সারা দিন কিছু খেতে দেওয়া হয়নি। ক্ষুধার যন্ত্রণা নিয়ে একপর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়ে নয় বছরের শিশুটি। সন্ধ্যায় পুলিশ সদস্যদের দেখে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে সে। তাদের উদ্দেশে বলে, ‘স্যার। আমারে ছেড়ে দেন। আমি চুরি করিনি। আমি নির্দোষ।’

 এ কেমন আচরণ পুলিশের !!!

এই শিশুটির মতো আরও আটটি শিশু। কারও শরীরে মলিন পোশাক। কারও গা খালি। চেহারায় দারিদ্র্যের ছাপ। কাঁদতে কাঁদতে তারা সমস্বরে বলে, ‘স্যার। আপনাগো দিলে কি কোনো মায়া-দয়া নেই? আমরা তো চুরি করিনি। আমাদের ছেড়ে দেন। পুলিশ খামাখা আমাদের ধরেছে।’
এ দৃশ্য গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের হাজতখানার।
এই নয়টি শিশুকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক করে গতকাল সকালে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় আনে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। কিন্তু তাদের কাউকে আদালতে তোলা হয়নি। সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তাদের রাখা হয় হাজতখানায়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আদালত পুলিশ মোহাম্মদপুর থানার দেওয়া প্রতিবেদন সিএমএম আদালতে উপস্থাপন করে। আদালত শিশুদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মাধ্যমে টঙ্গীর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে সন্ধ্যার দিকে শিশুদের প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে নয়জন শিশুর মধ্যে চারজন আদালত এলাকায় এই প্রতিবেদককে বলে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তাদের মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড় থেকে সাদাপোশাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের নেওয়া হয় মোহাম্মদপুর থানায়। চুরি করার কথা স্বীকার করানোর জন্য মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে পুলিশ তাদের লাঠি দিয়ে মারধর করে। কথা বলার সময় নির্যাতনের চিহ্ন দেখায় তারা।
বাকি পাঁচ শিশু বলে, বুধবার দুপুরে পুলিশ তাদের মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডেকে থানায় নেয়। পরে হাজতখানায় আটকে রাখা হয়। তারা চুরির সঙ্গে জড়িত এমন কথা স্বীকার করানোর জন্য তাদের নির্যাতন করে পুলিশ। ঠিকমতো খেতেও দেওয়া হয়নি তাদের।
আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক নয়ন মিয়া বলেছেন, এরা কিশোর অপরাধী। এরা মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া টাউন হল, মোহাম্মাদীয়া হাউজিংসহ আবাসিক এলাকায় গ্রিল কেটে চুরি করে থাকে। বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় এলাকাবাসী তাদের আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। এসব কিশোর অপরাধীর কোনো আত্মীয়স্বজন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এই শিশুদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, জানতে চাইলে নয়ন মিয়া বলেন, এরা এলাকার কিছু চিহ্নিত চোরের সহযোগী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তবে পুলিশের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এক শিশুর মা আদালত এলাকায় বলেন, তাঁর ছেলে মোহাম্মদপুরের একটি স্কুলে লেখাপড়া করে। সে কোনো দিন চুরি করেনি। গত মঙ্গলবার রাতে তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাকে থানায় রাখা হয়। তিনি বারবার পুলিশকে বলেছেন, তাঁর ছেলে নিরপরাধ। অথচ পুলিশ তাকে ছেড়ে না দিয়ে নির্যাতন করেছে। এমনকি তাদের সঙ্গে দেখাও করতে দেওয়া হয়নি।
শিশুটির মা জানান, কেবল তাঁরা নন, আরও তিন শিশুর অভিভাবক থানায় যান। কিন্তু পুলিশ শিশুদের ছেড়ে দেয়নি।
জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ‘এসব শিশু ভোরবেলা ঘোরাঘুরি করে। আমরা হয়তো তাদের ভোরে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। শিশুদের থানায় নিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পেলে অবশ্যই তা তদন্ত করা হবে।’
জানতে চাইলে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, শিশুদের রাস্তা থেকে পুলিশ এভাবে ধরে নিয়ে যেতে পারে না। এটা অন্যায়। শিশুদের আটক করার পর অবশ্যই তাদের আত্মীয়স্বজনকে খবর দিতে হবে। কোনোটাই এখানে মানা হয়নি। তাদের ওপর নির্যাতন করার অভিযোগের বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত হওয়া দরকার।
শিশুদের আটক ও নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন অনুযায়ী, শিশুরা যদি নির্যাতন করার অভিযোগ করে থাকে, তাহলে অবশ্যই তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।






Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.