ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরের বাড়িটিতে কিছুক্ষণের জন্যে নরকের দরজা খুলে গেল। অস্ত্রধারীরা হত্যা করলো মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ কামাল, পুত্রবধূরা কেউ রেহাই পায়নি। খুনি মেজরদের ছোড়া বৃষ্টির মতো অবিরাম বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যায় এতটুকু ছোট্ট রাসেলের বুক অথচ একটু আগেই মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কাঁদছিল সে। সে কান্না থেমে যায় লাশ হয়ে।




কী অপরাধ ছিল ছোট্ট রাসেলের? সে বঙ্গবন্ধুপুত্র, এটাই কি তার অপরাধ? হ্যাঁ, এটাই ছিলো তার অপরাধ। একই অপরাধ ছিলো বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। আর দেশকে স্বাধীন করাই ছিলো বঙ্গবন্ধুর অপরাধ। এই অপরাধে শেষ পর্যন্ত পরিবার নিয়ে জীবন দিতে হলো হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গপিতা শেখ মুজিবকে।

সেদিন দেশের বাইরে থাকায় ভাগ্যের জোরে বেঁচে গেলেন জাতির পিতার দুই আত্মজা শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা, সঙ্গে  জয় এবং পুতুল। প্রখ্যাত পরমানু বিজ্ঞানী বঙ্গবন্ধু জামাতা ওয়াজেদ মিয়া সেদিন বটবৃক্ষের ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছিলেন পরিবার-পরিজনহারা মানুষগুলো উপর। তাঁদেরও বাঁচার কথা ছিল না। তারা বেঁচে গেলেন সৃষ্টিকর্তার কৃপায়। কিন্তু শুরু হয় পরভূমে পরিবারহারা কষ্টের জীবন।

অবশেষে সেই দুঃখের অবসান ঘটে। বাঙালির জীবনে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৬ বছর পর  ১৭ মে, ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা অশ্রুসিক্ত নয়নে ফিরে আসেন নিজভূমে। বাবার স্বপ্ন পূরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মেয়ের শোকের কাছে মাথা নত করেননি। শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। সেই যুদ্ধ ন্যায়ের শাসন ও গণতন্ত্র ফেরানোর যুদ্ধ, সেই যুদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার যুদ্ধ। আজ দেশ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে। এ বিশ্ব অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে আমাদের দিকে। 

৫৬ হাজার বর্গমাইলের আমার এই স্বাধীন, সার্বভৌম ভূখণ্ডটি উপহার দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর সেই ভূমিকে স্বর্গভূমি করতে দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। আজ থেকে ৩৫ বছর আগে, গরীব, দুঃখি, ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষগুলোর দুর্দশার কথা চিন্তা করে, মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা অশ্রুসিক্ত চোখে দেশের মাটিতে ফিরে এসেছিলেন, পিতা-মাতা, ভাই-বোন আর স্বজন হারা মুজিব কন্যা। তাকেও হাটতে হয়েছে বিস্তর বন্ধুর পথ। স্বজন হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে আজ তিনি দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তার নেতৃত্বগুণেই বিশ্ব দরবারে নতুনভাবে পরিচিত পাচ্ছে যে দেশ সে এক নতুন বাংলাদেশ।

তিনি না ফিরলে হয়তো এদেশের ইতিহাসটা অন্ধকারেই পাক খেতে থাকত। তিনি ফিরেছিলেন বলেই হয়তো আজ বাঙালির কুঁড়েঘরে দু’মুঠো ভাত আর একটুখানি সুখ খেলা করে। আমাদের সামনে হাতছানি দিয়ে ডাকছে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধুর পরিবারের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র থেমে নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যা করতে ১৯ বার হামলা চালানো হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন মুজিব তনয়া। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার চেষ্টাও ৭৫’র ষড়যন্ত্রেরই অংশ। সুতরাং আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে থাকতে হবে সব সময়।

মনের মধ্যে পুঞ্জবাঁধা লাইন দিয়ে শেষ করি—

সকালের কাঁচা সোনা রোদ খেলা করে মাটির কোলে,
কচি পাতায় ঠিকরে পড়ে কোমল আলো,
রোদের গন্ধ লেগে যায় পাখির নরম পালকে,
নতুন প্রভাতের ঝলমলে আলোয় মানুষের নিত্য ব্যস্ততা বাড়তে থাকে,
আকাশ বেয়ে সূর্য চলে আসে মধ্য গগনে, 
জাম-কাঁঠাল ছায়ায় দাঁড়িয়ে ভাবি,
এত সুন্দর কেন আমার জন্মভূমি?

পরক্ষণেই মনে পড়ে কবিতার লাইনগুলো : ‘জননী জন্মভূমি তুমি তো স্বর্গের চেয়েও সুখময়’, ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা।’ কিংবা ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে, এই বাংলায়’...

এর সবটুকু অবদান দেশরত্ন শেখ হাসিনার। জয় হোক আপনার।  ‘শেখ হাসিনার জন্য বাংলাদেশ ধন্য।’ জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.