প্লেনে করে মুম্বাই থেকে কলকাতায় ফিরছিলেন এক ব্যান্ড মাস্টার৷ এক এয়ার হস্টেসকে দেখে তাঁর মাথায় বিদ্যুৎ খেলে যায়৷ জহুরির চোখ লোকটার৷ বিমান সেবিকার সঙ্গে গল্প করতে শুরু করেন তিনি৷ সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন, বিমান সংস্থায় কাজ করে ওই তরুণী যা বেতন পান, তার দ্বিগুণ বেতনের কাজ করতে তিনি রাজি কি না৷ এর পর ওই বিমান সেবিকার মোবাইলে ফোন করে তাঁকে বোঝান, কাজটি অত্যন্ত সহজ৷ পানশালার স্টেজে দাঁড়িয়ে তাঁকে শুধু গানের সঙ্গে শরীর দোলাতে হবে৷ তরুণী রাজি হন৷ মধ্য কলকাতার একটি পানশালায় শুরু করেন কাজ৷ জানা গেছে, ওই অতীব সুন্দরী তরুণী গানের সঙ্গে অল্প স্টেপ ফেলতে শুরু করলেই উড়তে শুরু করত টাকা৷ কয়েক বছর পর এখন তিনি রাজারহাট অঞ্চলের একটি পানশালার নর্তকী, শুধু যাঁর নাচ দেখতেই পানশালায় জমে ওঠে ভিড়৷

মোটা টাকা, বিলাসিতার লোভে ‘নর্তকী’ হচ্ছেন ছাত্রীরাও

দার্জিলিংয়ের মইনি হোক বা হরিয়ানার সরিতা৷ কাজের লোভে বহু তরুণী দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসছেন কলকাতার পানশালাগুলিতে৷ দার্জিলিং, সিকিম, শিলিগুড়ি, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাবের তরুণীর সংখ্যাই বেশি৷ তাঁদের কলকাতায় নিয়ে আসার পিছনে রয়েছেন এজেন্টরা৷ তাঁদের নজরে থাকে সেই সুন্দরী তরুণী, যিনি বেশি ডিস্কোথেকে যান৷ পড়াশোনার থেকে যে ছাত্রী একাধিক পুরুষসঙ্গী পছন্দ করেন, তিনিও সহজে এজেন্টের নজরে পড়েন৷ এজেন্টরা জানেন যে, তাঁদের টাকার লোভ বেশি৷ তাই তাঁদের মোটা টাকার বেতনের লোভ দেখানো হয়৷ সঙ্গে খাওয়া ও থাকা ফ্রি৷ তাঁদের যে কলকাতার পানশালায় কাজ করতে হবে, তা আগে থেকে বলে দেওয়া হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই৷ নিজেদের শহরে পানশালা থাকলেও নাম খারাপ হওয়ার ভয়ে তাঁরা সেখানে যোগ দেন না৷ তরুণীরা বাড়িতে বলেন, অন্য চাকরি করতে তাঁরা যাচ্ছেন কলকাতায়৷ শহরের কোনও ঝাঁচকচকে শপিং মল বা দোকানের সামনে সেলফি তুলে পাঠিয়ে দেন বাড়িতে৷ বলেন, ওই শপিং মলেই কাজ করেন তিনি৷ কলকাতা বা তার আশপাশের কোনো পানশালায় ওই তরুণীদের নিয়ে এসে মূলত নাচতেই বলা হয়৷ তাঁদের যে নাচের ট্রেনিং থাকে, তা-ও নয়৷ কখনও বা নাচের তালিম দেওয়া হয়৷ 

আবার অনেক সময় স্টেজে উঠে অন্যদের দেখেও নাচ শিখে যান৷ ব্যান্ড মাস্টাররাও জানেন যে, পানশালায় মদ্যপায়ীরা নাচের স্টেপ দেখেন না৷ তাঁরা সুন্দরীদের দেখে টাকা ওড়ান৷ আবার কোনো ভিন রাজ্যের সুন্দরীর গানের গলা ভাল থাকলে তিনি পরে পানশালার গায়িকাও হন৷ যে টাকা ওই সুন্দরীদের পেছনে মদ্যপায়ীরা ওড়ায়, তার একটি অংশ দিয়ে প্রত্যেক মাসে নির্ধারিত বেতন দেওয়া হয় সুন্দরীদের৷ টাকা নেন ব্যান্ড মাস্টাররা৷ আবার কোনো সময় ওই টাকার একটি অংশ সুন্দরী ত্রুনার নেন৷ বাকি টাকা নেন ব্যান্ড মাস্টার৷ কলকাতা বা তার উপকন্ঠের কোনও ফ্ল্যাটে একসঙ্গে আট থেকে দশজন পর্যন্ত ত্রুনারকে রাখা হয়৷ তাঁদের ফ্ল্যাট ভাড়া ও খাওয়ার খরচ ব্যান্ড মাস্টারদের৷ ফ্ল্যাট থেকে ব্যান্ড মাস্টারদের গাড়ি পানশালায় নিয়ে যায় তাঁদের৷ রাতে নিয়ে আসে৷ কয়েক বছর পর এক ব্যান্ড মাস্টারের কাছ থেকে অন্য ব্যান্ড মাস্টারের কাছেও চলে যান সুন্দরীরা৷ অনেক সময় তা নিয়ে গোলমালও বাধে৷ আবার শহরের কিছু ব্যান্ড মাস্টারের লোকজনের মাধ্যমেও সুন্দরীরা জুটিয়ে নেন পুরুষসঙ্গী৷ অনেক পুরুষসঙ্গী আবার রূপে মুগ্ধ হয়ে কোনো সুন্দরীকে আলাদা ফ্ল্যাটে থাকার ব্যবস্থা করে দেন৷ তার বদলে সেই সুন্দরী ত্রুনারকে সঙ্গ দিতে হয় সেই ব্যক্তিকে৷ আবার কয়েক বছর পর কোনো কারণে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে সেই সুন্দরী ‘অন্য বাসা’ খুঁজে নেন৷

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.