ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার পর আজ সোমবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে অংশ নিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।


বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। তবে আওয়ামী লীগের গত দুই মেয়াদের সাধারণ সম্পাদক জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেননি। প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি এড়িয়ে গেছেন। বলেছেন, পরে একদিন কথা বলবো।

দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়লেন কেন? নতুন সাধারণ সম্পাদক নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কি? জবাবে সৈয়দ আশরাফ শুধু বলেন, সময় হলে এ বিষয়ে পরে কথা বলব।

আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সরাসরি তিনি ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে বের হন।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে কাদের সবার উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা। এরপর কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, ধানমন্ডি পার্টি অফিসে সবাই বসে আছে। ওখানে গিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলব। এরপরই বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন সৈয়দ আশরাফ। সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন। কিন্তু কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি গাড়ির দিকে এগিয়ে যান।

২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার পর দুঃসময়ে দলের হাল ধরতে এগিয়ে আসা আশরাফ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফের ওপর ভরসা রেখে তাকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে আনেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের নেতাকর্মীরা আশরাফকে সহজে পান না বলে অভিযোগের পরও বিএনপির আন্দোলন পেরিয়ে তার নির্বাচন করার দক্ষতার ওপর ভরসা রেখে যান বঙ্গবন্ধুকন্যা। তবে গত বছর মন্ত্রিসভায় আশরাফকে আকস্মিকভাবে দফতরবিহীন করা হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে ফের তাকে মন্ত্রিসভায় আনেন শেখ হাসিনা।

অন্য দিকে ৭৫-এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বিরূপ সময়ে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী ওবায়দুল কাদের ডাকসুতে সংগঠনের হয়ে ভিপি প্রার্থী হয়েছিলেন। ছাত্রজীবন শেষে তিনি দৈনিক বাংলার বাণীতে সাংবাদিকতা করতেন। আওয়ামী লীগের গত কাউন্সিলে সভাপতিমণ্ডলীতে আসার আগে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদেও ছিলেন।

বিগত মহাজোট সরকারের (২০০৯-১৪) প্রথমভাগে মন্ত্রিসভায় স্থান না পেলেও শেষদিকে এসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের। দায়িত্ব পেয়ে সড়ক দেখভালের জন্য ছোটাছুটি করে শুরু থেকেই আলোচনায় আসেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আস্থায় চলে আসেন তিনি। নোয়াখালীর এই সংসদ সদস্য ওবায়দুল কাদের ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করলে সড়কের দায়িত্ব তার হাতেই রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্মেলন নিয়ে মন্ত্রীরা চুপ। নতুন কমিটি গঠনের পরের দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে বৈঠকে উপস্থিত একজন মন্ত্রী জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে কাউন্সিল নিয়ে কোনো কথা হয়নি, প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তবে বৈঠক শুরুর বেশ কিছুক্ষণ আগেই হাসিমুখে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রবেশ করেন ওবায়দুল কাদের। ফুরফুরে মেজাজে সবার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। মন্ত্রিসভার সদ্যসরাও আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদককে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ওই মন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন মন্ত্রিসভার সদস্যদের মিষ্টিমুখও করান।

মন্ত্রিসভার আরেকজন সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রবেশের পর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান নিজের লেখা পদ্যের একটি সঙ্কলন প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ইয়াফেস ওসমান ও তার বাবা কবি শওকত ওসমানকে নিয়ে কথা বলেন।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.