হেমন্তের আমেজ আর শীতের আগমনে প্রকৃতির রুক্ষতা বাড়ছে একটু একটু করে। এ সময়ের শুষ্ক হাওয়া এবং ধুলাবালুতে চুল রুক্ষ হয়ে ওঠে এবং ঝরে পড়তে শুরু করে। তাই এ আবহাওয়ায় প্রয়োজন চুলের বিশেষ যত্ন। 




হেমন্তের আগমন মানেই পাতা ঝরা দিনের শুরু। ধূসর প্রকৃতির নির্জীব পরিবেশ যেন সবকিছুর ওপরই সেই ছাপ ফেলে যেতে চায়, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে ত্বক ও চুলের ওপর। শুষ্ক আবহাওয়ায় চুল হারায় তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য। রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে চুল। পাতা ঝরার দিনগুলোতে আপনার চুলও যেন ঝরে না পড়ে সেদিকে রাখা চাই বিশেষ নজর। এ সময় চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন রূপ বিশেষজ্ঞরা। চুলের সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে ধুলাবালু। অপরিষ্কার চুল খুব তাড়াতাড়ি রুক্ষ হয়ে ওঠে। চুলের ত্বকে ময়লা জমে খুশকি দেখা দেয়। ফলে ত্বকে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না এবং চুল ভঙ্গুর হয়ে ওঠে। শ্যাম্পু প্রতিদিন দিতে না চাইলেও একদিন পরপর দিতে হবে। শ্যাম্পু করার পর চুলের ধরন অনুযায়ী কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। এ সময় খুশকির প্রবণতা বেড়ে যায়, যাদের এ সমস্যা আছে তাদের অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়া চুলের রুক্ষতা কমাতে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার চুলে তেল ম্যাসাজ করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। চুলের উস্কখুস্ক ভাব দূর করতে হলে ব্যবহার করুন ইউভি প্রটেক্টিভ লিভ ইন কন্ডিশনার, জোজোবা অয়েল, কেরাপটিন, প্রোটিন সমৃদ্ধ ডিপ কন্ডিশনার। 

হেমন্তে চুলের জৌলুস বজায় রাখতে ব্যবহার করতে পারেন কিছু ঘরোয়া প্যাক। নারিকেলের দুধ চুল পড়া বন্ধ করে। এক কাপ নারিকেল দুধের সঙ্গে অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে চুলে লাগান। ২-৩ ঘণ্টা পর চুল ধুয়ে ফেলুন। নিমপাতা, জবা ফুলের কুঁড়ি, দূর্বা ঘাস একসঙ্গে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে রাখুন। গোসল শেষে ওই পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। চুল পড়া বন্ধ হবে। মাথায় কোনো ইনফেকশন থাকলে তাও সেরে যাবে। একটি ডিম ফেটিয়ে তাতে মধু, নারিকেলের তেল ও লেবুর রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল ঝলমলে হয়ে উঠবে। অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহারেও অনেকে খুশকি থেকে নিরসন পায় না। তাই ঘরোয়া পদ্ধতিতে শ্যাম্পু করার আধাঘণ্টা আগে ২ টেবিল চামচ ভিনেগার বা লেবুর রস দিয়ে মাথার তালুতে হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। সপ্তাহে একদিন পেঁয়াজের রস মাথার তালুতে ঘষে ঘষে লাগাতে পারেন। এতে চুল গজায় দ্রুত। যাদের চুলে কোনো শ্যাম্পুই ঠিক মতো খাপ খায় না তারা চুল পরিষ্কার করার জন্য মূলতানি মাটি ব্যবহার করতে পারেন। শ্যাম্পু করার পর প্রাকৃতিক কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। চায়ের লিকার বা ভিনেগার কন্ডিশনারের কাজ করে। এক লিটার পানিতে একটি লেবু চিপে চুল ধুয়ে নিতে পারেন। চুলের উজ্জ্বলতা বাড়বে। তৈলাক্ত চুল হলে মাসে একবার কিংবা দুবার মেহেদি লাগাতে পারেন। এতে চুলের গোড়া শক্ত ও চুল মসৃণ হয়। ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের যত্ন না নিতে পারলে ১৫ দিন অন্তর পার্লারে গিয়ে হেয়ার ট্রিটমেন্ট করালে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.