অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না যে, পরিচিত জনদের অনেকেই আপনাকে নিয়মিত মিথ্যা বলেন। আপনি যদি কোনো মিথ্যা ধরতে পারেন তাহলে করণীয় কী হবে? অনেকেই এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফোর্বস। সাধারণ কথাবার্তাতে প্রচুর মানুষ মিথ্যা বলেন। দেখা গেছে প্রতি ১০ মিনিট কথাবার্তায় দুই বা তিনটি মিথ্যা বলেন অধিকাংশ মানুষ। 



কথাবার্তায় কারো মিথ্যা ধরতে পারেন তাহলে ঠিক কী করণীয়

এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা। মিথ্যা ধরার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বিচারক, কাস্টমস এজেন্ট, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। তবে তারা মোট মিথ্যার মাত্র ৬০ শতাংশ ধরতে পারেন।
তবে সাধারণ মানুষও কথাবার্তায় প্রচুর মিথ্যা ধরতে পারেন। আপনি যদি কথাবার্তায় কারো মিথ্যা ধরতে পারেন তাহলে ঠিক কী করবেন? এক্ষেত্রে কয়েকটি করণীয় তুলে ধরা হলো এ লেখায়।

প্রথমেই নিয়মটি বুঝে নিন
কর্মক্ষেত্রে যদি কেউ মিথ্যা বলে তাহলে তা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কিছুক্ষণ চিন্তা করুন। যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম বুঝে নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য যদি কোনো হ্যান্ডবুক থাকে তা দেখে নিন। মিথ্যাটি কতখানি গুরুত্বপূর্ণ এবং তা প্রতিষ্ঠানের বা কাজের কতখানি ক্ষতি করবে সে বিষয়টি জেনে নিন। ঠিকভাবে বিষয়গুলো বুঝে না নিয়ে ব্যবস্থা নিয়ে তা আপনার হিতে বিপরীত হতে পারে। নিয়মগুলো বোঝা হয়ে গেলে সে অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নিতে পারেন-
১. কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া
মিথ্যা কথা বলার বিষয়টি কারো পছন্দ নাও হতে পারে। মিথ্যাবাদীকে হাতেনাতে ধরা একটি প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিন্তু সবক্ষেত্রে তা প্রয়োজনীয় নয়। কাজের ক্ষেত্রে অন্যের বিষয়ে যেমন মাথা ঘামানো উচিত নয়, তেমন মিথ্যা ধরাও অপ্রয়োজনীয় হতে পারে। এক্ষেত্রে যদি আপনার প্রয়োজনীয় কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয় তাহলে তাতে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। এক্ষেত্রে তার মিথ্যাবাদীতার বিষয়টি মনে রাখা যেতে পারে। কিন্তু তাই বলে অযথা মিথ্যা বলার প্রয়োজনীয়তা নেই।
২. হাসিতে উড়িয়ে দিন
কিছু মিথ্যা রয়েছে এমন একটি পর্যায়ের, যা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা যায় না। আবার তা এত বড় নয় যে, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদীর মিথ্যা যে আপনি ধরতে পেরেছেন তা বোঝানোর জন্য একটু হাসিই যথেষ্ট। আপনি তার মিথ্যা ধরতে পেরেছেন, এ বিষয়টি বোঝানো যেতে পারে তাকে। এছাড়া কোনো মজার কথা কিংবা মন্তব্য করে তা বোঝানো যায়। মূল বিষয়টি হলো, আপনি অন্য মানুষের মিথ্যাটি পুরোপুরি উপেক্ষা না করে তাকে জানিয়ে দিলেন যে, বিষয়টি আপনার বোধগম্য হয়েছে।
৩. নিরব থাকুন
কেউ মিথ্যা বললেই যে আপনার সেজন্য সরব হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এক্ষেত্রে আপনি কারো মুখরক্ষা করতে পারেন সম্পূর্ণ নিরব থেকে। যদি মিথ্যাটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে না হয় তাহলে তা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজনীয়তা থাকে না। এক্ষেত্রে কথাটি তিনি যদি মুখ ফসকেও বলে থাকেন তাহলে তা তাকেই বলতে দিন।
৪. জানিয়ে দিন
গুরুত্বপূর্ণ কোনো মিথ্যা যদি ধরতে পারেন তাহলে তা জানিয়ে দিন অন্যদের। এক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মাথা ঠাণ্ডা রেখে তা নিয়ে করণীয় ঠিক করুন। মিথ্যাটি যদি আপনাকে প্রভাবিত করে তাহলে তাকে জানিয়ে দিতে পারেন যে, এটি আপনি মোটেই পছন্দ করছেন না। এছাড়া বিষয়টি আপনার জন্য ক্ষতিকর হলে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবেন না। আপনি যদি মনে করেন মিথ্যার বিষয়টি সবার সামনে আলোচনার প্রয়োজন নেই তাহলে মিথ্যাবাদীকে নিরিবিলিতে নিয়ে আলোচনা করুন। যদি নিরিবিলিতে আলোচনায় কাজ না হয় তাহলে তা অন্যদের জানান।
৫. নিজেকে রক্ষা করুন
যদি মিথ্যার বিষয়টি আপনাকে প্রভাবিত করে তাহলে সবার আগে নিজেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। এটি কোনো হেলাফেলার বিষয় নয়। এক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন হতে পারে মিথ্যার বিষয়টি মজবুত করার জন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষির। বিষয়টি যদি লেখা থাকে তাহলে তা প্রমাণ করা সহজ। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি যদি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে তাহলে লিখিত প্রমাণাদি সতর্কভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আইনজীবীর মাধ্যমে তা আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.