জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে এই আলোচনা শুরু হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার সম্পূরক বাজেট পাস হবে। এই আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি ‘আর্থিক কমিশন’ এবং ব্যাংকিং খাতে দুর্যোগ ও চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে ‘ব্যাংকিং কমিশন’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন। 

সাধারণ আলোচনা শুরু, আগামীকাল সম্পূরক বাজেট পাস


আজ সোমবার ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে সাধারণ আলোচনার সূত্রপাত করে সম্পূরক বাজেট পাসের আগে সংশ্লিষ্ট অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিতে অনুমোদন নেওয়ার দাবি জানান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি বলেন, সম্পূরক বাজেটে জাতীয় আয়ের একভাব কম বিনিয়োগ হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির যে খতিয়ান দেখানো হয়েছে তাতে জাতীয় আয়ের শতকরা বিনিয়োগ ২৯ দশমিক ৮ ভাগ, যা সঞ্চয়ের চাইতে এক ভাগ কম। এই টাকা গেল কোথায়? এর হিসাব নেওয়া প্রয়োজন। আমার ধারণা এই টাকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাচার হয়েছে। আর রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের লোকসান মেটানোর জন্য বরাদ্ধ দেওয়া যায় না। আর শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, আমাদের পুঁজিবাজারের দিকেও নজর দিতে হবে। ড. আলমগীর বলেন, আমাদের বাজেট পেশ করার সময় যে সম্পূরক বাজেট দেওয়া হয়, সেটিতে যা ঘটার আগেই ঘটে।  আমাদের কাছে শুধু সংশোধনী আসে, এতে কিছু করার থাকে না।  
\
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৯ মাসে ৩০ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে, তাহলে বাকী দুই মাসে কীভাবে সফল হবে? এর জন্য আগামী অর্থ বছরে শুরু থেকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এসব ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে পারলে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি হবে। এই আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে যেখানে যে অর্থের প্রয়োজন তা দিতে পেরেছে। সুশৃঙ্খলভাবে দেশ পরিচালনার এটিই বড় প্রমাণ। সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় সংকল্প নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছেন, যা গোটা বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে দেখছে। সামরিক শাসকদের মতো আমরা বলবো না- ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’। অর্থের সঙ্কট রয়েছে, তবে বর্তমান সরকার যে বেহিসাবী নয় তা বাজেট বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিয়েছে।  তিনি বলেন, নতুন বেতন স্কেলের কারণে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আরও এগিয়ে যাবে। বিরোদী দল জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, ৩৮টি মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত বরাদ্ধের দাবি করেছে।

 কিন্তু কেন অতিরিক্ত বরাদ্ধ প্রয়োজন তা উল্লেখ করা হয়নি। এতে অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক প্রকল্প শুরুর আগেই কোটি কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। বছর বছর ধরে অনেক প্রকল্প চলছে। এসব প্রকল্প  ৫-১০ ভাগ বাস্তবায়ন না হলেও বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ দেখানো হয়েছে। জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, শত শত প্রকল্প বারংবার সংশোধিত হয়েছে। এটি এখন অনেকটা তামাশায় পরিণত হয়েছে। চলতি অর্থ-বছরে রাজস্ব আদায় কেন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, সে বিষয়ে কোন আলোচনা হয় না? ৮০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি কীভাবে মোকাবেলা করবো সে ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সঙ্কটে রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রচণ্ড দস্যুতা ও লুটপাট চলছে। এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কোন পরিস্কার জবাব নেই। চৌর্যবৃত্তির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। 

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, প্রতি বছরের শেষে সম্পূরক বাজেটে বরাদ্ধ বৃদ্ধির বিষয়টি এখন রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। অস্বচ্ছতা, দুর্নীতি ও অসততার কারণে সময়মত প্রকল্পের কাজ শেষ না করায় ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এদিকে নজর দিতে হবে। ১৫টি মন্ত্রণালয় বরাদ্ধ ব্যয় করতে পারেনি, আবার ৩৮টি মন্ত্রণালয় বরাদ্ধের চেয়ে বেশী ব্যয় করেছে। এর প্রকৃত কারণ অবশ্যই সম্পূরক বাজেটে উল্লেখ থাকতে হবে। 

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.