প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সরকার উৎখাত করতে না পেরে বিএনপি-জামায়াত এখন গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে। মানুষ পুড়িয়ে মারা ও ধ্বংস ছাড়া তারা কিছুই করতে পারে না। বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে গীর্জা, প্যাগোডা, মন্দির মসজিদে বোমা  হামলা হয়েছে। তারা দেশে উন্নয়ন চায় না, এটাই বাস্তবতা। জাতির পিতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, আমরাই দেশে উন্নয়ন করেছি-করে যাচ্ছি।



শনিবার (৩০ এপ্রিল) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সুধী সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি করে ভাগ্য গড়তে আসিনি। পদ্মাসেতু নিয়ে আমাদের এ কলঙ্ক দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিলো। তাই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করছি। বিএনপি-জামায়াত পদ্মাসেতু নিয়ে যদি ষড়যন্ত্র না করতো তবে এ সেতুর কাজ এতো দিনে আরও এগিয়ে যেতো। আমি জাতির পিতার কন্যা। রাজনীতি করছি নিজের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে। বাকিটা জীবন সেটাই করে যাবো। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য দেশের সুষম উন্নয়ন করা।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘এই দেশের মানুষের জন্য আমার বাবা-মা-ভাই-বোন সবাই জীবন দিয়ে গেছেন। আমি সব হারিয়েছি, আমার তো আর হারাবার কিছু নেই। চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। এখন এদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।’

‘বাংলাদেশের উন্নয়নকে অনেকে বিস্ময় বলেন, আমি বলি, এটি বিস্ময় নয়, বিশ্বাস। দেশের জনগণের প্রতি আমার বিশ্বাস রয়েছে। আমার প্রতিও দেশের মানুষের আঘাত বিশ্বাস রয়েছে। এ বিশ্বাস আছে বলেই দেশের উন্নতি করতে পারছি। আন্তরিকতার ত্যাগের মহিমা নিয়ে নিয়ত ভালো রেখে কাজ করছি বলেই যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই সাফল্য অর্জন করছি।’

স্বাস্থ্যখাতে তার সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখাতে উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আরও তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ করছি। এছাড়া প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে। গণমুখি স্বাস্থ্য নীতি দিয়েছিলাম, সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। এখন এমন সময় এসেছে যেখানে নার্সরাও পিএইচডি করতে পারবেন, আমরা সে সুযোগ করে দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় গোপালগঞ্জবাসী বৈরিতার শিকার ছিল। অবহেলিত ছিল। সেটি হয়েছিল একটি বিশেষ কারণে। সে সময় বাজেটে টাকা দেয়া হতো, তবে কাজ ও উন্নয়ন হতো না। এক সময় এখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ও সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।’

নতুন প্রতিষ্ঠিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আশা করি, এই চিকিৎসাকেন্দ্র মানবসেবায় অবদান রাখবে। আমি আরেক দিন এসে এখানে চোখ দেখিয়ে যাবো।’

এ দিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে ফাতেহাপাঠ ও বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য গোপালগঞ্জ সদর আসনের সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। সমাবেশের আগে তিনি বিশ্বমানের অত্যাধুনিক এ হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। 

একই স্থানে প্রধানমন্ত্রী ফিতা টেনে মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত চাঁপাইল ব্রিজ, টুঙ্গিপাড়া প্রধান ডাকঘর, গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার নব নির্মিত ভবন, গোপালগঞ্জ জেলা শিশু একাডেমি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন এবং শেখ লুৎফর রহমান ডেন্টাল কলেজ, গোপালগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, গোপালগঞ্জ ১০ কিলোওয়াট এফএম রেডিও স্টেশন, গোপালগঞ্জ-কাশিয়ানী-গোবরা নতুন রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প, টুঙ্গিপাড়া, মুকসুদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়ক পথে গোপালগঞ্জ থেকে দুপুর সাড়ে ১২টায় কোটালীপাড়ায় যান। এ সময় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষ হাত নেড়ে তাদের প্রিয় নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। কোটালীপাড়া পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাপার্ডে জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে দুপুর আড়াইটায় শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে একটি মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুভাষ জয়ধরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল, সাংসদ উম্মে রাজিয়া কাজল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, পৌর মেয়র এইচএম অহিদুল ইসলাম বক্তব্য দেন।

উপজেলার আওয়ামী লীগের আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা বিশাল জনসভায় পরিণত হয়। বৈশাখের প্রচণ্ড গরমকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার নারী-পুরুষ তাদের প্রিয় নেত্রীকে দেখার জন্য শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে ছুটে আসেন।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.