যে ভিয়েতনামিদের সঙ্গে কোনোকালে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না, স্রেফ ‘দাসত্ব’ পালনের জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে মোহাম্মদ আলীর মন সায় দেয়নি। শ্বেতাঙ্গদের কবলে পড়ে আমেরিকার হয়ে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাননি তিনি। নিজের অবস্থানে অটল থাকার কারণে কিংবদন্তি এই কৃষ্ণাঙ্গ মুষ্টিযোদ্ধাকে পেশাজীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সময়টা বিসর্জন দিতে হয়েছে। 

অন্যায় যুদ্ধে না গিয়ে দেশদ্রোহী হন আলী
২৭ এপ্রিল ১৯৬৭, নিউ ইয়র্ক। ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধিতা করে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন কিংবদন্তিতুল্য বক্সার মোহাম্মদ আলী। ছবি : এএফপি

আলীর জয়রথ তখন কেবল শুরু হয়েছে। নেশন অব ইসলামের সদস্য হওয়া, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ, তাঁর নিজের ভাষায় দাসত্বের নাম ‘ক্যাসিয়াস ক্লে’ পরিবর্তন করে মোহাম্মদ আলী নাম গ্রহণ করা—এসবই ঘটে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে। একের পর এক ঘটনার ঘনঘটার হাত ধরে বিপর্যয়টা আসতেও খুব একটা সময় লাগেনি। সেটা ১৯৬৬ সালের মার্চ। ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর তৎপরতা তখন বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের ৫০ শতাংশেরও বেশি তখন ভিয়েতনাম যুদ্ধের পক্ষে। সৈন্যসংখ্যা বাড়ানোর স্বার্থে তখন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কৃষ্ণাঙ্গের মতো আলীরও ডাক পড়ে। কিন্তু আলীর সোজাসাপ্টা কথা, ‘ভিয়েত কংদের সঙ্গে আমার তো কোনো বিরোধ নেই।’ এ কারণে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে অভিযুক্ত আলী তখন হয়ে ওঠেন অত্যন্ত ঘৃণার পাত্র। তাঁর সতীর্থরাও তাঁর দিকে সমালোচনার তীর ছুড়তে থাকে। তাঁর সমসাময়িক বেসবল খেলোয়াড় কৃষ্ণাঙ্গ জ্যাকি রবিনসন তাঁকে ‘অতিমাত্রায় মৌলবাদী’ বলতেও ছাড়েননি। রবিনসনের অভিমত, ‘ভিয়েতনাম বিষয়ে বহু তরুণ কৃষ্ণাঙ্গের নৈতিকতাকে সে আঘাত করছে বলে আমি মনে করি।

’ তিনি বলেন, ‘আমার মর্মবেদনার কারণ হলো, আমেরিকার জনগণের মাধ্যমে ক্যাসিয়াস লাখ লাখ ডলার আয় করেছে। অথচ এই দেশ যখন তাকে এত চমৎকার একটা সুযোগ দিচ্ছে তখন সেটার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কোনো ইচ্ছাই তার মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।’ রবিনসনের ভাষায় ‘চমৎকার সুযোগ’ অবশ্য আলীর কাছে ছিল মৃত্যু পরোয়ানার মতো। কারণ অভিজাত শ্বেতাঙ্গদের প্রতিনিধিত্বের নামে যুদ্ধে দরিদ্র ও কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অপব্যবহার আলীর চোখে ধরা পড়েছিল। একসময় আলী বলেন, ‘সরকারের একটা ব্যবস্থা ছিল, যেখানে ধনীর ছেলেরা কলেজে পড়তে গেছে আর গরিবের ছেলেরা গেছে যুদ্ধে।’ আলীর দৃঢ় অবস্থানটাকে ভালোভাবে নেয়নি নেশন অব ইসলামও। খেলাধুলার রাজনীতি বিশ্লেষক ডেভ জিরিন তাঁর ‘এ পিপলস হিস্ট্রি অব স্পোর্টস ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ বইয়ে সেটা উল্লেখ করেন। খ্যাতিমান হয়ে ওঠা আলীকে যে সংগঠন একসময় সাদরে বরণ করে নিয়েছে, সেই নেশন অব ইসলামও তখন তাঁর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করায় ১৯৬৭ সালে আলীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড আর ১০ হাজার ডলার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর হেভিওয়েট খেতাব তো বটেই, কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর মুষ্টিযুদ্ধে অংশগ্রহণের লাইসেন্সও। কিন্তু আলী উচ্চ আদালতে লড়ে গেছেন। 

ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মূল্যবান সময়টুকু বিসর্জন দিলেও আপস করেননি। তত দিনে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিও বিমুখ হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রবাসী। তারা উল্টো চলে আসে আলীর পথে। ১৯৭১ সালের মধ্যেই তাঁর ওপর থেকে সরে যায় কারাদণ্ড, নিষেধাজ্ঞার মতো সব বাধা। নিজের অবস্থানে অটল থাকা আলী হাল আমলে যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নব্য রাজনীতিক রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও ছেড়ে কথা বলেননি। মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার আর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তোলা ট্রাম্পের ব্যাপারে তিনি মন্তব্য করেন, ‘ট্রাম্প যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য। এর সঙ্গে বাস্তবতার সম্পর্ক বিন্দুমাত্র নেই। তিনি আগামী নির্বাচনের জন্য এসব সস্তা প্রচারণার মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন; যদিও আমার বিশ্বাস, তিনি সফল হবেন না।’

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.