পরিবর্তনের আবহটা কয়েক দিন ধরেই চলছিল, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে তাতে যোগ হয় নতুন মাত্রা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দৃষ্টি পশ্চিম আকাশের দিগন্তের দিকে। উদ্দেশ্য পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ উঠেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া। আকাশ মেঘলা থাকায় রাজধানী ঢাকা থেকে তা হয়তো সেভাবে দেখা যায়নি, তবে চাঁদ উঠেছে এবং আজ মঙ্গলবার শুরু হয়ে গেছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মাস রমজান। খোশ আমদেদ মাহে রমজান।

চিরচেনা দৃশ্যে বদল


নানা অসংগতি থাকে মানুষের জীবনে। পবিত্র রমজান মাসে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কামনা থাকে, অসংগতি দূর হোক। লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ আর হানাহানি ভুলে মানুষের মন ভরে উঠুক আত্মশুদ্ধির শুভ্র বাসনায়। আর এমন শুভকামনার পথ ধরেই রমজানের আগমনে বদলে গেছে আমাদের চারপাশের চিরচেনা আবহ। ঘরে-বাইরে আমাদের সারা বছরের অভ্যস্ত জীবনযাত্রায় এসেছে পরিবর্তন। পাল্টে গেছে নিত্যদিনের রুটিন। সরকারি-বেসরকারি অফিস, কর্মক্ষেত্র, স্কুল-কলেজসহ সর্বত্র নতুন সময়সূচি। সারা দিন খানাপিনার ব্যাপার নেই। সবাই সংযত, অবনত সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির আশায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ আর ফুটপাতের চায়ের দোকানগুলো সকাল থেকেই হয়ে পড়েছে পর্দাঘেরা। অন্য ধর্মাবলম্বীরা তো বটেই, মুসলমানদের মধ্যেও যাঁরা কোনো কারণে রোজা রাখতে পারছেন না, তাঁরা রোজাদারদের প্রতি সম্মান দেখাতে পানাহার সারছেন পর্দার আড়ালে। 

এমনকি ধূমপায়ীরাও খোলা স্থানে কাজটি সারা থেকে বিরত থাকছেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাড়াতাড়ি বিছানায় যাবেন। ঘুম থেকে উঠবেন মাঝরাতে। সেহরি করে ফজরের নামাজ পড়ে খানিক ঘুমিয়ে বেরিয়ে পড়বেন কাজে। বিকেল থেকে আবার শুরু হবে ইফতারের আয়োজন। পাড়া-মহল্লায় হোটেল-রেস্তোরাঁ তো বটেই, ভ্রাম্যমাণ ইফতারির দোকানগুলোও হয়ে উঠবে সরগরম। সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে আয়োজিত হবে নানা ইফতার পার্টিও। পবিত্র রমজানে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হবে ঐতিহ্যবাহী নানা পদের ইফতারি। পুরান ঢাকার চকবাজার, বেইলি রোডে বিক্রি হবে বাহারি ইফতার। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়ও পাওয়া যাবে ঐতিহ্যবাহী ইফতারি। নতুন ঢাকার মানুষের জন্য পুরান ঢাকার খাবারের ব্যবস্থা করতেই মূলত এ আয়োজন। পুরান ঢাকার প্রতিষ্ঠিত ও খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই আমন্ত্রণ জানানো হয় বসুন্ধরার ইফতারি মেলায়। 

এ ছাড়া রাজধানীজুড়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিপণিবিতানগুলোর সামনে, অফিসপাড়ায়—সর্বত্র বিক্রি হবে নানা পদের ইফতারি। বিকেল থেকে চলবে জমজমাট বিক্রি। মুখরোচক হরেক খাবারের গন্ধে ম ম করবে ইফতারির বাজার। রমজানে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো ছুটি হয়ে যায় বেশ আগেই। আর কর্মব্যস্ত মানুষগুলো অফিস শেষে ছুটবেন ঘর পানে। উদ্দেশ্য পরিবার-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করা। ঘরমুখো মানুষের স্রোত বইবে মাগরিবের আজানের আগ পর্যন্ত। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যস্ততায় যোগ হবে নতুন অনুষঙ্গ। রমজান মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই শুরু হয়ে যাবে ঈদের কেনাকাটা। ভিড় জমবে বিপণিবিতানগুলোর সামনে। বিপণিবিতান ও ফ্যাশন হাউসগুলো সাজবে নতুন সাজে। আর রোজাদার মানুষ সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পণ্যটি খুঁজে নিতে ছুটে যাবেন এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে। এভাবে কেনাকাটা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। 

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.