিফ অব স্টফ বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ভালো। ২০২১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিকল্পনা করছে। এ সময় সরকারকে অপুষ্টি দূর করার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

অধ্যাপক ওসমানী বলেন, অর্থনৈতিক উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে লাভ নেই যদি দেশের মানুষ না খেয়ে থাকে এবং অপুষ্টিতে ভোগে। ১৯৭০ সালে যে খাদ্য সংকট ছিল তা এখন নেই। তবে বাংলাদেশের শিশুদের অপুষ্টি দূর করতে অনেক কিছু করার রয়েছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.