পানিটোলায় খাওয়ার পানি নেই, তবে বৃষ্টি হলে সরু নর্দমা উপচে ময়লা পানিতে সয়লাব হয়ে যায় রাস্তা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে শাঁখারীবাজারের পাশে ছোট্ট গলি এই পানিটোলা। ২৬টি বাড়িতে থাকে শতাধিক পরিবার। আছে অনেক দোকানপাট। প্রায় সব ধরনের নাগরিক সেবা থেকেই বঞ্চিত এলাকার মানুষ।


পুরান ঢাকার পানিটোলা এলাকায় প্রায় দুই মাস ধরে বাসাবাড়িতে পানি নেই। এলাকায় দুটি চাপকলে পানি এলেও সেগুলোতে পানির চাপ কম। ছবিটি গতকাল তোলা l প্রথম আলো


গতকাল বুধবার এলাকায় গিয়ে বসবাসকারীদের নানা সমস্যার কথা জানা যায়। পানি-সমস্যার পাশাপাশি রয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা। এঁদো গলিতে চলতে গেলে হোঁচট খেতে হয়। দিনের বেলায়ও মশার উৎপাত।
এলাকায় পানির সমস্যা বছরের পর বছর। কখনো পানি থাকেই না। পানি এলে তা হয় ময়লা ও গন্ধযুক্ত। বয়োজ্যেষ্ঠ অমিয় সাহা বলেন, পাকিস্তান আমলে এলাকায় যে পাইপলাইন বসেছিল, সেই লাইনেই পানির সরবরাহ। জং ধরে পাইপ ফুটো হয়ে গেছে। সে পথে ঢুকে পড়ছে ময়লা পানি। কোনো কোনো বাড়িতে পানিই যায় না। অবৈধ চাপকল বসিয়ে পানি টেনে তুলতে হয়। এ রকম বাড়ির সংখ্যা ১৬-এর মতো। এসব বাড়ির সদস্যদের কয়েকজন জানান, চাপকল ছাড়া পানি তোলা অসম্ভব। তবে চাপকলে যে পানি আসে, সে পানির ময়লা ছাঁকার জন্য কলের মুখে কাপড় বাঁধা। একটি বাড়ির গৃহিণী অনীলা দেবী বললেন, ‘ছাঁকনি দিলে কেঁচো বা পোকামাকড় আসে না। কিন্তু দুর্গন্ধ তো ছাঁকা যায় না।’
পানিটোলা ১৪ নম্বর বাড়ির কাছে রাস্তায় এবং বিপরীত দিকে দুটি কল রয়েছে। সেখানে জার বা বোতল, কলসির ভিড়। অনেকে কলসি বসিয়ে দখল রেখেছেন, কেউ কেউ দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। তাঁদের একজন অরুণ ঘোষের বক্তব্য, ‘রাস্তার কল যেহেতু বড় পাইপের সঙ্গে যুক্ত, তাই পানিটা হয়তো ভালো। এ জন্য এখানে ভিড়।’ এলাকায় সরবরাহ হয় সোয়ারীঘাটের চাঁদনীঘাট শোধনাগারের পানি। ঢাকা ওয়াসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, এলাকায় পানির পাইপ অনেক পুরোনো বলে পানি খারাপ, এটা সত্য। তবে তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, সেখানে সরবরাহ হচ্ছে বুড়িগঙ্গার পানি। এই পানি শোধনযোগ্যতা হারিয়েছে অনেক আগেই।
গত শুক্র ও শনিবার বৃষ্টিতে এলাকায় নর্দমা উপচে ময়লা পানিতে ভরে গিয়েছিল পানিটোলা। দেখা গেল, সরু গলির একধারে নর্দমা। নর্দমার কিছু অংশে মেরামতের কাজ চলছে। ৬, ৭ ও ৮ নম্বর দোকানের সামনে নর্দমার ঢাকনা খোলা। দোকানিরা বলেন, ঢাকনা তুলে ফেলায় প্রায় প্রতিদিনই পথচারীদের পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া ১০-১২ দিনের মধ্যে নর্দমা পরিষ্কার করা হয় না। পরিষ্কার করার পর তুলে আনা আবর্জনা রাস্তায় ফেলে রাখা হয় চার-পাঁচ দিন ধরে। এই দুর্গন্ধের মধ্যে বসবাস এলাকাবাসীর।
জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুজাবত আলী বলেন, ‘পানির লাইন পুরান, সেটা ঠিক আছে। নতুন শোধনাগারের জন্য পাইপ টানার সময় এসব বদলানো হবে। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পানির পাম্পটি প্রতিস্থাপন করা হলে এ সমস্যা অনেকটা কমে যাবে।’
এলাকার বাসিন্দা সুদেব ঘোষ, অখিল সোম, বাবুল ধরসহ কয়েকজন জানান, মশার উৎপাত কাকে বলে, এলাকাবাসী হাড়ে হাড়ে তা বুঝতে পারছেন। শেষ কবে ওষুধ ছিটানো হয়েছে, তা স্মরণ করতে পারেননি তাঁরা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা এখন নিয়মিত। চুলায় গ্যাসের আঁচ থাকে না দিনের বেশির ভাগ সময়।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.