বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনর্নিবন্ধনের মহাযজ্ঞ শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টায়। আজ বধুবার থেকে অনিবন্ধিত সিম বন্ধ হয়ে যাবে। অনিবন্ধিত সিম নিবন্ধন করতে হলে সরকারের ভ্যাট ট্যাক্স পরিশোধ করে করতে হবে। অর্থাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব সিম আবার চালু করতে চাইলে এখন থেকে একজন গ্রাহককে গুনতে হবে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আজ থেকেইে এসব সিম পুনরায় নিবন্ধন করা যাবে।

পুনর্নিবন্ধনের মহাযজ্ঞ শেষ : নিবন্ধনের বাইরে প্রায় ৩ কোটি সিম

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে এ বছরের ৩০ এপ্রিল ছিল সিম নিবন্ধনের শেষ দিন। পরে সময় বাড়নো হয় গতকাল ৩১ মে পর্যন্ত। সাড়ে ৫ মাস ধরে সিম নিবন্ধনের কাজ চলার পরে আর নতুন করে সময় বাড়ানো হচ্ছে না। সিম নিবন্ধনের শেষ দিনে অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার ও এজেন্টদের কাছে ছিল উপচে পড়া ভিড়। তবে সার্ভারে কোনো জটিলতা দেখা না দেয়ায় সহজেই গ্রাহকরা সিম নিবন্ধন করেছেন। কোনো কোনো এলাকায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিলেও সেটা ছিল সাময়িক।
সিম নিবন্ধনের প্রসঙ্গটি বাংলাদেশের আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালত অবশ্য এ প্রসঙ্গে করা একটি রিট খারিজ করে দিয়েছে। অপরাধমূলক কাজে সিম ব্যবহার বন্ধ করতে গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের সঙ্গে আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে সিম নিবন্ধন চালু করে বাংলাদেশের সরকার। এ সময় থেকে নতুন সিম কিনতে হলেও এই নিয়ম অনুসরণ করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে সিম নিবন্ধন না করার জরিমানা হিসেবে ব্যবহারকারীদের বাড়তি এ অর্থ দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে আগের কঠোর অবস্থান কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এত দিন বিটিআরসির সিদ্ধান্ত ছিল, আজ থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিমগুলো আগামী দুই মাস পর্যন্ত জব্দ (ফ্রিজ) অবস্থায় থাকবে। অর্থাৎ যে ব্যবহারকারী এতদিন সিমটি ব্যবহার করে এসেছেন, তিনি আগামী দুমাস পর্যন্ত সেটি নিবন্ধনের মাধ্যমে চালু করার সুযোগ পাবেন না। দুমাস সময় পার হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মে অর্থাৎ ১৫০-২০০ টাকা খরচ করে সিমটি আবার চালু করা যাবে- এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে আগের নিয়ম থেকে সরে এসে বিটিআরসি বলছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন সম্পন্ন করে বন্ধ হয়ে যাওয়া সিমটি আবার চালু করা যাবে। এ জন্য দুমাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। গত সোমবার বিষয়টি মুঠোফোন অপারেটরদের জানিয়ে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
বিটিআরসির মিডিয়া ই-উইংয়ের কর্মকর্তা সারোয়ার আলম বলেন, সিম নিবন্ধনের জন্য নতুন করে সময় বাড়ানো হয়নি। তাছাড়া সময় বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ সরকারের টার্গেট ছিল ১০ থেকে ১১ কোটি মোবাইল সিম নিবন্ধন হলেই হলো। এই টার্গেট পূরণ হয়েছে ২৯ মের মধ্যেই। আরো দুই দিনে প্রায় এক কোটি সিম নিবন্ধন হয়েছে। এখন পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না ঠিক কতটা সিম নিবন্ধন হয়েছে। রাত ১২ টার পরে এই হিসাব জানা যাবে। সময় না বাড়ানোর কারণে আড়াই থেকে তিন কোটি সিম নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাবে। এতে কোনো সমস্যা হবে না। এ সিমগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এগুলো আবার গ্রাহকরা ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে নিবন্ধন করে নিতে পারবেন। আড়াই থেকে তিন কোটি সিমের মধ্যে অবৈধ ভিওআইপির জন্য ব্যবহার হওয়া সিম কোনো দিনও নিবন্ধনের আওতায় আসবে না। সরকার এর আগে অবৈধ ভিওআইপিতে ব্যবহার হতো এমন কয়েক লাখ সিম চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, সিম নিবন্ধনের জন্য দুই দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে যারা সিম নিবন্ধন করতে পারেননি তারা আবার সময় বাড়িয়ে দিলেও নিবন্ধন করতে পারবেন না। তবে জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের আঙুলের ছাপ না মেলাসহ সিম নিবন্ধনে এনআইডি সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যার জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে (এনআইডি) ১৬১০৩ নম্বরে ফোন করে সমাধান করা যাবে। ওই সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি সেখান থেকে সবচেয়ে কাছের নিবন্ধন সেন্টারের ঠিকানাও জানিয়ে দেয়া হবে। এর আগে গত রোববার টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার (৩১ মে) মধ্যরাত সিম পুনর্নিবন্ধনের শেষ সময়। এবার আর সময় বাড়ানো হবে না। পূর্বনির্ধারিত সময়ে যেসব মোবাইল গ্রাহক সিম নিবন্ধন করতে পারবেন না তাদের সিম বন্ধ হয়ে যাবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রাহকরা যদি তাদের সিম নম্বর কিনে না নেন তবে মোবাইল অপারেটররা অনিবন্ধিত সিম বিক্রি করে দিতে পারবে।
এয়ারটেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিডি শর্মা এ প্রসঙ্গে বলেন, নির্ধারিত সময়ে অনিবন্ধিত সিম বন্ধ করার সব ধরনের কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাসময়ে কার্যকর করা হবে। গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন বলেন, অনিবন্ধিত সিম বন্ধের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা থাকবে না।
প্রসঙ্গত, বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী, একটি সিম একটানা ১৮ মাস বা ৫৪০ দিন বন্ধ থাকলে সেটির মালিকানা গ্রাহকের থাকে না। এর মধ্যে ১৫ মাস বা ৪৫০ দিন সময় পার হলে মুঠোফোন অপারেটররা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিষ্ক্রিয় সংযোগটি পরের ৯০ দিনের মধ্যে চালু করার জন্য গ্রাহককে অনুরোধ করে। এভাবে মোট ১৮ মাস সময়ে সিমটি চালু করা না হলে সেটির মালিকানা বর্তমান ব্যবহারকারীর থাকে না। কাল থেকে বন্ধ হতে যাওয়া সংযোগের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নতুন সংযোগ কিনতে অপারেটর ভেদে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দাম রাখা হয়। এর মধ্যে সরকার সিম কর হিসেবে ১০০ টাকা পায়। বাকি অর্থ সিমের মূল্য হিসেবে অপারেটররা পেয়ে থাকে।
শেষ দিনে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় : বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা না হলে জিরো আওয়ারেই বন্ধ করে দেয়া হবে সব অনিবন্ধিত সিম। শেষ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকে মোবাইল ফোন কোম্পানির সার্ভিস সেন্টারসহ বিভিন্ন সিম রি-রেজিস্ট্রেশন পয়েন্টে গ্রাহকদের প্রচুর ভিড় দেখা দেখা যায়। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এদিকে সিম নিবন্ধনের সময়সীমা আরো কিছুদিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.