শুরু হয়ে গেছে বাংলা নববর্ষের প্রহর গণনা। সাতদিন পরেই হাজির হবে কাঙ্ক্ষিত নববর্ষের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দিনটিকে ঘিরে বর্ষবরণের নানা প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন উৎসবপ্রিয় বাঙালি। বর্ষবরণের সঙ্গে ঐতিহাসিক কোনো সম্পর্ক না থাকলেও হালে নববর্ষ উদযাপনের অংশ হয়ে পড়েছে পান্তা-ইলিশ। যা আবার অনেকের চোখে বাড়াবাড়ি। বিশেষ করে ইলিশ মাছ নিয়ে আদিখ্যেতা চরম পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে বলে মানছেন অনেকে।

 



রাজধানীর কয়েকটি মাছের বাজার ঘুরে ইলিশের মজুদ তেমন দেখা যায়নি। অন্যদিকে, ইলিশের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইলিশের বাজার দরে যেন আগুন। ইলিশ ব্যাবসায়ীদেরও পোয়াবারো অবস্থা। ফলাফল- স্বাদ ও সাধ্যের টানাপোড়েনে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য নববর্ষে ইলিশের স্বাদ নেওয়া আকাশ-কুসুম হয়ে পড়েছে।

বনশ্রী এলাকায় একটি বেসরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা বলেন, ‘বাসায় ছেলে-মেয়েরা বায়না ধরেছে নববর্ষের দিন পান্তা-ইলিশ খাবে। আমাদের সংস্কৃতিতে পান্তা-ইলিশের কোনো ইতিহাস নেই। তবুও বেশ কয়েক বছর ধরে পান্তা-ইলিশের ট্র্যাডিশন চালু হয়ে গেছে। টেলিভিশন চ্যানেল এবং সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেখে দেখে ছেলে-মেয়েরাও এটাকে ঐতিহ্য এবং জরুরি ভাবতে শুরু করেছে।’ তিনি বলেন ‘বর্ষবরণের দিন ইলিশ নিয়ে নতুন সংস্কৃতি, এটা আমার কাছে আদিখ্যেতা বলেই মনে হয়।’

রাজধানীর মিরপুর এলাকার গ্লাস অ্যান্ড থাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী মো. ফোরকান খান। গাবতলী বড়বাজারের মাছ বাজারে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, একজন বাঙালি হিসেবে নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পোশাকে-আশাকে, খাবার-দাবারে আগাগোড়া বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে এখন থেকেই শুরু করেছেন কেনাকাটা। তারই অংশ হিসেবে ইলিশ মাছ কিনতে এসেছেন। কিন্তু তার পছন্দসই ইলিশ পাচ্ছেন না। এক কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজনের ইলিশ খুঁজছিলেন তিনি। কিন্তু পাচ্ছেন না। যা আছে তাও আকারে ছোট। ৫-৬ শ গ্রামের বেশি নয়। দামের কথায় এসে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করলেন।

জানালেন, ‘দোকানি এই সাইজের ইলিশ মাছের দাম হাঁকছেন জোড়া সাড়ে তিন হাজার টাকা। তবে তিন হাজার টাকা হলে বিক্রি করবে এমনটাই মনে হয়। সে হিসেবে ওজনের দিক থেকে দেখলে মাঝারি সাইজের এক কেজি ইলিশের দাম দাঁড়ায় আড়াই হাজার টাকা!’ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমত বাজারে ইলিশের চাহিদা থাকলেও সেই তুলনায় সরবরাহ নেই।’

রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মাছের বাজারেও কমবেশি একই অবস্থা।

খিলগাঁও বাজারের মাছ বিক্রেতা সালাউদ্দিন জানান, ‘এখন ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ। ফলে আমদানিও কম। কিন্তু পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বৈশাখ যত কাছে আসে ইলিশের দামও তত বাড়তে থাকে। ফলে দাম বেড়ে যায় বলে অনেকে আগেই ইলিশ মাছ কিনে রাখছি।’

এদিকে চাহিদার তুলনায় যোগান কম হওয়ায় জেলে এবং আড়তদাররা বেশি দামে ইলিশ ছাড়ছেন। তাই তাদেরকেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

Post a Comment

বাংলাদেশ

[National][fbig1]

ঢাকা উত্তর

[Dhaka North][slider2]

ঢাকা দক্ষিন

[Dhaka South][slider2]

আন্তর্জাতিক

[International_News][gallery2]

ঢাকা উপজেলা

[Dhaka Upazila][fbig2 animated]

রাজনীতি

[political_news][carousel2]

অপরাধ

[Crime][slider2]
Powered by Blogger.