গোটা বিশ্বে ডায়াবেটিক ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি শিশুরাও টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিকে আক্রান্ত হচ্ছে। গোটা বিশ্বের অসংখ্য শিশু টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। শৈশবে স্থূলতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে দুই ধরনের ডায়াবেটিসই দেখা দিতে পারে। ভারতের এক গবেষণায় বলা হয়, ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৮৫ শতাংশের টাইপ ১ এবং ৮ শতাংশের টাইপ ২ ডায়াবেটিস দেখা দেয়। 

আপনার শিশুটিও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে

মেডান্টা দ্য মেডিসিটির এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটিক বিভাগের পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ড. গনেশ জেভালিকার জানান, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে টাইপ ১ ডায়াবেটিস বেশি দেখা দিচ্ছে। ডায়াবেটিস নিয়ে খুব কমই খবর হয়। অথচ এটা বিশ্বের সপ্তম প্রাণঘাতী রোগ। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিতে পারলে এ অবস্থা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
নয়াটি হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান ড. জয়তি গয়াল জানান, শিশুদের টাইপ ১ ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর টাইপ ২ ডায়াবেটিস এক সময় টিনএজার বা শিশুদের মধ্যে বিরল হলেও এখন তার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কায়িক শ্রমের অভাবে তাদের স্থূলতার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বয়ঃসন্ধির পর ১৫-১৯ বছর বয়সের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।
শিশুদের কি ডায়াবেটিস মুক্ত রাখা যায়? : অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে তাদের ডায়াবেটিস হতে পারে। শিশুর অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা প্রস্রাব এর প্রাথমিক লক্ষণ। টাইপ ২ ডায়াবেটিস এড়ানো যেতে পারে শিশুর ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে। প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিয়ে বেশি বেশি টাটকা সবজি খাওয়াতে হবে। তা ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ওজন বাড়ছে কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে বাবা-মাকে।
যেসব লক্ষণ খেয়াল করবেন :
১. অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধি কিংবা ওজন কমে আসা।
২. দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা। ত্বকে কাটা-ছেড়া সহজে না শুকানো।
৩. হাত বা পায়ে বোধশক্তি স্বাভাবিক কাজ না করা।

এ ধরনের সমস্যায় শিশুকে বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান।
যা মনে রাখবেন : শিশুর ডায়াবেটিস হওয়ার বিষয়টি আপনার মোটেও ভালো লাগবে না। তবে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাতেই সব পরিষ্কার হতে পারে।
ডায়াবেটিক শিশুদের খাবার : পুষ্টি বিশারদ ও কোচ তারানজিৎ কৌর বলেন, শিশুদের ডায়াবেটিক হলে খাবারের বিষয়ে খুব খেয়াল রাখতে হবে। যা করবেন-
১. কার্ব : জটিল ধরনের কার্বোহাইড্রেট চিনির মলিকিউলে তৈরি হয়। এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে। স্টার্চপূর্ণ খাবারে এমন কার্ব থাকে।
২. প্রোটিন : শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো প্রোটিন। প্রতিবার খাবারে একটা প্রোটিন থাকার দরকার। এই উপাদান অতি জরুরি অ্যামাইনো এসিড প্রদান করে।
৩. ফ্যাট : মাখন, তেল, সালাদ ড্রেসিং ইত্যাদিতে ফ্যাট থাকে। এরা প্রত্যক্ষভাবে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি করে না। এ ছাড়া এরা হজম হতেও সময় নেয়। ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফ্যাট।
মনে রাখতে হবে, শিশুদের খাবারে যদি প্রোটিন ও সবজি থাকে, তবে রক্তে চিনি মাত্রা খুব বেশি বাড়বে না।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.