দখল আর দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে ঢাকার খেলার মাঠ। উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশনের নিজেদের মাঠগুলোতে কোনো নজরদারি নেই বললেই চলে। মেলা, বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি রাখা, কোরবানির পশুর হাটসহ নানাভাবে মাঠগুলো যত্রতত্র ব্যবহৃত হয়।



The-playground-of-Dhaka-is-lost


ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে কতটি খেলার মাঠ আছে, তার সঠিক সংখ্যাই তাদের কাছে নেই। দুই সিটি করপোরেশনের নিজেদের মাঠগুলোতে নেই কোনো নজরদারি। মেলা, কোরবানির পশুর হাটসহ নানাভাবে মাঠগুলো ব্যবহার করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ তাদের অধীনে থাকা ১০টি মাঠের তালিকা দেয়। এগুলো হলো ধূপখোলা মাঠ, গোলাপবাগ মাঠ, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খেলার মাঠ, বাংলাদেশ মাঠ, মরহুম হাজি আলম ঈদগাহ মাঠ, বালুর ঘাট ঈদগাহ মাঠ, লালবাগ শ্মশান খেলার মাঠ, ধানমন্ডি খেলার মাঠ, কলাবাগান খেলার মাঠ ও খিলগাঁও খেলার মাঠ।


তবে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ১২টি খেলার মাঠের তালিকা দেন। নতুন তালিকায় গজমহল খেলার মাঠ, হাজারীবাগ খেলার মাঠ, দেলওয়ার হোসেন খেলার মাঠ, আমলিগোলা খেলার মাঠ, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ ও সামসাবাদ খেলার মাঠ নামে ছয়টি নতুন মাঠের নাম ছিল। সম্পত্তি বিভাগের তালিকায় উল্লেখ করা পাঁচটি মাঠের নাম এখানে নেই।


আবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইটে ১১টি মাঠের উল্লেখ আছে। এই তালিকায় বাসাবো, বনানী, গুলশান—এই তিনটি নতুন মাঠের নাম পাওয়া যায়। এই সংখ্যাবিভ্রাট নিয়ে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, তালিকাটি ঠিক হওয়া দরকার। পার্ককেও মাঠ হিসেবে দেখানোয় তালিকায় ভিন্নতা দেখা যায়।


ভুল বা শুদ্ধ যা-ই থাকুক, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তালিকা তবু আছে, উত্তরের এমন তালিকাও নেই। উত্তরের সম্পত্তি বিভাগ থেকে প্রথমে যে তালিকা দেওয়া হয়, এর মধ্যে তিনটি মাঠের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেগুলো হলো মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের খেলার মাঠ, সলিমুল্লাহ রোডের খেলার মাঠ ও বনানী খেলার মাঠ। পরে করপোরেশনের পরিবেশ সার্কেলের প্রধান ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ এর সঙ্গে উত্তরার একটি মাঠের নাম উল্লেখ করেন। জাকির হোসেন রোডের কাছেই মোহাম্মদপুর টাউন হলের পাশে শহীদ পার্ক খেলার মাঠের ফটকে এখনো সিটি করপোরেশনের নামটি লেখা আছে। স্থানীয় লোকজনও এই মাঠকে সিটি করপোরেশনের মাঠ নামেই চেনে। বিষয়টি উল্লেখ করলে তারিক বিন ইউসুফ বলেন, ‘আসলে আমাদের কাছে পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। 


সংখ্যা নিয়ে বিপত্তিতে থাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গত দুই বছরে মাঠের উন্নয়নে একটি পয়সাও ব্যয় করেনি।’
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দেওয়া ১২ মাঠের জন্য গত তিন বছরে উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ছয়টি মাঠে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। চারটি মাঠে ব্যয় হয়েছে মূলত কোরবানির পশুর হাটের পর মাঠের উন্নয়নে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি খেলার মাঠ।


২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে কোনো বরাদ্দ ছিল না। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে খেলার মাঠের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট ১৫ কোটি টাকা।

আর উত্তর সিটি করপোরেশনের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে খেলার মাঠের উন্নয়ন ব্যয় ১ কোটি টাকা। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের এ খাতে বাজেট ২ কোটি টাকা।


বাজেট সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, ‘আমরা চাহিদাভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকার জন্য মাঠের দিকে দৃষ্টি দিতে পারি না। মাঠের দুরবস্থা নিয়ে কথা শুনি। কিন্তু কেউ তো এসব নিয়ে কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে করে না।’

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.