নীলয় আহমেদ নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে ঘোষণা দিয়ে একের পর এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করা ছেলেটির নাম ইকরাম হোসেন। ভুয়া আইডিতে নিজেকে বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা দাবি করলেও ইকরাম নিজেই এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। হৃদয় হোসেন নামে আরেক অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী আদনান আহমেদ জয় নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে প্রশ্ন ফাঁস করে। ওরা মূলত বিজি প্রেসের এক কর্মচারী ও এক শিক্ষকের সহায়তায় পরীক্ষার আগেই ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে।

অবশেষে সেই প্রশ্ন ফাঁসকারী 'রুয়েটের কথিত ছাত্রলীগ নেতা নীলয়' গ্রেপ্তার

এর আগে গত ২১ এপ্রিল 'ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস!' শিরোনামে কালের কণ্ঠের অনলাইন সংস্করণে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। জানা গেছে, পরীক্ষার দুই দিন আগে প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে নীলয় আহমেদ আইডি থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেয় ইকরাম। পরে পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে সে ফুসবুকে সেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। এভাবে গত এক মাসে তারা অন্তত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ইকরামের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই আছে পাঁচ লাখ ২৮ হাজার টাকা। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তকারীরা।

ভুয়া আইডি থেকে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর ও এক শিক্ষকের নাম এসেছে, যাদের ধরার চেষ্টা চলছে। ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) মাহমুদ নাসের জনি কালের কণ্ঠকে জানান, গত ৮ জুন রাজধানীর ডেমরা ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথম দফা এক দিনের রিমান্ড শেষে গত শনিবার তাদের ফের এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মাহমুদ নাসের জনি জানান, ইকরামই নীলয় আহমেদ নামে ফেসবুক আইডি খোলে। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে। সে এবার পুরান ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। হৃদয় নামের ছেলেটি আদনান আহমেদ জয় নামে আইডি খোলে। সে মুন্সীগঞ্জের একটি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ে। তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। চক্রটি বিজি প্রেসের কর্মচারী আলমগীর হোসেন ও জুয়েলের সহায়তায় প্রশ্ন ফাঁস করে তা ফেসবুক ও হোয়াটস আপসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ফাঁস করে। এর মাধ্যমে তারা প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেয়। মূলত বিকাশে টাকা নেয় তারা। 

গত ১৯ এপ্রিল এইচএসসির জীববিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্ন ও ২১ এপ্রিল জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে ‘আহমেদ নিলয়’ নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ফাঁস করা হয়। নিলয় তার ফেসবুকে বুয়েট ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছে। তবে বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি তাঁদের সংগঠনে এই নামের কেউ নেই বলে দাবি করেন। এদিকে নীলয় আহমেদ নামে যে ফেসবুক আইডি খোলা হয় সেখানে মেজবাউল করিম অপু নামের এক যুবকের ছবি ব্যবহার করে ইকরাম। অপু এ ব্যাপারে ২২ এপ্রিল পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুরো বিষয়টি নজরে আসার পর ফেসবুকের সহায়তায় নীলয় আহমেদ নামে আইডি ব্লক করে দেয় ডিবি। পরে আবারও একই নামে আইডি খোলে ইকরাম। গতকাল দ্বিতীয় দফা এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে ইকরাম, হৃদয়, সাইফুল ইসলাম ওরফে জুয়েল এবং তাদের সহযোগী রুবেল ব্যাপারী, আবদুস সাত্তার, মেজবাহ আহম্মেদ, কাওছার হোসেন, আল আমীন ও জাহাঙ্গীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.