খুব বড়সড় চেহারার মালিক ও নয়, প্রচণ্ড গতি আছে বোলিংয়ে এমনও না। ওই এক মাত্র বোলার নয় যে ক্রিকেট বলকে সুইং করাতে পেরেছে। এখন তো সবাই কাটার করতে পারে। তার উপর মাঝে মাঝেই ছেলেটা হাসে। ফাস্ট বোলারদের  ক্ষেত্রে যেটা সচরাচর দেখা যায় না। তা হলে কেন বিশেষজ্ঞরা মুস্তাফিজুরকে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে এখন বিশ্বের সেরা তরুণ ফাস্ট বোলার হিসেবে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছে?




রোববার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) কিংস ইলেভেন পাঞ্চাবের বিপক্ষে নিজের প্রথম ওভারেই মুরালি বিজয়কে আউট করে ৫০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন মুস্তাফিজ। দ্বিতীয় বলে নিজের অন্যতম সেরা অস্ত্র স্লোয়ারে বিজয়কে বোকা বানিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান সাতক্ষীরার এই বিস্ময়-বোলার। মুস্তাফিজের স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে মিড-অফে ওয়ার্নারকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন পাঞ্জাবের ওপেনার।


৩৫তম ম্যাচে এসে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মুস্তাফিজ। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ২২টি ও বিপিএলে ঢাকা ডায়নাইমাইটসের হয়ে নেন ১৪টি উইকেট। অন্যদিকে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে ১৪টি উইকেট নিয়ে ৫০তম উইকেটের মাইলফলক পূর্ণ করেন তিনি।


পরিসংখ্যান কিন্তু বলছে এ ছেলের বিস্ময় প্রতিভা। ভাবুন ভারতের বিরুদ্ধে একটা ওয়ানডে সিরিজে দুটো পাঁচ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স দিয়ে শুরু। বা আমলা, দুমিনি আর ডি’কককে আউট করে টেস্ট অভিষেক বা চলতি আইপিএলে ওকে দেখেই ব্যাটসম্যানরা যে রকম গলে যাচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যেই মুস্তাফিজুর এমন একটা সমীহ আদায় করে নিয়েছে যেটা অনেক পেশাদার বোলারের তৈরি করতে সারাজীবন লেগে যায়। মনে হচ্ছে যেন গত কালই ছেলেটা বাংলাদেশে ওর গ্রামের পুকুরের পাশে বসে ছিল।


ইতিহাস বলছে বিশ্বের সেরা বোলাররা কিন্তু খুব কৃপণও। কুম্বলে, ওয়ার্ন, মুরলী, ম্যাকগ্রা তাদের দীর্ঘ কেরিয়ারে ওভার পিছু গড়ে রান দিয়েছে খুব বেশি হলে দুই। তারা সফল হয়েছে তাদের কাজটা নিপুন ভাবে করে দেখানোর জন্য। এরা শিকারের সঙ্গে খেলতে ভালবাসত, তারপর আচমকা এমন একটা কড়া ঘুষি কষাত যেটা গোটা একটা ব্যাটিং প্রজন্ম সামলানোর উপায় খুঁজে পায়নি। সেই সোনার ডেলিভারি যেটা কখনও এদের হতাশ করেনি। অমোঘ আঘাতে শিকার শেষ।


মুস্তাফিজুরের ভাণ্ডারেও তেমন একটা বিরল ডেলিভারি আছে।  এমনিতে ওর অস্ত্র দুরন্ত সুইং, ধারালো কাটার আর এমন একটা ইয়র্কার যেটা ব্যাট থামাবে সাধ্য কী! তবে মুস্তাফিজুরের শোকেসের ব্রহ্মাস্ত্র হল সেই ডেলিভারিটা যেটা পিচে পড়ে থমকে গিয়ে ব্যাটসম্যানের সামনে লাফিয়ে ওঠে। আর বেশির ভাগ সময়ই ব্যাটসম্যান সেটা কভারের উপর দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে ফেরে।


এই বলটা করার সময় ওর বোলিং অ্যাকশনে কিন্তু কোনও পরিবর্তন হয় না। আসল খেলাটা থাকে ওর কব্জিতে। সবটাই বলটা ছাড়ার কায়দা।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.