৬২ বছর আগে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে সেই দৌড়ের সমাপ্তিরেখা ছোঁয়ার পর রজার ব্যানিস্টার l ফাইল ছবি
লাউড স্পিকারে ভেসে আসা কথাটার শুধু এতটুকুই বোঝা গেল: ‘দ্য টাইম ওয়াজ থ্রি...।’ বাকি কথাটা হারিয়ে গেল দর্শকদের চিৎকারে, গর্জনে। মানুষ যে উন্মুখ হয়ে ছিল এই ‘থ্রি’-টাই শুনতে, এর লেজে বাকি যা-ই থাকুক না কেন! তারিখটা ছিল ১৯৫৪ সালের ৬ মে। অর্থাৎ ৬২ বছর আগে আজকের এই দিনে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে রজার ব্যানিস্টার যে কীর্তি গড়েছিলেন, তার সঙ্গে তুলনা করা যায় চাঁদে কিংবা এভারেস্টে মানুষের প্রথম পা রাখার সঙ্গে। ৪ মিনিটের কম সময়ে এক মাইল দূরত্ব যে মানুষের পক্ষে অতিক্রম করা সম্ভব, এটাই যে এর আগে ভাবতেই পারেনি মানুষ!

ব্রিটিশ এই দৌড়বিদ সেদিন সময় নিয়েছিলেন ৩ মিনিট ৫৯.৪ সেকেন্ড। আর মানুষের জন্য সে সময় অভাবিত এই সাফল্যের রসদ জুগিয়েছে কিন্তু একটা ব্যর্থতা। ১৯৫২ অলিম্পিক ব্যানিস্টারকে উপহার দিয়েছিল দুঃস্মৃতি। ১৫০০ মিটার দৌড়ে হয়েছিলেন চতুর্থ। ডাক্তারির ছাত্র ব্যানিস্টার প্রথমে ভাবলেন, দৌড়ই ছেড়ে দেবেন। শেষ পর্যন্ত মত বদলালেন। ভাবলেন, এবার নতুন একটা চ্যালেঞ্জ নেওয়া যাক। যা কেউ কখনো পারেনি, সেটাই করে দেখাবেন। ৪ মিনিটের কম সময়ে এক মাইল!
১৯৫৩ সালের মের শুরুতে ব্রিটিশ রেকর্ড ভাঙার চেষ্টায় টাইমিং করলেন ৪ মিনিট ৩.৬ সেকেন্ড। সে-ই প্রথম ব্যানিস্টারের উপলব্ধি হলো, ৪ মিনিটের এই যে একটা অলঙ্ঘনীয় এক বাধা, সেটা যতটা না শারীরিক সামর্থ্যের কারণে, তার চেয়ে বেশি মানসিক। মানুষের পক্ষে কখনোই ৪ মিনিটের এই বাধা ভাঙা সম্ভব না—এটা পরিণত হয়েছিল মিথের পর্যায়ে। পরে সত্যি হয়েছে সেটাই। একবার সেই বাধা ভেঙে যাওয়ার পর একের পর এক দৌড়বিদ একসময় ‘অসম্ভব’ বলে বিবেচিত এই কীর্তি গড়তে শুরু করলেন। ১৯৯৯ সালে যে রেকর্ডকে ৩ মিনিট ৪৩.১৩ সেকেন্ডে নিয়ে এসেছেন মরক্কোর হিশাম আল গেরুজ।
চার মিনিটেরও প্রায় ১৭ সেকেন্ড কম লেগেছে গেরুজের। ব্যানিস্টার পথ দেখিয়েছিলেন বলেই তো! অলিম্পিক ব্যর্থতার পর দুই বছর কঠোর পরিশ্রম শেষে অবশেষে এল সে-ই দিন। মানুষের সামর্থ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার; মানুষকে তাঁর আশার সমান, স্বপ্নের সমান বড় ঘোষণা করার সেই দিন; যে দিনটায় ব্যানিস্টার দৌড়াবেন কি না তা নিয়েই ছিলেন দ্বিধায়!
রজার ব্যানিস্টার
নিজের হাসপাতালে জুতার স্পাইকগুলো পরিষ্কার করে সেখানে গ্রাফাইট লাগাতে লাগাতে ব্যানিস্টার ভাবছিলেন, আজ না দৌড়ালেই বোধ হয় ভালো। বৃষ্টি পড়ছে, সঙ্গে বইছে ঝোড়ো বাতাস। যা কখনো কখনো ঘণ্টায় ২৫ মাইলও ছুঁয়ে ফেলছে। দৌড় শুরু হওয়ার আগে অবশ্য বাতাসের বেগ কমে এল। সব ঠিকঠাক। শুরু হবে দৌড়। সেটির আগে আরেক নাটক।

সাতজনের দৌড়ানোর কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে বাদ পড়লেন নাইজেল মিলার। মিলার আসলে জানতেনই না, তাঁরও দৌড়ানোর কথা। তিনি এসেছিলেন দর্শক হিসেবে। এসে দেখেন, তাঁরও নাম ঝুলছে প্রতিযোগীদের নামের তালিকায়। এর-ওর কাছে চেয়ে-চিন্তেও ভালো একজোড়া বুট পেলেন না বলে শেষ পর্যন্ত সরে গেলেন।
ছয়জনকে নিয়েই শুরু হলো দৌড়। শুরু থেকেই কিন্তু এগিয়ে ছিলেন না ব্যানিস্টার। বরং শেষ ল্যাপটার অর্ধেকও যখন বাকি, সে সময়ও তিনি পেছনে। আসলে শেষ টানের জন্যই জমিয়ে রেখেছিলেন সব শক্তি। শেষ ২৭৫ গজে ঝড় তুললেন। শেষ ল্যাপটা পেরোলেন মাত্র ৫৯ সেকেন্ডে। ছুঁয়ে ফেললেন ফিনিশিং লাইন। ছুঁয়ে ফেললেন আসলে একটা স্বপ্ন।
কিন্তু তখনো ভিড় করা হাজার তিনেক দর্শক জানে না টাইমিংটা কত। সবাই উসখুস করছে। সবাই যে জানতে চায়, ব্যানিস্টার পেরেছেন? পেরেছেন কি! আর সেটারই সুযোগ নিলেন ঘোষক নরিস ম্যাকহুইর্টার। কথার পর কথা বলে যাচ্ছেন, শব্দের পর শব্দ খরচা করছেন, কিন্তু টাইমিংটাই বলছেন না। অবশেষে সবার উৎকণ্ঠা যখন তুঙ্গে, লাউড স্পিকারে ভেসে এল: দ্য টাইম ওয়াজ থ্রি...।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.