আজ থেকে ৪০ বছর আগে বন্দুকের গুলিতে নিহত হয় ১৩ বছর বয়সী কার্ল ব্রিজওয়াটার। তিনি ছিলেন স্ট্যাফোর্ডশায়ারের  ইয়েউ ট্রি ফার্মের পেপারবয়। পত্রিকা বিলি করতেন। কিন্তু এক কিশোরের হত্যা রহস্য এতদিন রহস্যই থেকে গেছে। এতদিন পর কি সে রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে?

ইতিহাসের এক ভয়ানক অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড, উদঘাটন হচ্ছে ৪০ বছর পর!ছবি : ডেভিড উইলসব (বামে) এবং বার্ট স্পেন্সার (ডানে)

বার্ট স্পেন্সার নামে এক সন্দেহভাজন তালিকায় ছিলেন। কিন্তু তিনি সব সময় অস্বীকার করে আসছেন। কিন্তু এখন সেরা অপরাধবিজ্ঞানী ডেভিড উইলসন এতদিন পর স্পেন্সারের কাহিনীর জট খোলার চেষ্টার করছেন। তাও আবার স্পেন্সারের স্ত্রীর কাছ থেকে নানা প্রমাণের সাপেক্ষে এগিয়েছেন তিনি। ডেভিড জানান, ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে কার্ল ব্রিজওয়াটারকে শট গানের গুলিতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা জাতির কাছে স্মৃতি হয়ে থাকে। ছেলেটি ইয়েউ ট্রি ফার্ম এলাকায় পেপের বিলি করতো। অতি কাছে থেকে তাকে মাথায় গুলি করা হয়েছিল। এলাকাটি স্টাফোর্ডশায়ারের স্টরব্রিজের কাছেই। এই হত্যকাণ্ডটি যেন ইংল্যান্ডের বিচারব্যবস্থার অবক্ষয় তুলে ধরে। সেই সঙ্গে ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা মারাত্মক অমীমাংসিত খুনের ঘটনা হয়েই রয়েছে। 

এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে স্পেন্সারকেই সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। এতদিনে অপরাধী মুছে গেছেন মানুষের মন থেকে। কিন্তু এতদিন পরেই আবার তিনিই উঠে এলেন। স্পেন্সারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন উইলসন। প্রায় ২০ ঘণ্টার আলাপচারিতায় অনেক কিছু উঠে এসেছে। খুনের পর থেকে স্পেন্সার ঘটনার সময় অন্য স্থানে থাকার অজুহাতে রেহাই পেয়ে এসেছেন। এই অজুহাত তাকে ৪০ বছর বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু এ প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলো। স্পেন্সারের স্ত্রী জেনেট স্পেন্সার বলে দিয়েছেন আসল কথা। তিনি জনসমক্ষে বলেন যে, সেই ১৩ বছর বয়সী কার্লের খুনি তার স্বামী। ১৬ বছর হয়েছে স্পেন্সারকে বিয়ে করেছেন তিনি। এ দাবির স্বপক্ষে নিরেট প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। কিন্তু তার বিশ্বাস তার স্বামীই হত্যাকারী। 


ছবি : পেপারবয় কার্ল রিজওয়াটার

যেদিন পেপারবয় খুন হয়, সেদিন স্পেন্সার শটগান নিয়েছিলেন, চুরি করা অ্যান্টিকের বাক্স মাটিচাপা দিয়েছিলেন এবং একটি জাম্পার ধুয়ে শুকাতে দিয়েছিলেন। কার্লের খুনের ঘটনায় শিশু হত্যাকারী সেই কালপ্রিটকে খুঁজতে বড় অভিযান চালানো হয়। চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের একজন জেলে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তবে এদের কাউকে পুরোপুরি অপরাধী চিহ্নিত করা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের দিন নীল ভক্সহল ভিভা গাড়িতে করে ইয়েউ ট্রি ফার্মে দেখা যায় স্পেন্সারকে। পুলিশের ধারণা একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটছিল সেখানে। হয়তো অ্যান্টিক্স লুটে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল। স্পেন্সার এগুলো সংগ্রহ করতেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি একটি শটগানের মালিকও ছিলেন। স্পেন্সারের বাড়ির কিছু দূরেই থাকতো কার্ল। তার মানে স্পেন্সরকে চিনতো সে। কয়েক দফা স্পেন্সারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন বলেছিলেন, যে দিন কার্ল খুন হয় ওইদিন তিনি একটি অ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এ অজুহাতে স্পেন্সার বেঁচে গেলে অন্য চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৭৯ সালে স্টাফোর্ড ক্রাউন কোর্ট ঘোষণা দেন, গ্রেপ্তারকৃত মাইকেল হিককে, ভিনসেন্ট হিককে, প্যাট্রিক মোলয় এবং জেমন রবিনসন নির্দোষ। এর কয়েক সপ্তাহ বাদেই হলোওয়ে হাউজ ফার্মে বার্ট স্পেন্সার খুন করেন তারই বন্ধু হিউবার্ট উইলকেসকে। ঠিক যেভাবে কার্লকে হত্যা করা হয়েছিল। 

এ ঘটনায় স্পেন্সারের বিচার হয়। ১৪ বছর জেল খাটেন তিনি। কিন্তু কার্লের খুনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতা হয়েই রয়ে যায়। অপরাধ বিশেষজ্ঞ জানান, স্পেন্সার তার বন্ধুতে হত্যা করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার প্রথম স্ত্রী জেনেট। তিনিই জানান সেই রাতে বার্টের অদ্ভুত ব্যবহারের কথা যেদিন খুন হয়েছিল কার্ল। ৩৮ বছর পর এসব তথ্য দিলেন জেনেট। সেদিন রাতে স্পেন্সার একটি সবুজ রংয়ের জাম্পার ধুয়েছিলেন যেটাকে আর কোনদিন দেখা যায়নি। কার্লের মৃত্যুর পরদিন একটি শটগানও ফেলে দেন স্পেন্সার। এমনি অ্যান্টিকের একটি বড় বাক্সও মাটিচাপা দিয়েছিলেন তিনি। এসব ঘটনার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞের মনে হয়, স্পেন্সার কি সাইকোপ্যাতি? তবে কোনো ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে তা বোঝার উপায় নেই। তার এ সমস্যা ধরতে পি-স্ক্যান পরিচালিত হয়। এটি বিশেষায়িত প্রশ্নের তালিকা যার মাধ্যমে মানুষের সাইকোপ্যাতি মনোভাব পরিষ্কার হয়ে ওঠে।

 ১৯৬৪ সালের দিকে স্পেন্সার বিয়ে করেন এবং তার একটি সন্তান হয়। তখন তার বয়স ২৫। এ বয়সী একটি মানুষ এমন একটি অপরাধ ঘটাতে পারেন। তাহলে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কেমন হবে? স্পেন্সার আসলে দারুণ ভূর্ত, প্রভাববিস্তারকারী, আত্মমুগ্ধতায় ভোগা এক মানুষ এবং কপট। এ সব বৈশিষ্ট্য জুড়ে রয়েছে একজন সাইকোপ্যাথের সঙ্গে। জিজ্ঞাবাদের সময় স্পেন্সার নানাভাবে হুমকি দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ উইলিয়ামকে। এত হিসাব-নিকাশ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে না যে স্পেন্সারই খুনী। তা ছাড়া ৪০ বছর ধরে তিনি তা অস্বীকার করে চলেছেন। তিনি ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে তা অস্বীকার করছেন। এখন যদি তাকে দোষী সাব্যস্ত করাও হয়, তবে পরের জীবনে তার সঠিক বিচার করবেন ঈশ্বর। এমনটাই ভাবছেন স্পেন্সার। 

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.