বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরাতেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।




শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ফখরুল। গত ৯ মে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য সরকার দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। এটা দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার হীন চক্রান্ত।’

সভার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সভায় সাবেক সদস্য আলমগীর হায়দার এবং শহীদুল ইসলাম মাস্টারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। এছাড়া তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক ভূঁইয়ার মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।’

এ ছাড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালনে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সম্পাদকমণ্ডলীর যৌথসভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সভা প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মিথ্যা অভিযোগে বরেণ্য সম্পাদক ও সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার, বেআইনিভাবে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে মানসিক নির্যাতন এবং কোনো শ্রেণি প্রদান না করেই কারাগারে পাঠানোর তীব্র নিন্দা জানায়। একইসঙ্গে সভা আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক  মাহমুদুর রহমানকে দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকা অবস্থায় মিথ্যা অভিযোগে ওই মামলায় সম্পৃক্ত করে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও নিন্দা জানায়।

সভা মনে করে, শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের ওপর বেআইনী এই কারা নির্যাতন এ কথাই প্রমাণ করে যে, সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে পেশকৃত অভিযোগপত্রে শফিক রেহমান এবং মাহমুদুর রহমানের নাম উল্লেখ নেই এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ অভিযোগপত্রে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যাংকে রক্ষিত ৩০০ মিলিয়ন ডলারের যে উল্লেখ করা হয়েছে সে সম্পর্কে সরকার নীরব রয়েছে। এই পরিমাণ রক্ষিত অর্থ সম্পর্কে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত বিষয় জাতির সামনে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি।

বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান মনোনয়ন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা এবং দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই প্রচারণা চালাচ্ছে বলে সভা মনে করে। বিএনপি একটি নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক দল। বিএনপির বিরুদ্ধে এই ধরনের অপপ্রচার স্বৈরতান্ত্রিক-অগণতান্ত্রিক সরকারের হাতকেই শক্তিশালী এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের নীল নকশা বাস্তবায়নে সাহায্য করবে।

সভা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়েরের তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে সকল মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। এছাড়া দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি ও বিরোধী দলের সকল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছে এবং কারারুদ্ধ সকল নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করছে।

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একটি প্রহসন ও তামাশায় পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ জন মানুষ সহিংসতায় প্রাণ দিয়েছে এবং আহত হয়েছে অসংখ্য।বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। সরকারের লেজুড়বৃত্তির মাধ্যমে বর্তমান নির্বাচন কমিশনও প্রমাণ করেছে যে, তাদের পরিচালনায় নির্বাচন কখনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সভা অবিলম্বে এই নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করছে এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের আহ্বান জানাচ্ছে।

সভা মনে করে, সরকারের দুঃশাসনে দেশে গভীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশকে চরম অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। এই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে দেশে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে অতিদ্রুত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই।

সভায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, ভিন্নমত পোষণকারীদের হত্যা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ ও তাদের সম্পদ দখলের ঘটনায় সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ সব ঘটনায় বিরোধী দলকে দোষারোপ না করে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি।

সভা মনে করে, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে খালেদা জিয়া যে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন তাতে সাড়া দিয়ে সরকারের উচিত হবে, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে বৈঠক আহ্বান করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রধানমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রী দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করে চলছে এবং একজন ফাঁসিও চেয়েছেন। এ ধরনের মন্তব্য তাদের দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে। আমরা মনে করি, এটি খালেদা জিয়া এবং ভিন্নমতের সব রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র। দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চিরস্থায়ী করার নীল নকশা মাত্র।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.