ওকাইমা লিমিটেড ও ওকাপিয়া মোবাইলের এমডি তোফাজ্জল হোসেন। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে। 

 প্রশ্ন : ওকাপিয়া মোবাইলের শুরুটা কেমন করে?
তোফাজ্জল হোসেন : ওকাপিয়া ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০১৪ সালের ৩ জুলাই। এটা হ্যান্ডসেট বাজারে ছাড়ার দিনক্ষণ। তবে শুধু বাজারে ছাড়াকেই তো আর শুরু বলা যায় না। এ জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি আরও বছর দুয়েক আগে।
দেশে অনেক প্রতিযোগিতার মোবাইল হ্যান্ডসেট বাজারে শুরুর সময়টাতে সবার পেছনে থাকাটাই স্বাভাবিক ছিল। প্রায় এক বছর পরে অবশ্য চিত্রটা বদলাতে শুরু করেছে। এখন আমাদের অবস্থান বেশ পোক্ত বলা যায়।
বর্তমানে ওকাপিয়ার পোডাক্ট পোর্টফোলিও স্মার্টফোন ও ফিচার ফোনের দিক থেকে দেশিয় ব্র্যান্ড হিসেবে দ্বিতীয় বৃহত্তম। চেষ্টা করছি পোর্টফোলিও আরও সমৃদ্ধ করার।
okapia website
 প্রশ্ন  : দেশে এখন যেভাবে দেশি ব্র্যান্ড আসছে, তেমনি বিদেশি নতুন ব্র্যান্ডও আসছে সমানতালে। এমন পরিস্থিতিতে মোবাইল ডিভাইস ব্যবসার চ্যালেঞ্জ কেমন দেখছেন?
তোফাজ্জল হোসেন : এটা ঠিক, এখন প্রায় প্রতি মাসেই নতুন নতুন ব্র্যান্ড আসছে। তবে এই কথাটিও ঠিক যে, দেশের মোবাইল বাজার এখন অনেক বড়। এ সম্ভাবনাময় বাজারে এমনটি হতেই পারে।
চ্যালেঞ্জের বিষয়টি বলতে গেলে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিদিন, সপ্তাহে বা প্রতিমাসেই কিছু না কিছু পরিবর্তন আসছে। ব্যবহারকারীদের চাহিদা বাড়ছে। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরবরাহের কাজটি করতে হচ্ছে সবাইকে। এটিই হলো টিকে থাকার আসল চ্যালেঞ্জ।
সাধারণের মনে একটা ধারণা থাকতে পারে, মোবাইল ফোনের ব্যবসা খুব সহজ। টিভি-ফ্রিজ ব্যবসার মতোই বিদেশ থেকে আমদানি করে বিক্রি করার মতো। কিন্তু আসলে তেমনটি নয়।
এ ব্যবসা আসলে এয়ারক্রাফট ব্যবসার মতো। অনেক প্রস্ততকারক, অনেক উপাদান নিয়ে কাজ করতে হয় উভয় খাতে। এগুলো প্রতি মুর্হূতেই বদলাচ্ছে।
ক্যামেরা, সার্কিট, পিসিবিআর, চিপ, সফটওয়্যার থেকে শুরু করে ডিজাইন, সবই পরিবর্তন হচ্ছে। তাই মোবাইল ডিভাইস ব্যবসাটি যেমন স্পর্শকাতর, তেমনি আবার ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে শুরু করা যেমন কঠিন, তেমনই কঠিন এখান থেকে সরে যাওয়া এবং অবশ্যই টিকে থাকা।

 প্রশ্ন  : এমন চ্যালেঞ্জের মুখে কোম্পানিগুলো কতটুকু বাজার বিশ্লেষণ করছে? নাকি, না করেই বাজারে আসছে?
তোফাজ্জল হোসেন : না, বাজার বিশ্লেষণ অবশ্যই করতে হয়। এক্ষেত্রে যারা ভালো করছে তাদের জন্য এক রকম, আবার যারা ভালো করতে চায় তাদের জন্য ভিন্ন রকম। অন্যদিকে নতুন কোম্পানির জন্য ভিন্নভাবে বাজার বিশ্লেষণ করতে হয়।
মোট কথা, আমাদের বাজার খুব বড়। এ মুহূর্তে প্রতিমাসে ২৫ লাখ ফোন বিক্রি হলে বড় ১০টি ব্র্যান্ড টিকে থাকতে পারবে। পাঁচ থেকে সাত শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে অনায়াসে টিকে থাকতে পারে।
বাংলাদেশে এখন আড়াই লাখ ফোন বিক্রি করে এরকম কোম্পানির সংখ্যা খুব কম, হাতে গোনা দুই থেকে তিনটি। তাই এটা একটা সুযোগ মোবাইল ডিভাইসের ব্যবসা করার।
 প্রশ্ন  : প্রতিযোগিতার এ বাজারে ওকাপিয়ার অবস্থান কেমন?
তোফাজ্জল হোসেন : দেশি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা ধীরে হলেও এগিয়ে যাচ্ছি। সেদিক থেকে এখন তৃতীয় স্থানে। প্রতিটি এলাকায় নিজেদের ব্র্যান্ড হিসেবে ওকাপিয়াকে দেখতে চাই। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে আমাদের টিম।
এক বছরের মধ্যেই ওকাপিয়া সব জেলায় পৌঁছেছে। সারাদেশে ১২টি ব্র্যান্ডশপ, ফাস্ট ট্র্যাক বা সেমি ব্র্যান্ডশপ ২৭টি, ৩২০টি শপিংশপ এবং প্রায় ১০০টি ওয়াপিয়া হটস্পট থেকে ক্রেতারা ওকাপিয়ার হ্যান্ডসেট কিনতে পারবেন।
টেকশহরডটকম : বাজারে নিম্নমানের অসংখ্য চীনা ফোন আসছে। এতে দেশি ব্র্যান্ডগুলো কী হুমকীর মুখে পড়ছে?
তোফাজ্জল হোসেন : এটা ক্রেতাসহ সবার জন্য দু:সংবাদ। নকল ও নিম্নমানের চীনা ফোনের বিক্রি যেভাবে বাড়ছে, তাতে বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। দেশি ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রে নকলের বিষয়টি চোখে পড়ে না। সেগুলো নামিদামি ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই হচ্ছে।
এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যবস্থা বিটিআরসি থেকে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন আছে। শুধু তাই নয়, সব ব্র্যান্ডগুলোকেই একত্রে তা মোকাবিলা করতে কাজ করতে হবে।
okapia
 প্রশ্ন  : মোবাইল ব্যবসায়ে সরকারি নীতিমালা কেমন, কী করা উচিত, ভ্যাট-ট্যাক্স…?
তোফাজ্জল হোসেন : নীতিমালা অনুকূলই বলা যায়। তবে সরকারের উচিত দেশে দক্ষ মোবাইল ইঞ্জিনিয়ার গড়ে তোলা। তাহলে বিদেশিদের ওপর নির্ভর করতে হবে না। পলিটেকনিকগুলোর শিক্ষার্থীদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য করে তুলতে হবে।
অন্যদিকে সবার কাছে প্রযুক্তিপণ্য ও সেবা পৌঁছে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ করতে হলে ভ্যাট-ট্যাক্স কমাতে হবে।
 প্রশ্ন  : ওকাপিয়া কী কী ডিভাইস তৈরি করছে?
তোফাজ্জল হোসেন : মূলত ফিচার ও স্মার্টফোনের দিকেই লক্ষ্য ওকাপিয়ার। পাশাপাশি ট্যাবলেট পিসিও বাজারে আনা হয়েছে। মোবাইল অ্যাক্সেসরিজও আছে আমাদের।
 প্রশ্ন  : ওকাপিয়ার ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়ত্তোর সেবা সম্পর্কে জানতে চাই।
তোফাজ্জল হোসেন : এক বছরের ওয়ারেন্টি ও এক বছর পর্যন্ত যে কোনো সার্ভিসিং বিনামূল্যে পাবেন গ্রাহকরা। এরপর থেকে গ্রাহকরা স্বল্পমূল্যে দেশের ৩৯টি কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্ট থেকে সেবা নিতে পারবেন।
মোবাইল ডিভাইসের ব্যবসায় নামার আগেই আমরা বিক্রয়ত্তোর সেবা নিয়ে কাজ করেছি।
 প্রশ্ন  : আপনাকে ধন্যবাদ।
তোফাজ্জল হোসেন : টেকশহরকডটকমেও ধন্যবাদ। 

আর্টিকেলটি টেকশহর ডট কম থেকে সংগৃহীত । 

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.