কোলের শিশুকে নিয়ে বাইরে হাঁটছিলেন মা। আর ঘরে ঘুমিয়ে ছিল তিন বছরের শিশু হাফিজুর। ঘুম থেকে উঠে মাকে দেখতে না পেয়ে কান্নাকাটি করে হাফিজুর। তার কান্নার শব্দে বিরক্ত হয়ে পাশের ঘর থেকে আসে বাড়িওয়ালার স্ত্রী নূপুর বেগম। এরপর কান্না থামাতে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখায় নূপুর। এতে আরো ভয় পেয়ে অবিরত কাঁদতে থাকে শিশুটি। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটিকে তুলে মাটিতে ‘আছাড়’ মারে নূপুর বেগম। এতে শিশুটির বুক ও মাথা ফেটে যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরিশালের বানারীপাড়ার টিঅ্যান্ডটি মোড় এলাকায় এমন নির্মম ঘটনা ঘটে। শিশু হাফিজুরের বাবা রিপন শেখ একজন রিকশাচালক। তিনি পরিবার নিয়ে বাবলা মৃধার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার পর থেকে বাড়িওয়ালা বাবলা মৃধা ও তার স্ত্রী নূপুর বেগম পলাতক। এ ঘটনায় বানারীপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ, পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বানারীপাড়া পৌরসভার  ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃর্ধা বাড়িতে ভাড়া থাকেন রিকশাচালক রিপন শেখ। বাড়িওয়ালার স্ত্রী নূপুর বেগমের মালিকাধীন কুইন বিউটি পার্লারের পেছনে তাঁদের ঘর। বৃহস্পতিবার পহেলা বৈশাখের দিন সকালে প্রতিদিনের মতো রিকশা নিয়ে বের হন রিপন শেখ। সন্ধ্যার দিকে বড় ছেলে হাফিজুর ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। এর মধ্যে প্রচণ্ড গরমে কোলের আরেক শিশু সন্তানকে নিয়ে বাড়ির সামনে হাঁটতে বের হন মা লাবনী বেগম। ঘুম থেকে উঠে মাকে দেখতে না পেয়ে কাঁদতে থাকে শিশু হাফিজুর। এতে বিরক্ত হয়ে ঘরে ঢুকে হাফিজুরের কান্না থামাতে ভয় দেখায় নূপুর বেগম। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হাফিজুরের হাত ও পা ধরে মাটিতে আছাড় দেয়। এতে শিশুটি বুকে ও মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন হাফিজুরের মা। তত্ক্ষণাৎ শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু হাফিজুরের মৃত্যু হয়।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্তান হারিয়ে বাবা রিপন শেখ ও মা লাবনী বেগম পাগলপ্রায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকাবাসী শোকে আচ্ছন্ন। অবিরত আহাজারি করতে করতে হাফিজুরের বাবা রিপন শেখ বলছিলেন, ‘দেড় মাস আগে বাবলা মৃধার বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়েছিলাম। এর আগেও বাচ্চা কান্নাকাটি করলে বাড়িওয়ালার স্ত্রী নূপুর বাকাঝকা করত। সে কারণে বাসা ছেড়ে শুক্রবার অন্যত্র ওঠার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আমার ছেলেটিকে মেরে ফেলল বাড়িওয়ালার স্ত্রী।’

সন্তান হারিয়ে মা লাবনী বেগম পাগলপ্রায়। তিনি বারবার প্রশ্ন রেখে বলছিলেন, ‘কী অপরাধ ছিল মোর সোনাটার। ওরে ক্যান মাইরা হালাইলো। কারে নিয়া থাকমু এহন।’

মা লাবনী বেগম আরো বলছিলেন, ‘ছোড ছেলেটারে নিয়া বাড়ির সমানের রাস্তায় যাই। ওর কান্না হুইন্যা ঘরের দিকে যাইতেছিলাম, এ সময়ে দেখি বাড়িওয়ালী নূপুর ওর হাত-পা ধইরা উপর থেকে নিচে ফালাই দেয়। দৌড় দিয়া ঘরে ঢুইকা দেখি পোলা আমার বেহুঁশ হইয়া খাটের উপর পইরা আছে।’

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.