ময়মনসিংহে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ছয় হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী এখানে পড়াশুনা করে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যাও সহস্রাধিক। ময়মনসিংহ জেলার সঙ্গে আশপাশের জেলার সড়ক ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে রেলপথই হচ্ছে যাতায়াতের একমাত্র নিরাপদ মাধ্যম।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টেশন থাকলেও থামে না ট্রেন

এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মচারী সবারই প্রথম পছন্দ রেলপথ। কয়েক বছর আগেও বাকৃবিতে রেলপথ সচল ছিল। এখনো রয়েছে পুরনো সেই রেলস্টেশন। রয়েছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় খচিত নামফলক। তবে এখন থামে না কোনো ট্রেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে ঢাকাগামী রেলস্টেশন অথচ ট্রেনে ওঠার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রায়ই প্রায় ছয় কিলোমিটার যানজটের মধ্য দিয়ে শহরে যেতে হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, ভোরের ঢাকাগামী ট্রেন ধরতে পারেন না তারা। কারণ ভোরবেলা শহরে যাওয়ার জন্য কোনো যানবাহন থাকে না। আবার মধ্যরাতের ট্রেন যখন শহরে থামে তখন ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে হয় নয়তো যানবাহন না পেয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে আসতে হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের এম এ মান্নান নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, "ট্রেনে সিট পেতে হলে যেদিন যাব তার অন্তত ৪-৫ দিন আগে সকাল ৭টায় শহরের ময়মনসিংহ স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয়। কারণ ১১টা বাজার আগেই টিকিট শেষ হয়ে যায়। পরে আর টিকিট পাওয়া যায় না। তখন কালোবাজারিদের কাছে ১১০ টাকার টিকেট ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় কিনতে হয়। ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের টিকিট কালেক্টর আলামিন ফরাজী বলেন, "ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী সর্বমোট ১০টি ট্রেন প্রতিদিন যাওয়া আসা করে। এদের মধ্যে ভাওয়াল এক্সপ্রেস, জামালপুর কমিউটার, ব্রহ্মপুত্র, হাওর এক্সপ্রেস, বলাকা কমিউটার, দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার, আন্তনগর তিস্তা, আন্তনগর অগ্নিবীণা উল্লেখযোগ্য।" বাকৃবি স্টেশনটি বন্ধ থাকার বিষয়ে রেলস্টেশনের সুপারিন্টেনডেন্ট হরি গোপাল সেন বলেন, "১৯৮৭ সালে তোফাজ্জল হোসেন নামের এক টিটিকে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ট্রেনে কেবিনের ভেতর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নিহত হন। এরপর সারা দেশে রেলস্টেশনগুলো ৩৬ ঘণ্টা একযোগে বন্ধ থাকে। বন্ধ থাকে বাকৃবির রেলস্টেশটিও। তবে বাকি রেলস্টেশন চালু করলেও আজ অবধি বাকৃবি রেলস্টেশনটি চালু করতে পারেনি রেল মন্ত্রণালয়। 

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের অক্টোবর মাসে দেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেমো ট্রেন চালু করতে রেল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। কিন্তু দীর্ঘ সাত মাসের ব্যবধানেও বাকৃবিতে সেই ডেমো ট্রেনও চালু হয়নি।   রেলস্টেশন চালু করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স পরিষদের সভাপতি  মো. লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মাহবুবুর রশীদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর দেন। চিঠিতে সকল প্রকার ট্রেনে বাকৃবি স্টেশনে যাত্রী উঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করা হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী  শিক্ষকদের প্যানেল গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম ও বিএনপিপন্থী শিককদের প্যানেল সোনালী দলের উভয় প্যানেলের ইশতেহারে রেলস্টেশনটি চালু করার কথা থাকলেও নির্বাচিত হওয়ার দীর্ঘ কয়েক মাসে কিছুই করতে পারেনি বাকৃবি শিক্ষক সমিতি। নির্বাচিত শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির বলেন, "রেলস্টেশনটি চালু করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে।" তবে কবে নাগাদ চালু হবে- এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর বলেন, "রেলস্টেশনটি চালু করা গেলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমে যেত।" রেলস্টেশনটি চালু করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.