মৌসুমী ফলে ছেয়ে গেছে রাজধানী ঢাকা। জ্যৈষ্ঠের আগমনের আগেই বাজারে আসতে শুরু করেছে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচুর মতো সুমিষ্ট ফল। অবশ্য স্বাদে সুমিষ্ট হওয়ার কথা থাকলেও সে সৌভাগ্য সব ক্রেতার হয় না। অনেক ক্রেতাই বলেন, বাহারি চকচকে দেখতে ফলগুলোয় কোনো স্বাদই আসলে নেই। বাইরে থেকে দেখতে টাটকা মনে হলেও ভেতরে পচা দেখা যায়। 

 

রাজধানীর বেশিরভাগ বাজারগুলোতে আম, জাম, জামরুল, লিচু, পেয়ারা, আনারস, তরমুজের মতো রসালো ফল বিক্রি হতে দেখা যায়। নির্দিষ্ট সময়ের অনেকটা আগেই বাজার ভরে গেছে কয়েক প্রজাতির আমে। যদিও দাম খুবই চড়া। আর এই আম কিনে তা খেতে গিয়ে স্বাদে ও মানে ধরা খাচ্ছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা সময়ের আগেই বাজারে চলে আসা ফলের ফিরিস্তি গাইছেন নানারকম। কেউ বলছেন, বিশেষ জাতের গাছের ফল, কেউ আবার বলছেন, এগুলো এসেছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে।

পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় মৌসুমী ফল নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে আসার পর আমাদের দেশে আসে বলে জেনে এসেছি। ‘খেলে খান, না খেলে যান’... মানে ফল বিক্রেতাকে প্রশ্ন করলে এমন উত্তরই আসে।

বিশেষজ্ঞেরা অবশ্য বিক্রেতার সেই ক্ষোভের কথাই মেনে নিতে পরামর্শ দেন। কেননা, মৌসুমের আগে বাজারে চলে আসা ফলের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে বহুদিন ধরেই দেশে নানা সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ফল বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয় অপরিপক্ক। বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে এগুলোকে আগেই পাকানো হয়। আর তা করা হয়, বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য। অনেক সময় আগের মৌসুমের ফলও রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে জমিয়ে রাখা হয়। এই দুই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত সব ফলই স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এমনিতেই বাজারে মৌসুমী ফল আসলে ক্রেতাদের মধ্যে তা কেনার হিড়িক দেখা যায়। একটু বেশি দামে হলেও পরিবারের সদস্যদের জন্য এসব ফল কিনতে চান সব শ্রেণী-পেশার মানুষই। আর মানুষের সেই দুর্বলতাকে পুঁজি করেই বাজারে কাজ করে কিছু অসাধু চক্র। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজ দেশের জনগোষ্ঠিকেই তারা হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এক্ষেত্রে জনসাধারণেরও সচেতনতার প্রয়োজন আছে। একজন ক্রেতা হিসেবে জানা সত্ত্বেও মৌসুমের আগে ফল কেনা বুদ্ধির পরিচয় নয়। সেই ফল তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার আগে ভেবে দেখা উচিৎ তা মানসম্মত কিনা। যেমন আমের কথাই ধরি, জ্যৈষ্ঠের আগে আম পাকে না জেনেও অনেকে বাজার থেকে তা কিনছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ তো নিশ্চয়ই জানেন অসময়ের ফলের পেছনে অনিয়মের ব্যাপার জড়িয়ে আছে। তবুও তারা কিনছেন, খাচ্ছেন এবং পরে ফল গুণছেন।

জেনে শুনেও এধরনের ফল কেনা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া নয় কি? আর বিক্রেতাদের বলতে পারি, নিজে হয়তো পরিবারকে এসব বিষাক্ত ফল তিনি খাওয়ান না। তবে যে বিষাক্ত ফল তিনি একজন সরল ক্রেতার হাতে তুলে দিচ্ছেন, এমন তো হতে পারে তার বাড়িতেও কেউ সেই ফল উপহার হিসেবে নিয়ে যাচ্ছেন। আর তা খেয়ে সমান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিক্রেতার পরিবারও। শুধু ফল নয়, বাজারে শাকসবজিসহ এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় সব খাদ্যদ্রব্যেই ভেজাল। ফলে যিনি ক্রেতা তিনি তো ক্ষতিগ্রস্তই, যিনি বিক্রেতা তিনিও তার বাইরে নন। কেননা, বিষাক্ত ফল বিক্রি করে তাকে বাজার থেকে ভেজাল পণ্যই পরিবার ও নিজের জন্য কিনতে হচ্ছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.