আয়কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশে নামে ও বেনামে কোম্পানি খুলে কালো টাকা জমানোর ‘বস্তুবাদে’ কেউ-ই পিছিয়ে নেই। এতে যেমন আগ্রহ আছে চীনের কমিউনিস্ট প্রেসিডেন্টের, তেমনই এ ব্যাপারে আগ্রহে ঘাটতি নেই ঘোর কমিউনিস্ট-বিদ্বেষী রুশ প্রেসিডেন্টেরও! যার ওপর ভরসা রাখেন আমেরিকার ‘কাছের লোক’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। 




আস্থা রাখেন বলিউডের মেগা স্টার অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই আর ফুটবলার লিওনেল মেসিও। এই ‘বস্তুবাদে’ অন্তত কোন ‘দ্বন্দ্ব’ নেই!

বিশ্বের এক শ’টিরও বেশি সংবাদ মাধ্যমের চালানো যৌথ তদন্তে উঠে এসেছে ওই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই তদন্তে দেখা গেছে, নামে-বেনামে ওই রাষ্ট্রপ্রধান, রাজনীতিক, শিল্পপতি, ফুটবলার, ফিল্ম স্টারসহ সমাজের মান্যগণ্য ব্যক্তিরা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিদেশে কালো টাকা জমিয়ে চলেছেন। নামে ও বেনামে একের পর এক খুলে চলেছেন বেআইনী কোম্পানি। আর দিয়ে চলেছেন আয়কর ফাঁকি। এই তালিকায় নাম রয়েছে বিশ্বের অন্তত ১৪৩ জন রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রথম সারির রাজনীতিকের। তালিকায় এখন পর্যন্ত কোন বাংলাদেশী নেতানেত্রীর নাম থাকার খবর পাওয়া না গেলেও, এই ‘বস্তুবাদে’ আস্থা রয়েছে কম করে ৫০০ জন বিশিষ্ট ভারতীয়ের। পানামার সংবাদপত্রের দাবি, এই ৫০০ জনের তালিকায় যেমন রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাইয়ের মতো ফিল্ম স্টাররা, তেমনই নাম রয়েছে ভারতের প্রাক্তন এ্যাটর্নি জেনারেল সোলি সোরাবজির পুত্র জাহাঙ্গীর এস সোরাবজি, শিশির বাজোরিয়াসহ বেশ কয়েক জন বড় শিল্পপতিও।

মিডিয়ার নজর কেড়ে নিয়েছেন মূলত দু’জন। যাদের একজনের রাজনীতি ‘বস্তুবাদে’র পক্ষে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আর অন্যজন রাজনীতিতে রয়েছেন একেবারেই তাঁর বিপরীত মেরুতে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।

ওই তদন্ত জানাচ্ছে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের বেআইনী সম্পত্তির রাশ টানতে হালের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ‘হোতা’ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আর তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বেশ কয়েকটি ‘বেআইনী’ সংস্থার হদিশ মিলেছে বিদেশে। সে ক্ষেত্রে অনেক ‘সাবধানী’ রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। তদন্তে যার নাম উঠে এসেছে তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের ‘ডান হাত’। যিনি ‘বাঁ হাতে’ অন্তত দু’শ’ কোটি ডলার পাচার করেছেন বিদেশে। আর সেই ‘ব্ল্যাক মানি’ হয় রেখেছেন কোন বিদেশী ব্যাংকে। না হলে তার একাংশ ব্যবহার করেছেন কোন বেআইনী কোম্পানি খুলতে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের আত্মীয়ের নামে বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অন্তত চারটি বেআইনী সংস্থা। আর্জেন্টিনার মতো একটি ‘গরিব দেশে’র ফুটবলার লিওনেল মেসিই বা কম যান কিসে? তিনি আর তাঁর বাবা মিলে স্পেনে একটি তেলের কোম্পানি খুলেছেন।

এছাড়াও কর ফাঁকির মাধ্যমে যারা বিশাল অর্থের মালিক হয়েছেন তাদের অন্যতম হলেন, সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ, মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকসহ তার পরিবারের সদস্য ও তার সহায়তাকারীরা এবং লিবিয়ার সাবেক নেতা কর্নেল গাদ্দাফি। টাকা লুটপাটে আরও যেসব বিশ্বনেতার নাম এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল রহমান আল সৌদ, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মৌরিকিও ম্যাক্রি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরসেনকো, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট খলিফা বিন জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান, ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পালভো লেজারেনকো, জর্জিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিদজিনা লাভানিসভিলি, ইরাকের সাবেক মন্ত্রী আয়াদ আলাওয়ি, আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্দুর দাভিও গুন্নালাওগসন, কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামিদ বিন জসিম বিন জাবের আল থানি, কাতারের সাবেক আমির শেখ হামিদ বিন খলিফা আল থানি, জর্দানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলী আবু আল-রাগেব, সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদ আলী আল-মির্ঘানি।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.