ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মহাসড়কের শেরপুর সেতুর সংস্কারকাজের জন্য গত শুক্রবার থেকে তা দিয়ে সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে সড়ক বিভাগ। কয়েক দিন আগে সেতুর কংক্রিটের একটি অংশ নিচে কুশিয়ারা নদীতে খসে পড়ে। এর পরই স্থানীয় সড়ক বিভাগ যান চলাচলের অনুপযোগী ঘোষণা করে সেতুতে জরুরি সংস্কার শুরু করে। 

সুখের মহাসড়কে হঠাৎ ‘অসুখ’

আগামী ২২ জুন পর্যন্ত মহাসড়কের এই সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকবে। বিকল্প রুট হিসেবে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-রাজনগর-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক ব্যবহার করে ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কে চলতে হচ্ছে যানবাহন। কিন্তু বিকল্প সড়কটি সরু আর যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সময়ও লাগছে বেশি। বিকল্প আঞ্চলিক মহাসড়কটি একে তো সরু, তার ওপর সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের হালকা যানবাহন ব্যাপকভাবে চলাচল করে থাকে। হঠাৎ জাতীয় মহাসড়কের বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনও চলাচল শুরু করায় বিকল্প মহাসড়কটিও যেন যানবাহনের চাপে অচল হয়ে গেছে। বাস ও ট্রাকচালকরা জানিয়েছেন, প্রায় ৪৫ কিলোমিটারের এ বিকল্প সড়কটি পার হতে সময় লাগছে দুই ঘণ্টা। সব মিলিয়ে ঢাকা-সিলেট চলাচলে আগের চেয়ে তিন ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। এই পথে গন্তব্যে পৌঁছতে গড়ে পাঁচ ঘণ্টা লাগত। এখন লাগছে আট ঘণ্টা। বিলম্বের কারণে ঢাকা ও সিলেট থেকে বেশির ভাগ ফিরতি বাস সময়মতো নির্দিষ্ট টার্মিনালে পৌঁছতে পারছে না। ফিরতি বাসের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। বাসযাত্রায় বিড়ম্বনার মুখে যাত্রীরা ট্রেনের টিকিটের জন্য কমলাপুর থেকে শুরু করে সিলেট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রেলস্টেশনে ভিড় করছে। হঠাৎ ট্রেনের ওপর চাপ পড়ায় টিকিটও মিলছে না সবার ভাগ্যে। এ অবস্থায় অনেকে যাত্রাও বাতিল করছে। সিলেট সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর সেতুর একটি অংশের কংক্রিট ধসে পড়েছে। কয়েক দিন আগেই সেতুটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জরুরি সংস্কারের জন্য দুই সপ্তাহ গাড়ি চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়ে সড়ক বিভাগ থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল ৯ জুন থেকে সেতু বন্ধ থাকবে। তবে সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়েছে ১০ জুন সকাল থেকে। 

সড়কপথে ঢাকা-সিলেটের দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। গত শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় সিলেট থেকে বাসে করে রওনা দিয়ে ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনালে পৌঁছতে এ প্রতিবেদকের লেগেছে আট ঘণ্টা। সিলেট বাস টার্মিনাল থেকে শেরপুর সেতু না হয়ে বিকল্প সরু আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে ঘুরে উঠতে হয়েছে জাতীয় মহাসড়কে। সিলেট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মনিরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কের শেরপুর সেতুর যান চলাচলের অংশ প্রায় ১০ মিটার প্রশস্ত। কিন্তু সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-রাজনগর-মৌলভীবাজার মহাসড়কে যান চলাচলের অংশ (পিচের অংশ) প্রায় সাত মিটার প্রশস্ত। ফলে যান চলাচলে একটু সমস্যা হতে পারে। সিলেট থেকে বাসে ঢাকা আসার পথে বিকল্প সড়কের রাজনগরের মুন্সীবাজার, মৌলভীবাজারের চাঁদনীঘাট (চান্নিঘাট) সেতুর আগে, শ্রীমঙ্গল শহরের থানার সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে যানজট দেখা গেছে। বিকল্প সড়কে সিএনজি অটোরিকশাসহ স্থানীয় যানবাহনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে গতি কমিয়ে চালাতে হয়েছে বাস। এনা পরিবহনের বাসচালক লিটন ইমাম বলেন, জাতীয় মহাসড়কে সাধারণত ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে তাঁরা বাস চালান। কিন্তু ধীরগতির যানবাহন বেশি চলাচল করায় গতি কখনো ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটারে চালাতে হচ্ছে। 

মৌলভীবাজার শহরে ঢোকার আগে চাঁদনীঘাট সেতুর আগে যানজটে গাড়ির সারি দেখে স্থানীয় বাসিন্দা মনসুর আলীর মুখে তাই প্রশ্ন—‘ভিআইপি বাস ই-বায়দি চলের কেনে?’ এর আগে রাজনগরে মুন্সীবাজারে যানজটে আটকে ছিল বাসটি প্রায় আধাঘণ্টা। জট ঠেলতে ঠেলতে সামনে এগোতে হচ্ছিল চালককে। ধীরগতি দেখে এনা পরিবহনে সহযাত্রী আইয়ুব আলী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তেমন কোনো যন্ত্রণা ছিল না। বাস চলত বিমানের মতো। এখন এই সুখও আর থাকল না। বিকল্প সড়ক পার হওয়ার পর শায়েস্তাগঞ্জ, মাধবপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব, পুবাইল, টঙ্গী ও ঢাকার বিমানবন্দরে যানজট ছিল। এ ছাড়া যানজট ছিল কাকলী, বনানী ও মহাখালীতে। পুবাইল, মরকুন ও টঙ্গীতে রাস্তার ভগ্নদশার জন্য যানবাহন চলেছে ধীরে। মহাখালী বাস টার্মিনালে এনা পরিবহনের কাউন্টারে এসে দেখা গেল যাত্রীরা বাসের জন্য অপেক্ষায় আছে। সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এনা পরিবহনের কাউন্টারের ব্যবস্থাপক কাওসার আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, শুক্রবার দুপুর ৩টায় যে বাস ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে তা দুপুর আড়াইটায় শ্রীমঙ্গলেই ছিল।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.